Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

যৌথ পরিবার ভাঙছে বাংলা সাহিত্য কি আগেই দেখেছিল

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
651 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,767 পয়েন্ট)   31 মার্চ "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
info_outline
করেছেন ♛ 01 মে বিভাগ পূনঃনির্ধারিত

পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

যৌথ পরিবার ভাঙছে বাংলা সাহিত্য কি আগেই দেখেছিল

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

বিশ্লেষণধর্মী। এপ্রিল ০১, ২০২৬


একসময় দাদা-দাদির কোলে বড় হয়েছি। বাড়ির উঠোনে সবাই মিলে হাসি-ঠাট্টা চলত, এক ঠাকুরের প্রসাদ সবার পাতে পড়ত। আর আজ ফ্ল্যাটের চার দেয়ালের ভেতর একা একা মোবাইল ঘাঁটি। বাবা-মা অফিসে ব্যস্ত, দাদু-দিদা হয়তো গ্রামের খালি বাড়িতে বা কোনো বৃদ্ধাশ্রমের ঘরে।


এই বদলটা সত্যিই হঠাৎ এসেছে, নাকি বাংলা সাহিত্য আগেই কিছু আঁচ পেয়েছিল? কখনো কখনো মনে হয় সাহিত্যিকরা আমাদের চেয়ে অনেক আগে দেখতে পান।


ছোটবেলার স্মৃতি ঘাঁটলে গ্রামের বাড়িটা এখনো মনে গরম লাগে। সকালে দাদির গল্প, চাচা-চাচির সঙ্গে দৌড়াদৌড়ি, মায়ের পাশে রান্নাঘরে হাত লাগানো — এসব মিলিয়ে এক ধরনের নিরাপত্তা ছিল। কিন্তু শহরের জীবনে সেই অনুভূতি কোথায় যেন মিলিয়ে গেছে। প্রত্যেকে নিজের ঘরে ঢুকে ফোনে ডুবে থাকে। একসাথে খাওয়া বা গল্প করার অভ্যাসটা আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে।


বাংলা সাহিত্য এই যন্ত্রণাটা অনেক আগেই ধরেছিল। 

গিরিশচন্দ্র ঘোষের নাটক প্রফুল্ল -এ দেখি একটা সমৃদ্ধ যৌথ পরিবার কীভাবে মদের নেশা, অর্থের টানাপোড়েন আর ভেতরের স্বার্থের ঝগড়ায় ভেঙে পড়ে। প্রফুল্ল চরিত্রটা যেন সেই ভাঙনেরই প্রতীক।


শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই ফাটলকে আরও গভীর করে দেখিয়েছেন। পল্লীসমাজ বা শ্রীকান্ত-এ গ্রামের যৌথ পরিবার জমি-জমার বিবাদ আর অর্থের চাপে ক্ষয়ে যায়। তাঁর চরিত্রগুলো যৌথ পরিবারের ছাদের নিচে থেকেও একা হয়ে পড়ে। পড়তে গিয়ে মনে হয় এ যেন আমাদের চারপাশেরই গল্প।


রবীন্দ্রনাথের চোখের বালি পড়লে আরও স্পষ্ট হয়। বিনোদিনী যখন মৈত্রেয়ীর ঘরে ঢোকেন, তখন বোঝা যায় যৌথ পরিবারের ‘সবার ঘর’ আসলে নারীর জন্য কতটা খাঁচা ছিল। রবীন্দ্রনাথ উনিশশো এক-দুই সালে যে জটিলতা দেখিয়েছেন, আজকের ভাষায় বললে সেটা বিষাক্ত — কিন্তু তিনি সেই শব্দ ব্যবহার করেননি, শুধু দেখিয়েছেন।


বিভূতিভূষণের পথের পাঁচালী-তে দারিদ্র্যের চাপে পরিবার ক্ষয়ে যাওয়ার ছবি দেখা যায়। অপু-দুর্গার গ্রামীণ জীবন, দুর্গার মৃত্যুর পর যে শূন্যতা — সেটা আজকের অনেক পরিবারের ছায়ার মতো লাগে।


মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদ্মা নদীর মাঝি-তে নদীর স্রোতের মতো অর্থনৈতিক চাপ জেলে পরিবারের ঐক্য ধুয়ে নিয়ে যায়। আর সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের পূর্ব-পশ্চিম-এ শহুরে মধ্যবিত্তের একক পরিবারের সংকট উঠে আসে।


নারী শিক্ষার প্রসার, শ্রমের বাজারে নারীদের প্রবেশ, জমির বিভাজন — এসব পুরনো অর্থনৈতিক ভিত্তি ভেঙে দিয়েছে। এককালে যৌথ পরিবার ছিল নিরাপত্তার জায়গা। কিন্তু চাকরি আর শহরের টানে সবাই ছড়িয়ে পড়ল। বন্ধন আলগা হয়ে গেল। আজ স্বাধীনতা পেয়েছি, কিন্তু সঙ্গে এসেছে গভীর একাকিত্ব।


দাদু মারা যাওয়ার পর প্রথম বছর মা বলেছিলেন, “এবার বাড়িতে শান্তি।” আমি তখন বুঝিনি। পরে বুঝলাম — দাদু ছিলেন শেষ সেতু। তাঁর পর... তাঁর পর আর কিছু নেই। চাচারা ফোন ধরেন না। মাসিরা দেখে রেখে দেন। কাকারা ‘ব্যস্ত’ বলেন। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ‘ওম শান্তি’ স্টিকার পাঠানোর পর কেউ আর কথা বাড়ায় না। সেই যৌথতার শেষ টুকুও যেন ডিজিটাল হয়ে গেল।


সাহিত্য কখনো কখনো ভবিষ্যতের দিকেও আঙুল তোলে। আজকের ছেলেমেয়েরা দাদু-দিদার কোলের সেই উষ্ণতা খুব কমই পাচ্ছে। ফলে মানসিক চাপ বাড়ছে, সম্পর্কগুলো ক্রমশ পাতলা হয়ে যাচ্ছে।


তবু কিছু পরিবার এখনো চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু প্রশ্নটা থেকেই যায় — এটুকুই কি যথেষ্ট? আমি নিজেও ঠিক জানি না।


যৌথ পরিবারের ভাঙন শেষ পর্যন্ত শুধু একটা ঘরের ব্যাপার নয়। এটা পুরো সমাজেরই একটা সমস্যা।


তোমার কাছে যৌথ পরিবার মানে কী? একটা গন্ধ, একটা শব্দ, নাকি একটা অসমাপ্ত কথা?


#যৌথপরিবার #বাংলাসাহিত্যimage

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1374 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27767। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3691
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
বাংলা সাহিত্য কি সংকটে, নাকি পরিবর্তনের মধ্যে? মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্ম&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
42 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
আদর্শ পরিবার: স্বামী-স্ত্রীর অধিকার ও যৌথ কর্তব্য (শেষ পর্ব) মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  [...] বিস্তারিত পড়ুন...
257 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

বউ-শাশুড়ি সম্পর্ক: বাংলা সাহিত্য বিশ্লেষণ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী । এ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
453 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বাংলা সাহিত্যে ব্রেকআপ কালচার নতুন সাহিত্য ভাষা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, প্রাবন্ধিক[...] বিস্তারিত পড়ুন...
115 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ঋতু ও বাংলা সাহিত্য মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, প্রাবন্ধিক প্রবন্ধ। এপ্রিল ১১, ২০২৬ বাং[...] বিস্তারিত পড়ুন...
122 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    163 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    3 মন্তব্য

    8 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    82 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. ফাহিম আহমাদ

    61 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    41 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...