Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

পথের পাঁচালী আমরা গল্প পড়ি কিন্তু পাঠ শিখি না

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
429 বার প্রদর্শিত
করেছেন (25,290 পয়েন্ট)   29 মার্চ "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

পথের পাঁচালী আমরা গল্প পড়ি কিন্তু পাঠ শিখি নাimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন 

বিশ্লেষণধর্মী। মার্চ ২৯,২০২৬


বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষ করার পর মনে হয়, আমরা একটি গল্প জানলাম। এই জানার ভেতরেই কোথাও পাঠটি থেমে যায়। কারণ বইটি পড়ার সময় আমরা দৃশ্যগুলোকে দেখি, কিন্তু সেগুলোর ভেতরে যে ধীরগতির জীবন প্রবাহিত হয়, সেটি খুব কমই লক্ষ্য করি। প্রতিটি মুহূর্ত আলাদা করে গুরুত্বপূর্ণ মনে না হলেও, একসঙ্গে তারা একটি নিরব কিন্তু ঘন বাস্তবতা তৈরি করে।


বাড়ির ভেতরের পরিবেশ সেই বাস্তবতার প্রথম স্তর। রান্নাঘরের ধোঁয়া দেয়ালে লেগে থাকে, মেঝেতে পায়ের শব্দ শোনা যায়, দরজার ফাঁক দিয়ে আলো এসে পড়ে নির্দিষ্ট জায়গায়। এই সবকিছুর মাঝখানে সর্বজয়া চলাফেরা করেন। তার কাজের গতি থেমে নেই, কিন্তু মন পুরোপুরি স্থিরও নয়। খরচের হিসাব, ঘরের দায়, আর ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা—এই তিনটি বিষয় তার ভেতরে সবসময় ঘোরাফেরা করে। অপু যখন তার কাছাকাছি আসে, তখন সেই উপস্থিতি তিনি পুরোপুরি উপেক্ষা করতে পারেন না, আবার সব সময় সাড়া দেনও না। তার প্রতিক্রিয়া অনেক সময় সংক্ষিপ্ত, কখনো কিছু বলেন না।


জানালার পাশে অপু দাঁড়িয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকে। বাইরে কোনো শব্দ ভেসে এলে সে থেমে শোনে। চলতে থাকা জীবনের মাঝখানে তার এই থেমে যাওয়া তার নিজের মতো করে পৃথিবীকে বোঝার চেষ্টা। সে বইয়ের নিয়মে শেখে না; বরং যা চোখে পড়ে, সেটিকেই নিজের অভিজ্ঞতায় পরিণত করে। তার এই দেখার মধ্যে কোনো তাড়াহুড়ো নেই, কোনো পরিকল্পনাও নেই। শুধু সময়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক তৈরি হয়।


দুর্গা এই জগতের ভেতরে অন্য রকম উপস্থিতি নিয়ে আসে। সে অপুর সঙ্গে সময় কাটায়, কখনো তাকে আগলে রাখে, আবার কখনো হঠাৎ রেগে গিয়ে দূরে সরে যায়। তাদের এই ওঠানামা কোনো নিয়ম মেনে চলে না। একসঙ্গে থাকা তাদের কাছে স্বাভাবিক, আর আলাদা হয়ে যাওয়া তাদের কাছে অস্বস্তিকর। তারা একে অপরের সঙ্গে কথা না বলেও বোঝে, আবার ছোট ছোট বিষয়ে একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। এই সম্পর্কের ভেতরে কোনো আনুষ্ঠানিকতা নেই, তবু তার প্রভাব স্পষ্ট।


সর্বজয়ার ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সূক্ষ্ম। অপুকে বাইরে যেতে বারণ করার সময় তার কণ্ঠে দৃঢ়তা থাকে। কিন্তু সেই দৃঢ়তা স্থায়ী নয়। অপু ফিরে এলে তিনি অনেক সময় সরাসরি কিছু বলেন না; আবার তার দিকে তাকিয়েও থাকেন না। রান্নার কাজে ফিরে যান। এই কাজের মধ্যে দিয়ে তিনি নিজের অবস্থান ধরে রাখেন। তার আচরণে কঠোরতা এবং সহনশীলতা আলাদা আলাদা ভাবে প্রকাশ পায় না—দুটো একসঙ্গে মিশে থাকে, প্রতিক্রিয়ার ভেতরে।


এই উপন্যাসের ভেতরে কোনো জায়গাতেই পাঠককে বলে দেওয়া হয় না কী বোঝা উচিত। দৃশ্যগুলো নিজের অবস্থানে স্থির থাকে, আর পাঠক সেই দৃশ্যগুলোর ভেতর দিয়ে ধীরে ধীরে প্রবেশ করে। কোনো ঘটনা বড় করে ব্যাখ্যা করা হয়নি, তবু প্রতিটি আচরণ তার পেছনের মানসিক অবস্থার ইঙ্গিত বহন করে। এই ইঙ্গিতগুলো সরাসরি না হলেও পড়া যায়, যদি চোখ কিছুক্ষণ থেমে থাকে।


আমরা যখন এই বইটি পড়ি, তখন শুরুতে গল্পের দিকে মনোযোগ দিই। চরিত্রগুলো কী করছে, কোথায় যাচ্ছে, কী ঘটছে—এই তথ্যগুলো আমাদের প্রথম আগ্রহের জায়গা। কিন্তু কিছুদূর এগোনোর পর আমরা বুঝতে শুরু করি, এই বইয়ের শক্তি ঘটনাগুলোতে নয়, বরং সেই ঘটনাগুলোর ভেতরে লুকিয়ে থাকা সময়ের প্রবাহে। সেই প্রবাহের মধ্যে সম্পর্কগুলো তৈরি হয়, দূরত্ব তৈরি হয়, আবার কখনো হঠাৎ কাছাকাছি এসে দাঁড়ায়।


একটি জানালার সামনে অপু দাঁড়িয়ে আছে, আর তার পেছনে সর্বজয়া। এই দুই অবস্থানের মাঝখানে কোনো কথা নেই, তবু একটি সম্পর্ক আছে। অপু বাইরে তাকিয়ে থাকে, সর্বজয়া ভেতরে কাজ করে। তাদের দৃষ্টি একই দিকে নয়, তবু একই ঘরের ভেতরে তারা অবস্থান করে। এই সহাবস্থান কখনো স্পষ্ট হয় না, কিন্তু প্রতিদিনের পুনরাবৃত্তির ভেতরে সেটাই ধরা পড়ে।


গল্প শেষ হওয়ার পর আমরা হয়তো দৃশ্যগুলো মনে রাখি, কিন্তু সেই দৃশ্যগুলোর ভেতরে যে ধীর গতি, যে শব্দহীন টানাপোড়েন কাজ করে, সেটি থেকে যায় অনেকটা অদেখা। আমাদের সামনে কোনো ব্যাখ্যা দাঁড় করায় না; বরং কিছু মুহূর্ত রেখে যায়, যেগুলো নিজের মতো করে বুঝে নেওয়ার জন্য সময় লাগে। আর সেই সময়ের ভেতরেই পাঠ ধীরে ধীরে তৈরি হয়—যা প্রথমে দেখা যায় না, কিন্তু ঘুম ভাঙলেই মনে পড়ে।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1252 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 25290। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3677
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
ফুটপাতের শৈশব পর্ব ৫ — আমরা তাদের দেখি, কিন্তু দেখি না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লে[...] বিস্তারিত পড়ুন...
7 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

একটা নজরে পথের পাঁচালী মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী। মে ১১, ২০২৬ পথের পাঁচালী-কে এক নজরে ধরতে গেলে প্রথমেই একটা জিনিস চোখে পড়ে—এখানে গল্প কোনো সরল রেখায় এগোয় না। ঘটনা আছে, কিন্তু ঘটন�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
421 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

কিশোরদের মানসিক সংকট আমরা কেন দেখতে পাই না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী | ৭ মার্চ ২০২৬ রাহি আমার পাশের বাড়ির ছেলে। বয়স সতেরো। গত বছর এই সময়টায় আমাদের গলির ক্রিকেট দলের অধিনায়ক �[...] বিস্তারিত পড়ুন...
440 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ইতিহাসের নীরব কিন্তু অনিবার্য মোড় মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন   বিশ্লেষণধর্মী। ডিসেম[...] বিস্তারিত পড়ুন...
448 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ফুটপাতের শৈশব পর্ব ১০ — আমরা কেমন বাংলাদেশ রেখে যাচ্ছি। মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশú[...] বিস্তারিত পড়ুন...
7 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1456 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    72 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Monsoon Harmony

    904 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    45 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    367 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    18 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. Mayabi Ilmaz Megh

    81 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

...