Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

মানবিকতার নীরব সংকট

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
4 বার প্রদর্শিত
করেছেন (22,580 পয়েন্ট)   20 ঘন্টা পূর্বে "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

মানবিকতার নীরব সংকটimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন 

বিশ্লেষণধর্মী সামাজিক প্রবন্ধ

১৩ জুলাই, ২০২৬


একটা সময় ছিল, যখন রাস্তায় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে মানুষ ছুটে যেত। কে আপন, কে পর—এসব ভাবার ফুরসত থাকত না। কেউ পানি নিয়ে আসত, কেউ রিকশা থামাত, কেউ আবার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব নিত। এমন মানুষ এখনো আছে, কিন্তু আগের মতো সহজে চোখে পড়ে না।


এখন প্রায়ই উল্টো চিত্র দেখি। একজন মানুষ রক্তাক্ত হয়ে পড়ে আছে, আর তাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে ভিড়। সাহায্যের হাত কম, মোবাইলের পর্দা বেশি। কেউ ভিডিও করছে, কেউ লাইভে যাচ্ছে, কেউ হিসেব কষছে—এই দৃশ্যটা কতজন দেখবে, কতটা ভাইরাল হবে।


এমন দৃশ্য দেখে মনের ভেতর একটাই প্রশ্ন বাজে—আমরা কি সত্যিই আগের চেয়ে কম মানবিক হয়ে গেছি?


প্রযুক্তিকে দায়ী করা সহজ। কিন্তু প্রযুক্তির তো নিজের ইচ্ছা নেই। একই মোবাইল দিয়ে একজন অ্যাম্বুলেন্স ডাকেন, আরেকজন সেই মোবাইলেই আহত মানুষের কাতরানি ধারণ করেন। দোষ তাই যন্ত্রের নয়, দোষ আমাদের ব্যবহারের।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের হাতের মুঠোয় দুনিয়া এনে দিয়েছে। দূরের খবর মুহূর্তে পৌঁছে যায়, অন্যায়ের প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে ঝড়ের বেগে, অসহায় মানুষও সাহায্য পায়। কিন্তু এর আরেকটা মুখ আছে। এখন সবকিছুর আগেই মাথায় আসে—এটা পোস্ট করলে কেমন হবে? কতজন দেখবে? কতটা সাড়া পড়বে?


এই হিসাবটা নিঃশব্দে আমাদের বদলে দিচ্ছে। কখন যে একজন রক্তাক্ত মানুষ ‘মানুষ’ থেকে ‘কনটেন্ট’ হয়ে যায়, আমরা নিজেরাও টের পাই না।


আরেকটা কারণও আছে। রোজ চোখ খুললেই মোবাইলের পর্দায় দুর্ঘটনা, মৃত্যু, মারামারি, কান্নার ভিডিও। প্রথম দিকে বুক কেঁপে উঠত। এখন অনেকেরই গা-সওয়া হয়ে গেছে। বারবার একই দৃশ্য দেখতে দেখতে আমরা কষ্টের সঙ্গেও অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি। বাস্তবের রক্তও কখনো কখনো মনে হয় স্ক্রিনের আরেকটা দৃশ্য মাত্র।


তবে সব দায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নয়। আমাদের পরিবার, শিক্ষা আর মূল্যবোধেও বদল এসেছে। আমরা সন্তানকে ভালো রেজাল্ট করতে শেখাই, বড় চাকরির স্বপ্ন দেখাই, সফল হতে বলি। কিন্তু মানুষ হতে শেখাই কতটুকু? বিপদে পাশে দাঁড়ানো, অন্যের ব্যথা বোঝা, নিজের গণ্ডির বাইরে গিয়ে হাত বাড়ানো—এসব নিয়ে কি আগের মতো কথা বলি? 


হয়তো বলি না।


আরেকটা কঠিন সত্যও আছে। বেশিরভাগ মানুষ এখন নিজের জীবন নিয়েই ক্লান্ত। সংসারের চাপ, টাকার টানাটানি, ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা—এসব মানুষকে ভেতরে ভেতরে গুটিয়ে দিচ্ছে। তাই অন্যের কষ্ট দেখেও অনেকে এগিয়ে আসতে পারে না। এটা ঠিক নয়, কিন্তু এটাই ঘটছে।


তবু আশার আলো নেভেনি। এখনো এমন মানুষ আছেন, যারা নীরবে অন্যের পাশে দাঁড়ান। বন্যা, আগুন, সড়ক দুর্ঘটনা—যে কোনো বিপদে তাদের দেখা মেলে। তারা ক্যামেরার সামনে আসতে চান না। তাদের কাছে সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো একজন মানুষকে বাঁচানো। তারা আছেন বলেই এখনো মানুষের ওপর থেকে বিশ্বাস পুরোপুরি উঠে যায়নি।


তাই প্রশ্নটা অন্যকে করার আগে নিজেকেই করা দরকার। আমি যদি কোনো দুর্ঘটনার মুখে পড়ি, প্রথমে কী করব? মোবাইল বের করব, নাকি সাহায্যের জন্য হাত বাড়াব?


আমরা সমাজ বদলের কথা বলি। কিন্তু সমাজ তো আলাদা কিছু নয়। আমি, আপনি, আমাদের ঘর, আমাদের আচরণ—এসব মিলেই সমাজ। পরিবর্তন তাই শুরু করতে হবে নিজেকে দিয়ে।


শিশুরা আমাদের কথা যতটা না শোনে, তার চেয়ে বেশি দেখে। তারা দেখে আমরা কী করি। যদি দেখে বিপদের সময় আমরা ভিডিও করছি, সেটাই তাদের কাছে স্বাভাবিক হয়ে যাবে। আর যদি দেখে অচেনা মানুষের জন্যও আমরা থেমে যাই, সেটাই তারা শিখবে।


মানবিকতা ফেরাতে বড় মিছিলের দরকার নেই। দরকার ছোট ছোট সিদ্ধান্ত। বিপদে কাউকে তুলে ধরা, জরুরি নম্বরে ফোন করা, আহত মানুষের যন্ত্রণাকে কনটেন্ট না বানানো—এই কাজগুলো ছোট মনে হলেও একটা সমাজের চেহারা বদলে দিতে পারে।


দিন শেষে মানুষ মনে রাখে না কে সবচেয়ে ভালো ভিডিও করেছিল। মানুষ মনে রাখে, দুঃসময়ে কে পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল। একটা ভাইরাল ভিডিওর আয়ু বড়জোর কয়েক দিন। কিন্তু সময়মতো বাড়িয়ে দেওয়া একটা হাত একজন মানুষের পুরো জীবন বদলে দিতে পারে।


মানবিকতার এই সংকট একদিনে তৈরি হয়নি। একদিনে মিটবেও না। কিন্তু শুরুটা আজই করা যায়। অন্তত এই প্রতিজ্ঞাটুকু তো করা যায়—বিপদে প্রথমে ক্যামেরা নয়, আগে মানুষ। কারণ শেষ পর্যন্ত আমাদের পরিচয় মোবাইলের ব্র্যান্ড দিয়ে নয়, মানুষের প্রতি আমাদের আচরণ দিয়েই তৈরি হয়।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 9 মাস 2 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1118 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 22580। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4233
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
ফেসবুক কবিতা ও সাহিত্য সংকট মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী । এপ্রিল ২৭, ২০২৬ [...] বিস্তারিত পড়ুন...
450 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সাহিত্যে বাস্তবতা সংকট মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী। এপ্রিল ২৫, ২০২৬ (“সা&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
79 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

শব্দের ভিড়ে অনুভূতির সংকট মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  প্রবন্ধ। এপ্রিল ২২, ২০২৬ এই প্রবন্ধে সমকালীন বাংলা সাহিত্যে অনুভূতির গভীরতা এবং তার প্রকাশভঙ্গির পরিবর্তন অনুসন্ধান করা হয়েছে। ডিজিটাল ম[...] বিস্তারিত পড়ুন...
113 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বাংলা সাহিত্যে আত্মপরিচয়ের সংকট মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন নিবন্ধ। এপ্রিল ০৫, ২০২৬ “আ&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
436 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

কিশোরদের মানসিক সংকট আমরা কেন দেখতে পাই না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী | ৭ মার্চ ২০২৬ রাহি আমার পাশের বাড়ির ছেলে। বয়স সতেরো। গত বছর এই সময়টায় আমাদের গলির ক্রিকেট দলের অধিনায়ক �[...] বিস্তারিত পড়ুন...
433 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1111 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    55 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    43 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  3. Adiba jannat

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  4. রাতিন আহমেদ

    1 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...