Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

সন্তানের শত্রু কে?

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
6 বার প্রদর্শিত
করেছেন (30,254 পয়েন্ট)   23 ঘন্টা পূর্বে "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

সন্তানের শত্রু কে?image

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

প্রবন্ধ | ৩১ অক্টোবর ২০২৬


আট বছরের ছেলেটি বাবার ফোনের দিকে তাকিয়ে আছে। পর্দায় বাবার নাম ভেসে উঠেছে। ফোনটা ধরার জন্য হাত এগিয়েও থেমে যায়। পাশে বসে থাকা মা কিছুক্ষণ আগে বলেছিলেন, “তোমার বাবা এখন তোমার খোঁজ নিচ্ছে কেন, বুঝি না।” কথাটা হয়তো মায়ের নিজের কষ্ট থেকেই বলা। কিন্তু শিশুটির মনে প্রশ্ন জেগেছে, বাবার ফোন ধরলে মা কষ্ট পাবেন না তো?


বিচ্ছেদের পর অনেক শিশুকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, যেখানে মা-বাবার বিরোধের ভার এসে পড়ে তার ওপর। যাঁদের দুজনের কাছ থেকেই ভালোবাসা পাওয়ার কথা, তাঁদের একজনকে ভালোবাসলে অন্যজন কষ্ট পাবেন কি না, সেই হিসাবও তাকে করতে হয়।


কখনো মা, কখনো বাবা নিজের ক্ষোভ, অভিমান কিংবা প্রতিশোধের জায়গা থেকে সন্তানকে অন্য অভিভাবকের বিরুদ্ধে প্রভাবিত করেন। সন্তানের সামনে অন্যজনকে অপমান করা, তাঁর সঙ্গে যোগাযোগে বাধা দেওয়া, তাঁর দায়িত্ব বা ভালোবাসা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করা কিংবা শিশুকে দিয়ে নিজের পক্ষের কথা বলানো, এসব আচরণ ধীরে ধীরে সম্পর্ক নষ্ট করতে পারে।


তবে এখানে একটি পার্থক্য বোঝা জরুরি। কোনো অভিভাবক সন্তানের নিরাপত্তার কারণে অন্যজনের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত করলে সেটিকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা বলা যায় না। নির্যাতন, অবহেলা কিংবা ভয় দেখানোর ঘটনা থাকলে শিশুকে নিরাপদ রাখা অবশ্যই প্রয়োজন। সমস্যা তৈরি হয় তখন, যখন সন্তানের কল্যাণের বদলে তাকে ব্যক্তিগত বিরোধ মেটানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়।


মনোবিজ্ঞানে এ ধরনের পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত একটি ধারণা হলো ‘আনুগত্যের দ্বন্দ্ব’। শিশুটি তখন মা-বাবার মধ্যে কাউকে বেছে নিতে বাধ্য বোধ করে। মাকে ভালোবাসলে বাবার প্রতি অপরাধবোধ, বাবার সঙ্গে সময় কাটালে মায়ের মন খারাপ হবে কি না, এমন চিন্তা তার স্বাভাবিক আনন্দকেও সংকুচিত করে ফেলে।


ধরা যাক, একটি মেয়ে বাবার কাছ থেকে নতুন জামা পেয়েছে। বাড়ি ফিরে আনন্দের সঙ্গে মাকে জামাটি দেখাল। মা নিজের অভিমান সামলাতে না পেরে বললেন, “এত ভালো বাবা হলে আমাদের ছেড়ে গেল কেন?”


মায়ের কথার পেছনে হয়তো দীর্ঘদিনের কষ্ট আছে। কিন্তু মেয়েটির কাছে বিষয়টি এত সরল নয়। সে বাবার কাছ থেকে পাওয়া জামাটিও ভালোবাসে, আবার মাকেও কষ্ট দিতে চায় না। পরেরবার বাবা কিছু দিলে সে হয়তো আর মাকে দেখাবে না। আনন্দের একটি ছোট ঘটনা তার কাছে গোপন রাখার বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।


এভাবেই শিশুর আচরণ বদলাতে পারে। সে ফোন ধরতে চায় না, বাবার কথা উঠলে প্রসঙ্গ পাল্টায়। বাইরে থেকে মনে হতে পারে, সে নিজেই একজনকে অপছন্দ করছে। কিন্তু তার এই আচরণের পেছনে কতটা নিজের অভিজ্ঞতা, আর কতটা পারিবারিক চাপ, তা বোঝা সব সময় সহজ নয়।


তাই শিশুর মুখের কথা শুনেই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়, আবার তার অনুভূতিকে অস্বীকার করাও অন্যায়। সে কোনো অভিভাবকের কাছে যেতে না চাইলে তার কারণ মন দিয়ে শুনতে হবে। ভয়, খারাপ অভিজ্ঞতা কিংবা অন্যজনের সম্পর্কে বারবার শোনা কথা, কোনটি তার আচরণকে প্রভাবিত করছে, তা বুঝতে নিরপেক্ষ মূল্যায়ন প্রয়োজন।


বাংলাদেশের আইনেও সন্তানের কল্যাণ অভিভাবকত্বসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা। অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০ অনুযায়ী, আদালত শিশুর কল্যাণ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। শিশুর বয়স ও বোঝার ক্ষমতা অনুযায়ী তার মতামতও গুরুত্ব পেতে পারে। তবে তার মতামতই সব ক্ষেত্রে চূড়ান্ত নয়। পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-ও এ বিষয়ে প্রাসঙ্গিক।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রোগের আন্তর্জাতিক শ্রেণিবিন্যাসে ‘অভিভাবকীয় বিচ্ছিন্নতা’ নামে স্বতন্ত্র কোনো মানসিক রোগের নির্ণয় নেই। তবে এর অর্থ এই নয় যে, বিচ্ছেদের পর কোনো অভিভাবকের প্রভাবে সন্তানের সঙ্গে অন্য অভিভাবকের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে না। শিশুর আচরণ দেখেই কাউকে অপরাধী ঘোষণা করা কিংবা রোগের নাম দেওয়া উচিত নয়।


মা-বাবার বিচ্ছেদ একটি সম্পর্কের সমাপ্তি হতে পারে, কিন্তু সন্তানের কাছে তাঁদের দুজনের প্রয়োজন শেষ হয়ে যায় না। একজনের প্রতি অন্যজনের ক্ষোভ থাকলেও সন্তানকে বার্তাবাহক বানানো, তার কাছ থেকে অন্য অভিভাবকের খবর নেওয়া কিংবা তাকে দিয়ে অভিযোগ পৌঁছে দেওয়া উচিত নয়।


শেষ পর্যন্ত সেই আট বছরের ছেলেটির ফোনের পর্দা নিভে যায়। বাবা আরেকবার ফোন করেননি। ছেলেটি ফোনটা নামিয়ে রাখে। মা পাশের ঘরে নিজের কাজে ব্যস্ত। কেউ তাকে জিজ্ঞেস করে না, সে আসলে বাবার সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিল কি না।


হয়তো সে বাবাকে ফোন করতে চেয়েছিল। শুধু মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে সাহস পায়নি।


তথ্যসূত্র


১. বাংলাদেশ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩।

২. অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০।

৩. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, রোগের আন্তর্জাতিক শ্রেণিবিন্যাস, একাদশ সংস্করণ।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 1 মাস ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1497 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 30254। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 5153
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
যে দরজাগুলো সন্তানের নিজেরই খুলতে হয় মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী। ৭ সেপ্[...] বিস্তারিত পড়ুন...
43 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
গরিব কে? মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণমূলক লেখা | ৪ অক্টোবর ২০২৬ রিকশাওয়ালাকে দেখ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
34 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
আমার কে আছে? মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প | ১ সেপ্টেম্বর  ২০২৬ অবসর নেওয়ার পর প্রথ÷[...] বিস্তারিত পড়ুন...
47 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সম্পর্কের শেষ কথাগুলো পর্ব ৪ — সন্তানের জন্যই? মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্ম[...] বিস্তারিত পড়ুন...
56 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশির দিনগুলো গল্প-৪ : সন্তানের জন্য মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ১৫ জুলাই, ২০২৬ মায়ের চো&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
59 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    2650 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Mayabi Ilmaz Megh

    394 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. মিস্টার পেন্সিল

    274 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    127 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...