Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

ক্ষুধার কষ্ট

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
436 বার প্রদর্শিত
করেছেন (25,411 পয়েন্ট)   18 ফেব্রুয়ারি "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

ক্ষুধার কষ্ট

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  

লেখক ও সাহিত্য গবেষক  

বিশ্লেষণধর্মী কলাম | ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬


জীবনের পথে যখন নুন আনতে পান্তা ফুরোয়, তখন ক্ষুধার আগুন শুধু পেটে নয়, মনেও জ্বলে। বিধাতার দয়া বা অবহেলা আলাদা করে না—জীবনের সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়েই মানুষের প্রকৃত শক্তি প্রকাশ পায়। তবু আমি ধন্য, কারণ সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তিনি আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।


হঠাৎ মনে পড়ে কাজী নজরুল ইসলামের সেই চরণ—“হে দারিদ্র তুমি মোরে করিয়াছ মহান”। বহুবার ভেবেও আমি নিশ্চিত নই, কবি কি দারিদ্র্যকে কটাক্ষ করেছিলেন, নাকি অভাবের মধ্যে আত্মিক মহত্ত্ব খুঁজেছিলেন। হয়তো কবির দৃষ্টিতে দারিদ্র্য ছিল তাপসের মতো শক্তির উৎস। কিন্তু আমার জীবনে দারিদ্র্য এনেছে শুধু ক্ষুধার জ্বালা, অপমান আর পরজীবী হওয়ার গ্লানি। দারিদ্র্যের তীব্রতায় বড় হওয়া মানুষের চরিত্রে সংযম আসে—এটা সত্য। কিন্তু সেই সংযম কি ক্ষুধার যন্ত্রণা কমায়? নাকি শুধু শেখায় কীভাবে কম খেয়ে বেঁচে থাকতে হয়?


আমি ক্ষুধাকে ভয় পাই। এটি আমাকে কখনো মহান করেনি—শুধু ক্ষতবিক্ষত করেছে। তবু একটা সত্য বুঝি: প্রকৃত মহত্ত্ব আসে তখনই, যখন মানুষ অন্যের দুর্দশা দেখে নিজেকে দায়িত্ববান মনে করে। ছোটবেলায় খাবারের অভাব সহ্য করে বড় হওয়ায় আমি খাবার নষ্ট দেখলে ঘৃণা বোধ করি। যার এই অভিজ্ঞতা নেই, সে এক থালা ভাতের মূল্য বুঝবে না। আমি নিজে বহু বছর সংসারের ডাল-ভাত জোগাড় করেছি। এই সংবেদন আমি আমার সন্তানদের মধ্যেও তৈরি করার চেষ্টা করি।


আজকাল বিয়েবাড়ি, হোটেলে যে পরিমাণ খাবার অপচয় হয়, তা দিয়ে হাজারো মানুষের ক্ষুধা মেটানো যায়। সামাজিক অনুষ্ঠানে ব্যয় করা অর্থের সামান্য অংশ দরিদ্রদের দিলে অনেকের মাসের খাদ্য নিশ্চিত হতো। কিন্তু দারিদ্র্য কৃত্রিম নয়—পকেটে টাকা থাকলেই চাল-ডাল-মুরগি কেনা যায়। অথচ পৃথিবীর অসংখ্য মানুষ এখনো অনাহারে।


আমি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ—সুসময়ের জন্য নয়, দুঃসময়ের জন্য। সেই দুঃসময় আমাকে মানবিক করেছে। গতকাল সকালে এক ক্ষুধার্ত বালক আমার কাছে এসে নাস্তা খেয়েছে। তার ক্ষুধা এত তীব্র ছিল যে, থালার সবকিছু চেটেপুটে শেষ করল—হাত কাঁপছিল, চোখে অসহ্য আকুতি। আমি ভাবি: তার কাছে কি দারিদ্র্য মহত্ত্বের প্রতীক, নাকি শৈশব থেকে কেড়ে নেওয়া এক কঠোর বাস্তবতা? সেই মুহূর্ত আমাকে প্রশ্নের মুখোমুখি করেছে: ক্ষুধা কি মানুষকে মহান করে, নাকি শুধু ক্ষতবিক্ষত করে?


ক্ষুধা ব্যক্তিগত কষ্ট নয়—এটি সামাজিক ব্যর্থতার আয়না। যে সমাজে খাবার অপচয় চলে, সেখানে ক্ষুধার যন্ত্রণা সবার জন্য নৈতিক আঘাত। আমাদের দায়িত্ব শুধু নিজের পেট ভরানো নয়—অন্যের ক্ষুধার কথা ভাবা। নিজের থালার এক অংশ অন্যের জন্য রাখার সক্ষমতা অর্জন করলেই মানবিকতা পূর্ণ হয়।


নজরুলের কথার সাথে আমার মিল এখানে: দারিদ্র্য মানুষকে মহান করে না—মহান করে তার কর্ম। দারিদ্র্যের অভিজ্ঞতা সংযম শেখায়, দায়িত্ব বোঝায়। কিন্তু এই শিক্ষার জন্য কি ক্ষুধার যন্ত্রণা অপরিহার্য? আজকের অপচয়ের সমাজে এই সংবেদন তৈরি করাই সবচেয়ে জরুরি।


আল্লাহর দেওয়া খাবারের জন্য কৃতজ্ঞ হোন। অপচয় রোধ করুন। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—নিজের থালা ভাগ করে নেওয়ার সাহস অর্জন করুন। ক্ষুধার কষ্ট বড়, কিন্তু অন্যের ক্ষুধার প্রতি উদাসীনতা তার চেয়েও বড় কষ্ট।


#ক্ষুধারকষ্ট #দারিদ্র্যভাবনা #খাবারনষ্টরোধ #মানবিকসংবেদন #SocialResponsibility #FoodEthicsimage



আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1258 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 25411। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3465
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
ক্ষুধার কষ্ট ভয়ানক  মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী। ডিসেম্বর ২১, ২০২৫ ক্ষ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
483 বার প্রদর্শিত 1 প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
মানসিক কষ্ট কি এখন বিলাসিতা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  বিশ্লেষণধর্মী। ফেব্রুয়ারি ০৩[...] বিস্তারিত পড়ুন...
126 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
লেখক: মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন লেখার ধরণ: বিশ্লেষণধর্মী তারিখ: ২০ অক্টোবর, ২০২৪ ভালোব&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
476 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ক্ষুধার আগে কোনো পাঠই দাঁড়ায় না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী । ২৩ মে, ২০২৬ &ldquo[...] বিস্তারিত পড়ুন...
426 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বাংলা সাহিত্যে ক্ষুধার যন্ত্রণা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, প্রাবন্ধিক  নিবন্ধ। এপ্রù[...] বিস্তারিত পড়ুন...
503 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1577 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    78 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Monsoon Harmony

    904 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    45 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. Mayabi Ilmaz Megh

    743 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    37 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. রফিক আতা

    367 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    18 টি আইডিয়া ব্লগ

...