Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

বাবার কাঁধেই লুকিয়ে থাকে সন্তানের পৃথিবী

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
269 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,726 পয়েন্ট)   26 জানুয়ারি "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

বাবার কাঁধেই লুকিয়ে থাকে সন্তানের পৃথিবী 

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  

বিশ্লেষণধর্মী | জানুয়ারি ২৬, ২০২৬


ছোটবেলায় পৃথিবীটা ছিল খুব উঁচু। দরজার হাতল, জানালার পাল্লা, বাসের ধাপ—সবই ছিল আমার উচ্চতার বাইরে। তখন বাবার কাঁধে বসলে পৃথিবীটা হঠাৎ সমান হয়ে যেত। রাস্তার ভিড়, মানুষের মুখ, দোকানের আলো—সবকিছু চোখের সমতলে চলে আসত। আজ বুঝি, ওটা শুধু উচ্চতা না, ওটা ছিল এক ধরনের নিরাপত্তা। পৃথিবীকে দেখার সাহস।


শিশুরা ভাষা শেখার আগেই নিরাপত্তা শেখে। কে ধরে রাখবে, কে ফেলে দেবে না—এই বোধটাই তাদের প্রথম দর্শন। অনেক ঘরে এই দর্শনের নাম বাবা। যিনি খুব আদর করে কথা বলেন না, কিন্তু যাঁর উপস্থিতিতে ঘরের শব্দগুলোও আলাদা হয়ে যায়। দরজা খোলার আওয়াজ, জুতোর শব্দ, কণ্ঠের ভার—এসবের মধ্যেই শিশুরা বুঝে নেয়, কেউ এসেছে যিনি আজকের রাতটা আগলে রাখবেন।


বাবারা সাধারণত গল্পের মানুষ নন। তারা ঘটনার মানুষ। সকালে বের হন, রাতে ফেরেন। মাঝখানে জীবনটা চালিয়ে আনেন। তাদের ভালোবাসা খুব কমই ঘোষণা হয়। সেটা দেখা যায় ফ্যান ঠিক করে দেওয়ায়, স্কুলের ফি সময়মতো পৌঁছে দেওয়ায়, গভীর রাতে জ্বরের ওষুধ আনতে বের হওয়ায়। এই কাজগুলোকে আমরা অভ্যাস বলি। কিন্তু শিশুর ভেতরে এগুলো মানচিত্র হয়ে বসে যায়—এই পৃথিবীতে আমার জন্য কেউ দায়িত্ব নেয়।


ভয়ের সময় মানুষ শব্দ খোঁজে না, মানুষ খোঁজে। অনেক সন্তান তাই কথা না বলেই বাবার পাশে বসে পড়ে। পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ, বাইরের অপমান, প্রথম বড় ভুল—এসব মুহূর্তে অনেকেই বাবার দিকে তাকায়, কিছু বলার জন্য না, ভেঙে পড়তে পারার জন্য। বাবারা সব সময় সমাধান দেন না। অনেক সময় তারা শুধু পাশে থাকেন। কিন্তু এই পাশে থাকাটাই সন্তানের ভেতরের উত্তাল জায়গাগুলোকে একটু থামায়।


বাবার কাঁধ মানে শুধু শক্ত কিছু না, বাবার কাঁধ মানে স্থির কিছু। একজন মানুষ যিনি নিজের ভয়গুলোকে পিছনে রেখে দাঁড়িয়ে থাকেন, যেন সন্তানের ভয়গুলো সামনে আসতে পারে। এই স্থিরতাই সন্তানের ভেতরে এক ধরনের ভাষা তৈরি করে। বড় হয়ে যে ভাষা বলে, “আমি পুরো ভেঙে যাইনি। আমি এখনো দাঁড়াতে পারি।”


আমাদের সমাজে বাবারা আবেগের প্রশিক্ষণ পান না। তারা জানেন দায়িত্ব, আয়, সিদ্ধান্ত। অনুভূতির কথা এলে তারা অপ্রস্তুত। অনেক বাবা সন্তানের কাঁধে হাত রাখতে জানেন না, কিন্তু সন্তানের জন্য নিজের কাঁধ ব্যবহার করতে জানেন। আমরা পরে বুঝি, তাদের এই কাঁচা প্রকাশই ছিল তাদের সম্পূর্ণ ভাষা।


শৈশবে বাবার ভূমিকা সবচেয়ে গভীর হয় ছোট ছোট মুহূর্তে। স্কুলে নামিয়ে দিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা। রাস্তায় পার করানোর সময় হাত শক্ত করে ধরা। পড়তে বসে ঘুমিয়ে পড়া সন্তানের বইটা গুছিয়ে দেওয়া। এগুলো কোনো নাটকীয় দৃশ্য না। কিন্তু এই নীরব দৃশ্যগুলোই সন্তানের ভেতরে একটা মৌলিক বিশ্বাস তৈরি করে—আমি গুরুত্বহীন না।


অনেক বাবা মনে করেন, কঠোর না হলে সন্তান মানুষ হবে না। কিন্তু সন্তান মানুষ হয় দেখে। দেখে, তার বাবা ভুল করলে কী করেন। ক্লান্ত হলে কী করেন। অন্যের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করেন। এই দেখার মধ্য দিয়েই সন্তান শেখে, শক্ত হওয়া মানে অনুভূতিহীন হওয়া না, শক্ত হওয়া মানে ভেঙেও নিজের দায়িত্বে থাকা।


বাবা-সন্তানের সম্পর্ক গভীর হয় তখন, যখন বাবা উপদেশের জায়গা থেকে একটু নেমে আসেন। যখন তিনি শোনেন, থামান না। যখন তিনি ভুলকে চরিত্রের প্রমাণ বানান না। সন্তান তখন বাবার কাঁধকে শুধু আশ্রয় না, কথা বলার জায়গা হিসেবেও চিনতে শেখে।


সময় এখানে বড় মুদ্রা। বড় আয়োজন নয়, বড় ঘোষণা নয়। কিছু মনোযোগী সময়। ফোন নামিয়ে রাখা। প্রশ্ন করা, কিন্তু জেরা না করা। সন্তানের জগতটাকে ছোট করে না দেখা। এই সময়গুলোই বাবার কাঁধকে ভবিষ্যতের জন্য শক্ত করে।


বয়স বাড়লে কাঁধে মাথা রাখা কমে যায়। শরীরী দূরত্ব বাড়ে। আমরা নিজেরাই কাঁধ হতে শিখি। কিন্তু ভেতরের পৃথিবীতে বাবার কাঁধটা থেকে যায়। সিদ্ধান্তের আগে, ভাঙনের মুহূর্তে, অনেকেই আজও ভাবে, “বাবা হলে কী বলতেন?” এই প্রশ্নটাই প্রমাণ, সেই কাঁধ এখনো কাজ করছে।


পৃথিবী বদলায়। বাবার চুল পাকে। হাঁটার গতি কমে। কাঁধ হয়তো আর আগের মতো উঁচু না। কিন্তু সন্তানের ভেতরের পৃথিবীতে সেই কাঁধের অবস্থান বদলায় না। কারণ কোনো এক সময়, ওই কাঁধেই দাঁড়িয়ে আমরা প্রথম পৃথিবীটাকে চোখে চোখ রেখে দেখেছিলাম।


সত্যিই—বাবার কাঁধেই লুকিয়ে থাকে সন্তানের পৃথিবী।  

শৈশবে সেটা ছিল উচ্চতা, যেখান থেকে দুনিয়া ছোট লাগত।  

যৌবনে সেটা হয়ে ওঠে স্মৃতির আশ্রয়, যেখানে ফিরে এলে মন শান্ত হয়।  

আর জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তে, সেটা হয়ে দাঁড়ায় ভেতরের এক অটল স্তম্ভ—যার উপর দাঁড়িয়ে আমরা আবার নিজেকে সোজা করে তুলি, নিজের পায়ে ভর দিয়ে হাঁটতে শিখি।


#বাবার_কাঁধেই_লুকিয়ে_থাকে_সন্তানের_পৃথিবী  

#বাবার_ভালোবাসা  

#বাবা_সন্তান  

#নীরব_ভালোবাসা  

#বাংলালেখাimage

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1372 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27726। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3197
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
বাবার চোখে পরিবার ও সন্তানের ভবিষ্যৎ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী | ফেব্রু[...] বিস্তারিত পড়ুন...
468 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
পৃথিবী একবার কেঁপে উঠলে—শান্তি আর আগের মতো থাকে না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   বিশ্লে[...] বিস্তারিত পড়ুন...
488 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
যে দরজাগুলো সন্তানের নিজেরই খুলতে হয় মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী। ৭ সেপ্[...] বিস্তারিত পড়ুন...
32 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
প্রত্যাশার সীমা: বাবা-মায়ের আর সন্তানের চোখে মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্[...] বিস্তারিত পড়ুন...
481 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
মানবজীবনের প্রতিটি পর্যায়ের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। তবে কৈশোর বা টিনএজ (১৩–১৯ বছর) হল&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
260 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    122 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    3 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. ফাহিম আহমাদ

    61 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    61 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    41 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...