Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

নিজের থালাটা

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
2 বার প্রদর্শিত
করেছেন (28,479 পয়েন্ট)   2 ঘন্টা পূর্বে "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

নিজের থালাটাimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

বিশ্লেষণমূলক লেখা | ১৬ অক্টোবর ২০২৬


রাত তখন প্রায় সাড়ে এগারোটা। রান্নাঘরের চুলা অনেকক্ষণ আগেই নিভে গেছে। টেবিলের ওপর ভাত, ডাল আর মাছের ঝোল ঢাকা দেওয়া। রুবিনা বেগম নিজের জন্য আলাদা করে খাবার রাখেননি।


স্বামী এখনো ফেরেননি। ছেলে ফোন ধরছে না। মেয়েটা বিকেলে মায়ের সঙ্গে কথা কাটাকাটি করে দরজা বন্ধ করে বসে আছে।


দরজা খুলে স্বামী ঢুকতেই বললেন, ‘এত রাত হলো, খাওনি?’


রুবিনা উত্তর দেওয়ার আগেই তিনি বললেন, ‘তোমার সঙ্গে থাকলে কারও শান্তি আছে? ছেলে কথা শোনে না, মেয়ের সঙ্গে ঝামেলা, আমিও বাইরে থেকে এসে এসব দেখি।’


রুবিনা চুপ করে রইলেন।


এই সংসারে এমন কথা নতুন নয়।


পরদিন ছেলে পরীক্ষায় খারাপ করল। বাবার মুখ ভার। ‘মাকে দেখেই তো এসব শিখেছে।’


মেয়ে বন্ধুর সঙ্গে বাইরে গিয়ে দেরি করে ফিরল। ‘তুই ওকে বেশি প্রশ্রয় দিয়েছিস।’


কয়েক দিন পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে কথাটা আবার ফিরে এল, ‘তুমি সবকিছুতেই সমস্যা তৈরি করো।’


রুবিনা সবসময় চুপ থাকেন না। কোনো দিন রাগ করে দরজা বন্ধ করে বসে থাকেন, কোনো দিন ছেলের ওপর বিরক্ত হয়ে বেশি কথা বলে ফেলেন। পরে নিজেই আফসোস করেন।


কিন্তু সংসারে যা কিছুই ঘটুক, দায়টা শেষ পর্যন্ত তাঁর কাছেই ফিরে আসে।


আগে তিনি প্রতিবাদ করতেন। ‘সব দোষ আমার কেন?’


পরে আর করতেন না। কারণ তিনি বুঝে গিয়েছিলেন, কথাটা শেষ পর্যন্ত সেখানেই গিয়ে থামবে।


এমন পরিস্থিতিকে মনোবিজ্ঞানে অনেক সময় ‘স্কেপগোটিং’ বলা হয়। পরিবারের জটিল সমস্যা, ব্যর্থতা বা অস্বস্তির দায় বারবার একজনের ওপর চাপতে চাপতে একসময় সেই মানুষটিকেই সমস্যার মূল কারণ হিসেবে দেখা শুরু হয়।


বাংলাদেশি সংসারে এর চেহারা খুব পরিচিত।


কখনো পুত্রবধূ ‘সংসার ভাঙছে’। কখনো স্বামী ‘কিছু বোঝে না’। কোনো সন্তান ‘অবাধ্য’, কোনো ভাই ‘স্বার্থপর’। কাউকে একবার এমন একটি পরিচয়ে আটকে দিলে তার পরের আচরণও সেভাবেই দেখা হয়।


সে প্রতিবাদ করলে, ‘দেখেছো, কী মেজাজ!’

চুপ করলে, ‘আবার মুখ গোমড়া করে আছে।’

নিজের কথা বোঝাতে গেলে, ‘আবার সাফাই গাইছে।’

ভুল স্বীকার করলে, ‘এখন ভালো সাজছে।’


একসময় মানুষটির আচরণ নয়, তাঁকে নিয়ে তৈরি ধারণাটাই সত্য হয়ে দাঁড়ায়।


এর সঙ্গে ক্ষমতার ভারসাম্যের বিষয়টাও জড়িয়ে থাকে। যে মানুষটি অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল, পরিবারের সিদ্ধান্তে যার কথা কম শোনা হয়, কিংবা যার চলে যাওয়ার মতো সহজ কোনো জায়গা নেই, তাকে দায়ী করা সহজ।


রুবিনার সংসারেও আসল সমস্যাগুলো অন্য জায়গায় ছিল।


স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অনেক দিন ধরে ঠিকমতো কথা হয় না। স্বামী দিনের বেশির ভাগ সময় বাইরে থাকেন। ছেলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছে। মেয়েটা নিজের কথা মায়ের কাছে বলে, বাবার কাছে নয়। পুরোনো কিছু অভিমানও জমে আছে।


এসব নিয়ে কেউ বসেনি। সবাই শুধু ভেবেছে, রুবিনা একটু বদলালেই সংসার ঠিক হয়ে যাবে।


একজনকে দায়ী করে দিলে অন্যদের নিজেদের দিকে তাকাতে হয় না। স্বামীকে ভাবতে হয় না, স্ত্রীকে তিনি কতটা সময় দেন। মা-বাবাকে ভাবতে হয় না, সন্তান কেন তাদের কাছে নিজের কথা বলতে ভয় পায়।


একজন আছে।

দোষটা তার।

এটাই সবচেয়ে সহজ উত্তর।


কিন্তু বছরের পর বছর একই কথা শুনতে শুনতে মানুষ একসময় নিজের সিদ্ধান্ত নিয়েও সন্দেহ করতে শুরু করে। কিছু বলতে গিয়ে থেমে যায়। প্রতিবাদ করতে গিয়ে ভাবে, ‘আবার যদি বলে সব আমার দোষ?’


তারপর একদিন সত্যিই চুপ হয়ে যায়।


পরিবার তখন বলে, ‘মানুষটা কেমন বদলে গেছে।’


হয়তো বদলায়নি। হয়তো শুধু নিজের পক্ষে কথা বলার শক্তিটুকু আর নেই।


রুবিনা এখনো সবার জন্য খাবার বেড়ে দেন। ছেলে দেরি করে ফিরলে দরজা খুলে দেন। মেয়ের সঙ্গে অভিমান হলেও রাতে তার ঘরের দরজায় একবার দাঁড়ান।


শুধু নিজের থালাটা নিয়ে তিনি আর টেবিলে বসেন না।


রাত গভীর হলে বারান্দার এক কোণে বসে ধীরে ধীরে ভাত খান।


ঘরের ভেতর তখন সবাই যার যার মতো ব্যস্ত।


কেউ তাঁকে আর জিজ্ঞেস করে না, ‘তুমি কেমন আছ?’

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1409 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 28479। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4994
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
নিজের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করেছি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন জীবন ও জীবনবোধ | ১ সেপ্টেম্বর  ২[...] বিস্তারিত পড়ুন...
45 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

নিজের ভেতর নির্বাসন কখনো কখনো মানুষ কোথাও যায় না— তবু তার ভেতর থেকে একটা মানুষ হারিয়ে যায়। চেনা ঘর থাকে, চেনা মুখ থাকে, জানালায় একই রোদ এসে প্রতিদিন দরজায় কড়া নাড়ে— শুধু ভেতরের মান[...] বিস্তারিত পড়ুন...
23 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

সন্তান ছেলে হবে নাকি মেয়ে? আগেরকার সময়ে মানুষরা ছেলে সন্তান জন্ম দিতে চাইত আর এর জন্য তারা বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করত। প্রাচীন সময়ের থেকে বর্তমান সময় পযন্ত অনেক পদ্ধতি আবিষ্কার করা হয়েছে য�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
33 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
যে চিঠি কখনো পোস্ট হয়নি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছয় পর্বের ছোটগল্প ২৪ আগষ্ট, ২০২৬ প[...] বিস্তারিত পড়ুন...
49 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সিরিজের নামঃ- নিজের জীবনটাও ছিল গল্প ১০ -নিজের কাছে হেরে গেলাম মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন[...] বিস্তারিত পড়ুন...
107 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    875 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    7 মন্তব্য

    43 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    125 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. জামিনুল রেজা

    83 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    82 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

...