Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

মানুষ দেখে হাসি, আল্লাহ দেখেন কান্না

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
480 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,767 পয়েন্ট)   29 নভেম্বর 2025 "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

কখনো কখনো মনে হয় — এই পৃথিবীতে সবাই আমাকে হাসিখুশি মানুষ হিসেবে চেনে…

কিন্তু যে জায়গায় আমি সবচেয়ে বেশি কাঁদি, সেই জায়গাটা কেউ জানেই না—শুধু আল্লাহ ছাড়া।


মানুষ দেখে হাসি, আল্লাহ দেখেন কান্নাimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন 

বিশ্লেষণধর্মী। ৩০ নভেম্বর ২০২৫


আমার নাম অভিক। আমি শুধু একজন সাধারণ ছেলে। বয়স ৫০ এর কোঠায়। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় আমি সবসময় হাসিখুশি, কথা বলি অনর্গল, কারো বিপদে পড়লে আগে ছুটি। কিন্তু রাত বারোটা বাজলেই আমার মুখোশটা খসে পড়ে।


আমি ছোটবেলা থেকেই এমন। বাড়িতে বাবা-মা ঝগড়া করলে আমিই মাঝখানে দাঁড়িয়ে হাসিয়ে দিতাম। বন্ধুরা মন খারাপ করলে আমি গল্প করে ভোলাতাম। কলেজে এক বন্ধু একবার বলেছিল, “তুই যেন কখনো কষ্টই পাস না।” আমি হেসে বলেছিলাম, “অভিকের কষ্ট হলে কে সবাইকে সামলাবে রে?” সেদিন থেকে যেন একটা দায়িত্ব হয়ে গেল। আমাকে সবসময় ঠিক থাকতে হবে।


কিন্তু আমিও তো মানুষ। আমারও বুকের ভিতরে একটা জায়গা আছে, যেটা কেউ দেখে না।


গত পাঁচ-ছয় বছরে অনেক কিছু হয়েছে। চাকরি গেছে। প্রেম ভেঙেছে। বাবা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ছিলেন দু’মাস। সেই সময় আমি অফিসে গিয়ে হাসতাম, বন্ধুদের সঙ্গে মিষ্টি করে কথা বলতাম, বাসায় ফিরে মায়ের সামনে বলতাম, “বাবা ঠিক হয়ে যাবে।” কিন্তু রাতে যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়ত, আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে সিগারেট খেতাম আর চুপচাপ কাঁদতাম। কখনো বাথরুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে ট্যাপ খুলে দিতাম, যাতে কান্নার শব্দ কেউ না শোনে।


একদিন একটা বড় ঘটনা ঘটেছিল। আমি এক বন্ধুর জন্য অনেক কিছু করেছিলাম। টাকা ধার দিয়েছিলাম, চাকরি খুঁজে দিয়েছিলাম, তার বৌয়ের অসুখের সময় রাত জেগে হাসপাতালে ছিলাম। সে ঠিক হওয়ার পর একদিন দেখি সে আমাকে এড়িয়ে চলছে। আমি মেসেজ করলে রিপ্লাই করে না। একদিন জিজ্ঞেস করলাম, “কী হয়েছে ভাই?” সে বলল, “কিছু না, ব্যস্ত আছি।” আমি বুঝে গেলাম। সে আর আমাকে দরকার মনে করে না। সেদিন বাসায় ফিরে আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছিল। আমি কাউকে কিছু বলিনি। শুধু রাতে বিছানায় শুয়ে চাদর মুখে চেপে কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।


সেই রাতেই প্রথম বারের মতো আমি সেজদায় গিয়ে অনেকক্ষণ কাঁদলাম। কোনো কথা বলিনি। শুধু বলেছিলাম, “আল্লাহ, আমি আর পারছি না।” মনে আছে, সেদিন কান্না থামছিল না। কিন্তু অদ্ভুত একটা শান্তি এসেছিল। মনে হলো, যে কষ্টটা আমি কাউকে বলতে পারি না, সেটা তিনি শুনে নিচ্ছেন।


তারপর থেকে আমার অভ্যাস হয়ে গেছে। যখনই কষ্ট হয়, কাউকে বলি না। শুধু তাঁর কাছে যাই। রাতে উঠে তাহাজ্জুদ পড়ি। কখনো কথা বলি, কখনো শুধু কাঁদি। আমার জানালার পাশে একটা জায়গা আছে, সেখানে বসে কান্না করি। কখনো বৃষ্টি পড়লে জানালা খুলে দিই, বৃষ্টির শব্দে আমার কান্না মিশে যায়।


আমি আর বদলাতে চাই না। মানুষ যতই বলুক, “অভিক বড্ড নরম। লোকে তোকে ছেলে বানিয়ে ছাড়বে।” আমি হাসি। বলি, “হোক।” কারণ আমি জানি, যারা আমাকে ব্যবহার করে, তাদের জন্য আমার কান্না নষ্ট করার দরকার নেই। আর যারা সত্যি ভালোবাসে, তারা কখনো ব্যবহার করে না।


আমার মা একবার বলেছিলেন, “বাবা, তুই এত হাসিস কেন? কখনো কষ্ট হলে আমাকে বলিস।” আমি হেসে বলেছিলাম, “মা, অভিকের কষ্ট হলে আমি আল্লাহকে বলি। তিনি তো আমার থেকেও বেশি ভালোবাসেন তোমাকে।” মা কিছু বলেননি। শুধু আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়েছিলেন।


আমি এখনো সবাইকে সাহায্য করি। এখনো হাসি। কিন্তু এখন আর ভয় হয় না। কারণ আমি জানি, আমি যতক্ষণ একা একা কষ্ট সহ্য করছি, ততক্ষণ আমি আসলে একা নই। তিনি আছেন। আমার প্রতিটা চোখের পানি তিনি গুনে রাখেন।


তোমাদের মধ্যে যদি কেউ এমন থাকে, যে সবার সামনে হাসে, কিন্তু রাতে একা কাঁদে, জেনো, তুমি একা নই। তোমার কান্নাটা কেউ না দেখুক, তিনি দেখেন। আর তিনি কখনো ভুলে যান না।


আমি শুধু এটুকু বলতে চাই,  

যে রাতগুলো আমরা একা কাঁদি, সে রাতগুলোই আমাদের সবচেয়ে দামি।  

কারণ সেখানে আমরা সত্যি সত্যি নিজেরা হয়ে যাই।  

আর সেখানে তিনি আমাদের কাছে আসেন।


আমি এখনো কাঁদি।  

কিন্তু এখন আর ভয় লাগে না।  

কারণ আমি জানি, আমার কান্নার প্রতিটি ফোঁটা তাঁর কাছে জমা আছে।  

একদিন সেগুলোই আমার জন্য রহমত হয়ে ফিরে আসবে।


#হৃদয়েরকথা #নিজেরমানুষ

#রাতেরকান্না #আল্লাহজানেন #জীবনেরসত্য

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1374 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27767। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
"নিজস্ব আইডিয়া"
Enolej ID(eID): 1633
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
মধ্যবিত্তের নিঃশব্দ কান্না: টিকে থাকার লড়াইয়ে হারিয়ে যাওয়া মানুষ  মোহাম্মদ জাহিদ [...] বিস্তারিত পড়ুন...
259 বার প্রদর্শিত 1 প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
চুপচাপ তরুণ কেউ দেখে না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  বিশ্লেষণধর্মী। ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ “[...] বিস্তারিত পড়ুন...
547 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
কখনো কি মনে হয়েছে—সবাই তোমার পিছনে লেগে আছে, তোমার একটা ভুল দেখলেই হাসছে, আর তুমি দাঁ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
483 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ভেতরের ধস, বাইরের হাসি (হাই-ফাংশনিং ডিপ্রেশন ও শহুরে একাকীত্বের নীরব সংকট) মোহাম্মদ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
466 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অসহায়ের হাসি: থামব না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন লেখার ধরনঃ বিশ্লেষণধর্মী তারিখঃ ৯ নভেম[...] বিস্তারিত পড়ুন...
523 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    163 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    3 মন্তব্য

    8 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    82 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. ফাহিম আহমাদ

    61 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    41 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...