Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

যে শিকড় ছিঁড়ে গেলেও রক্ত পড়ে

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
83 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,767 পয়েন্ট)   06 ডিসেম্বর 2025 "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

যে শিকড় ছিঁড়ে গেলেও রক্ত পড়েimage

মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন  

স্মৃতি-বিশ্লেষণ | ০৭ ডিসেম্বর, ২০২৫


গত সপ্তাহে গ্রামে গিয়েছিলাম। বাড়ির দাওয়ায় দাঁড়িয়ে হঠাৎ বুকটা কেঁপে উঠল। যে দাওয়ায় একসময় বসে আমরা মুরুব্বিদের গল্প শুনতাম, আজ সেখানে শুধু ধুলো আর নির্জনতা।


মাটির গন্ধটা এখনো আছে। হাওয়াটাও একই রকম বয়ে যায়।কিন্তু মানুষগুলো নেই।


আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম আর মনে হচ্ছিল,আমি যেন একটা জাদুঘরে এসেছি।  


যেখানে আমার শৈশবের প্রতিটা জিনিস প্রদর্শনীতে রাখা—কিন্তু যারা সেগুলো নিয়ে খেলত, তারা আর নেই।


বিলটা এখনো আছে, কিন্তু পানি নেই।  

যে বিলে আমরা দুপুরবেলা সাঁতার কেটে মাছ ধরতাম, আজ সেখানে ধানের চারা।  


আমাদের চিৎকার আর হাসি যেখানে মিশে যেত আকাশের সঙ্গে, সেখানে এখন শুধু বাতাসের শব্দ।


মক্তবের ঘরটা ভেঙে ফেলেছে।  

যে ঘরে আমরা বসে কোরআন পড়তাম আর শিক্ষকের ডান্ডার ভয়ে কাঁপতাম,সেখানে এখন একটা দোকান।  


আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম আর মনে হচ্ছিল,আমার শৈশবের একটা অংশ কেউ চুরি করে নিয়েছে।


আমাদের বাড়িতে একসময় লোকারণ্য থাকত।  

আত্মীয়-স্বজন আসত। দূরের মামা, খালু, চাচা।  

আজ বাড়িতে মাত্র দুজন মানুষ।  

আর আমি।  

আমরা তিনজন মিলে কথা বলছিলাম না।  

চুপ করে বসে ছিলাম।  

কারণ কথা বলার মতো কিছু আর বাকি নেই।


আমি বুঝতে পারছিলাম,আমি যে গ্রামের ছেলে ছিলাম,সেই গ্রামটা আর নেই।  

আমি বেঁচে আছি, কিন্তু আমার শৈশব মরে গেছে।


আমরা যখন ছোট ছিলাম,ভাবতাম বড় হওয়ার জন্য মরে যাচ্ছি।  


ঢাকায় যাব। চাকরি করব। টাকা কামাব।  

মোবাইল কিনব। মোটরসাইকেল কিনব।  

আজ সবই আছে।  

কিন্তু সেই হাসিটা নেই।  

যে হাসিতে আমরা লুটিয়ে পড়তাম মাটিতে।  

যে হাসির জন্য কোনো কারণ লাগত না।


আজ হাসি আসে, কিন্তু পেট থেকে আসে না।  

আজ হাসি আসে ফেসবুকে লাইক পেলে।  

আর সেই হাসি দুই মিনিট পরেই মুছে যায়।


আমি যখন গ্রাম থেকে ফিরছিলাম,বাসের জানালা দিয়ে দেখছিলাম সূর্যটা ডুবে যাচ্ছে।  

আর মনে হচ্ছিল আমার শৈশবও এভাবেই ডুবে গেছে।  


কেউ কিছু বলেনি।  

কেউ কাঁদেনি।  

শুধু চুপচাপ চলে গেছে।


আমরা সবাই শিকড় ছিঁড়ে শহরে এসেছি।  

কিন্তু শিকড় ছিঁড়লে যে রক্ত পড়ে সেটা কেউ দেখে না।  


আমরা হাসি। কাজ করি। বিয়ে করি। বাচ্চা নিই।  

কিন্তু রাতে যখন একা শুয়ে থাকি,  

তখন বুকের ভিতরে একটা শূন্যতা চিৎকার করে।  

“তুই কোথায় গেলি?”


আমি জানি, আর ফিরে যাওয়া যাবে না।  

সেই গ্রাম আর নেই।  

সেই বন্ধুরা আর নেই।  

সেই হাসি আর নেই।


কিন্তু আমি এটাও জানি যে শিকড় ছিঁড়ে গেছে,  

সেই শিকড়ের ব্যথা কখনো যায় না।  

সে ব্যথা আমাকে মানুষ করেছে।  

সে ব্যথা আমাকে মনে করিয়ে দেয়,  

আমি কোথা থেকে এসেছি।  

আর আমি যেন কখনো ভুলে না যাই,  

আমি একদিন মাটির ছেলে ছিলাম।


তাই আজ থেকে প্রতিজ্ঞা করি,যতদিন বেঁচে থাকব,  

মাঝে মাঝে গ্রামে যাব।  

মাটিতে হাঁটব, বাতাসে শ্বাস নেব।  

আর বলব,  

“আমি তোমাকে ভুলিনি।  

তোমার ছেলে এখনো বেঁচে আছে।”


কারণ শিকড় মরে গেলেও তার স্মৃতি মরে না।  

আর সেই স্মৃতিই আমাকে বাঁচিয়ে রাখে।


#যে_শিকড়_ছিঁড়ে_গেলেও_রক্ত_পড়ে  

#গ্রামের_শৈশব #হারানো_স্মৃতি  

#মাটির_গন্ধ #শহরের_শূন্যতা  

#আমি_এখনো_তোমার_ছেলে

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1374 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27767। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
"নিজস্ব আইডিয়া"
Enolej ID(eID): 1809
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
যদি কখনো কেউ পড়ে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন গদ্যকবিত। ০৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ একদিন আমার বই[...] বিস্তারিত পড়ুন...
539 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
যে মানুষটি টাকা ধার চায় না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণমূলক লেখা | ৩০ সেপ্টেম্বর ২[...] বিস্তারিত পড়ুন...
32 বার প্রদর্শিত 1 প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
যে ক্লান্তি দেখা যায় না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণমূলক লেখা | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২[...] বিস্তারিত পড়ুন...
32 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
যে শৃঙ্খলা মানুষ বানায় না মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন   বিশ্লেষণধর্নী |  ডিসেম্বর ২১, ২০[...] বিস্তারিত পড়ুন...
489 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
যে ঋণ অঙ্কে মাপা যায় না মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন   বিশ্লেষণধর্মী | ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ &[...] বিস্তারিত পড়ুন...
832 বার প্রদর্শিত 1 প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    163 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    3 মন্তব্য

    8 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    82 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. ফাহিম আহমাদ

    61 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    41 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...