শৃঙ্খলার কাছে হার মানে সব অজুহাত
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
বিশ্লেষণধর্মী। ডিসেম্বট ১১,২০২৫
কিছু কথা আজ নিজের কাছেই স্বীকার করতে ইচ্ছে করছে।
হয়তো অনেকদিন বলিনি, হয়তো বলা থেকে পালিয়েছি। কিন্তু সত্যিটা এড়িয়ে গেলে জীবন বদলায় না।
আমি বুঝেছি—নিজেকে শৃঙ্খলিত না করতে পারলে আমার স্বপ্নগুলো শুধু কাগজে লেখা শব্দ হিসেবেই থেকে যাবে।
এটা বলা যত সহজ, মানা তত কঠিন।
তবু আজ মনে হচ্ছে কথা না বলে উপায় নেই।
স্বপ্ন দেখা সহজ, কিন্তু স্বপ্নের দিকে হাঁটা কঠিন
আমারও স্বপ্ন আছে—অনেক বড় বড়। মাঝরাতে চোখ খোলা রেখে যেগুলো আমাকে নাড়া দেয়।
কিন্তু বাস্তবতা বলছে—স্বপ্ন আমাকে ডাকলেও
আমিই এখনও নিজের অভ্যাসের কাছে বন্দি।
যখন কাজ করার সময় আসে, তখনই ভিতরের কণ্ঠটা বলে—
“আজ না, কাল…”
“আরেকটু পরে…”
“মনটাই তো ভালো নেই…”
আর আমি বুঝি, এই অজুহাতগুলোর নরম কণ্ঠই আসলে আমার সবচেয়ে বড় শত্রু। আমাকে পিছন থেকে টেনে ধরে রাখার শক্তি এদেরই সবচেয়ে বেশি।
নিজেকে প্রশ্ন করেছি—আমি কি আমার মনকে নিয়ন্ত্রণ করি,
নাকি মনই আমাকে চালায়?
একটা সময় বুঝলাম, আমি নিজেই নিজের পথে বাধা।
স্বপ্নের অভাব নেই, পরিকল্পনাও আছে—কিন্তু ধারাবাহিকতা নেই।
মন চাইলেই করি, মন না চাইলে ফেলে রাখি।
কিন্তু জীবন তো শুধু মুডের ওপর চলে না।
শৃঙ্খলা মানে মুড না থাকা সত্ত্বেও করার শক্তি।
মন ক্লান্ত হলেও এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা।
এই শক্তিটাই এতদিন আমার ছিল না। আর সেই অভাবই আমাকে ঠেকিয়ে রেখেছে ঠিক সেই জায়গায়, যেখানে আমি আর থাকতে চাই না।
আত্মনিয়ন্ত্রণ—শব্দটা ছোট, কিন্তু এর গভীরতা ভয়ংকর।
আমি শিখেছি— আত্মনিয়ন্ত্রণ না থাকলে…ছোট ছোট কাজ জমে পাহাড় হয়। সেই পাহাড়ের নিচে চাপা পড়ে আত্মবিশ্বাস। আর আত্মবিশ্বাস ভেঙে গেলে স্বপ্নের রঙ মুছে যায়।
কেউ বুঝতেও পারে না কখন ইচ্ছে শক্তির অভাবটা স্বপ্নকে ধীরে ধীরে মেরে ফেলে।
কোনো আওয়াজ হয় না।
শুধু ভিতরে ভিতরে ক্ষয় হয়।
ধীরে ধীরে।
একটা সিদ্ধান্ত সব বদলে দেয়
একদিন রাতে বসে বুঝলাম—জীবন আর এভাবে চলতে পারে না। নিজেকে যদি সত্যিই বদলাতে চাই,
তাহলে নিয়মকে শত্রু নয়, বন্ধু বানাতে হবে।
শুরু করেছি ছোট ছোট জিনিস দিয়ে—একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠা, প্রতিদিন ৩০ মিনিট কিছু শেখা,
নিজেকে দেওয়া কথা না ভাঙা, অজুহাত ধরতে পারলেই নিজেকে থামানো।
হ্যাঁ, কঠিন ছিল। কখনও ব্যথা লেগেছে, কখনও ক্লান্তি এসেছে। কিন্তু ধীরে ধীরে এই ব্যথাই শক্তিতে বদলেছে। নিজের ওপর নিজেরই বিশ্বাস ফিরেছে।
শৃঙ্খলা আসলে এক ধরনের স্বাধীনতা—আমি এটা আগে বুঝিনি, আগে ভাবতাম, নিয়ম মানা মানেই কঠিন জীবন।
এখন বুঝি, নিয়মই জীবনকে সহজ করে।
আগে যেটা করতে ঘন্টার পর ঘণ্টা ভাবতাম,
এখন সেটা করি সিদ্ধান্তের মতো।
এটাই শৃঙ্খলার উপহার—
দ্বিধা কমে যায়,
অজুহাত হারিয়ে যায়,
নিজের ওপর বিশ্বাস বাড়ে।
আর যখন নিজের ওপর বিশ্বাস জন্মায়, তখন পথ যত কঠিনই হোক, হাঁটতে ভয় লাগে না।
আজ একটা কথাই পরিষ্কার বুঝি—স্বপ্ন কাউকে অপেক্ষা করে না
চাইলেই জীবন বদলায় না।
ইচ্ছে শক্তি থাকলেই হয় না।
আবেগ থাকলেই যথেষ্ট না।
স্বপ্নের দরজা কেবল তাদের জন্যই খোলে যারা নিজের দুর্বলতার সঙ্গে লড়তে শেখে। যারা জানে, প্রতিদিন ছোট ছোট জয়ই বড় জয়ের পথ তৈরি করে।
নিজেকে শৃঙ্খলিত করতে পারলেই স্বপ্ন দূরের কিছু থাকে না—তা ধীরে ধীরে বাস্তবে রূপ নেয়।
শেষ কথা—আজ যা লিখলাম, সেটা অন্য কাউকে নয়, নিজেকেই বলছি
নিজেকে শৃঙ্খলিত করো।
নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করো।
নিজের কথাই প্রথমে রাখো।
কারণ আত্মনিয়ন্ত্রণ ছাড়া স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই থেকে যায়—আর শৃঙ্খলার ওপর দাঁড়ানো স্বপ্নই জীবনকে পাল্টে দিতে পারে।
আমি শুরু করেছি।
তুমিও পারবে।
#নিজেকে_শৃঙ্খলিত_করো
#স্বপ্ন_বাস্তব_হোক
#নিজেকে_জয়_করো
#শৃঙ্খলাই_শক্তি
#অজুহাতকে_হারাও
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।