Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

ঘরের মানুষ

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
2 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,848 পয়েন্ট)   5 ঘন্টা পূর্বে "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

ঘরের মানুষimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

বিশ্লেষণমূলক লেখা |  ৫ অক্টোবর ২০২৬


সকাল আটটার একটু আগে নিশি মেয়েকে স্কুলে পাঠানোর জন্য ব্যস্ত। এক হাতে টিফিন বক্স, অন্য হাতে মেয়ের চুলের ফিতা। রান্নাঘরে গ্যাস জ্বলছে, শাশুড়ির ওষুধ দেওয়ার সময় হয়ে গেছে।


রহিমা এসে বলল, “আপা, মায়ের ওষুধটা আমি দিয়ে দিচ্ছি। আপনি মেয়েটাকে তৈরি করেন।”


নিশি বলল, “হ্যাঁ, দাও।”


রহিমা শুধু ওষুধটা এগিয়ে দিল না। শাশুড়িকে বিছানা থেকে উঠিয়ে বাথরুমে নিয়ে গেল, মুখ ধুইয়ে দিল, নাশতা সামনে রাখল। তারপর মেয়ের টিফিন গুছিয়ে দিল। নিশি মেয়েকে নিয়ে বের হওয়ার সময় বলল, “রহিমা, মাকে একটু দেখে রেখো।”


রহিমা মাথা নেড়ে বলল, “আপনি যান।”


এই ছোট কথাটার ভেতর একটা পরিবারের বড় দায়িত্ব চলে গেল একজন গৃহশ্রমিকের হাতে।


কিন্তু দিনের শেষে আমরা তাকে কী বলি?


“ও তো বাসায় কাজ করে।”


এই কথাটার মধ্যেই আমাদের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির একটা বড় সমস্যা লুকিয়ে আছে।


একজন অফিসকর্মী সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কাজ করলে আমরা তাকে কর্মজীবী মানুষ বলি। কিন্তু একজন নারী একই সময়ে ঘর পরিষ্কার করলে, রান্না করলে, শিশুকে খাওয়ালে, বৃদ্ধকে বাথরুমে নিয়ে গেলে কিংবা অসুস্থ মানুষের পাশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকলে সেটাকে প্রায়ই শুধু “বাসার কাজ” বলে পাশ কাটিয়ে যাই।


আমরা তার শ্রম চাই, কিন্তু তার মানুষটাকে অনেক সময় দেখতে চাই না।


গৃহশ্রমিককে নিয়ে নেতিবাচক ধারণারও কমতি নেই।


“ওদের বিশ্বাস করা যায় না।”


“বেশি স্বাধীনতা দিলে মাথায় উঠে যাবে।”


“ছুটি চাইলেই সমস্যা।”


“বেতন বাড়াতে বলছে কেন?”


এ ধরনের কথা আমাদের খুব পরিচিত।


কিন্তু একই মানুষটির হাতে যখন নিজের সন্তানের দায়িত্ব তুলে দিই, তখন সেই অবিশ্বাস কোথায় থাকে?


অভিক একদিন অফিস থেকে ফিরে দেখল, তার মা বারান্দায় বসে আছেন। রহিমা পাশে বসে পায়ের ব্যথায় তেল মালিশ করছে।


অভিক বলল, “মা, ডাক্তার যে ব্যায়াম করতে বলেছে করেছ?”


মা হেসে বললেন, “রহিমা না থাকলে তো তোমরা জানতেই না আমি ব্যায়াম করছি কি না।”


অভিক মজা করে বলল, “ও তো কাজের জন্যই করে।”


মা এবার একটু বিরক্ত হয়ে বললেন, “তুমি অফিসে কাজ করো। ও এখানে কাজ করে। কাজটা ছোট হলো কীভাবে?”


অভিক চুপ করে গেল।


গৃহশ্রমিকের কাজের যে অংশটা আমরা সবচেয়ে কম দেখি, সেটাই অনেক সময় পরিবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা।


একজন শিশুকে সময়মতো খাওয়ানো, স্কুল থেকে ফিরলে পাশে থাকা, জ্বর হলে রাত জাগা কিংবা একজন বৃদ্ধের ওষুধের সময় মনে রাখা—এসব শুধু ঘরের কাজ নয়। এর সঙ্গে ধৈর্য, দায়িত্ব আর বিশ্বাস জড়িয়ে থাকে।


অথচ এই কাজগুলোর কোনো আলাদা পদবি নেই। কোনো ডেস্ক নেই। কোনো পদোন্নতি নেই।


আছে শুধু দায়িত্ব।


একদিন রহিমা নিশিকে বলল, “আপা, কাল আমি একটু আগে যাব।”


নিশি বলল, “কেন?”


“মেয়ের স্কুলে যেতে হবে। ওর ফরম জমা দিতে হবে।”


নিশি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, “ঠিক আছে। তুমি যাও।”


রহিমা যাওয়ার সময় বলল, “আপা, পরশু একটু বেশি সময় থাকব।”


নিশি বলল, “সেটা নিয়ে চিন্তা করো না।”


রহিমা চলে গেল।


নিশি দরজা বন্ধ করে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল।


তার নিজের মেয়ের স্কুলের ফরম জমা দেওয়া, পরীক্ষার খবর নেওয়া কিংবা অসুস্থ হলে পাশে থাকা—এসবকে সে স্বাভাবিক দায়িত্ব মনে করে। রহিমাও তার মেয়ের জন্য একই কাজ করতে চায়।


পার্থক্য শুধু এই যে, একজনের সন্তানের যত্নকে আমরা সহজেই দায়িত্ব বলি, অন্যজনের প্রয়োজনকে অনেক সময় বাড়তি ঝামেলা মনে করি।


এই দৃষ্টিভঙ্গিটাই বদলানো দরকার।


গৃহশ্রমিকের কাজকে সম্মান করা মানে তাকে দেবতার আসনে বসানো নয়। আবার তাকে সন্দেহের চোখে দেখাও নয়। তিনি একজন কর্মী। তারও ভুল হতে পারে, দায়িত্বে ঘাটতি হতে পারে। যেমন অন্য যেকোনো পেশার মানুষের হয়।


কিন্তু ভুল করলে জবাবদিহি আর মানুষকে ছোট করা এক জিনিস নয়।


সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, গৃহশ্রমিকদের কাজের পরিধি অনেক পরিবারেই বেড়েছে, কিন্তু তাদের পরিচয় এখনো প্রায়ই আটকে আছে একটি শব্দে—“কাজের লোক”।


আজ অনেক গৃহশ্রমিক শুধু ঘর পরিষ্কার করেন না। তারা শিশুর যত্ন নেন, বৃদ্ধের পাশে থাকেন, স্কুল থেকে সন্তান আনেন, হাসপাতালে নিয়ে যান, ওষুধের সময় মনে করিয়ে দেন। অর্থাৎ একটি পরিবারের ব্যস্ত জীবনের এমন কিছু দায়িত্ব তারা সামলে দেন, যার অনুপস্থিতি খুব দ্রুত বোঝা যায়।


একদিন সন্ধ্যায় রহিমা চলে যাওয়ার পর অভিকের মেয়ে দৌড়ে এসে বলল, “মা, রহিমা খালা কাল আসবে তো?”


নিশি বলল, “হ্যাঁ।”


মেয়েটা বলল, “দাদুর ওষুধটা তো উনিই মনে করিয়ে দেন।”


অভিক পাশ থেকে শুনছিল।


সে কিছু বলল না।


শুধু টেবিলের ওপর রাখা ওষুধের বাক্সটার দিকে তাকাল।


তারপর প্রথমবারের মতো মনে হলো, এই বাক্সটা প্রতিদিন যে হাতটা ঠিক সময়ে এগিয়ে দেয়, সেই হাতটারও তো একটা নাম আছে।


রহিমা।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1378 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27848। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4932
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


হারিয়ে যাওয়া গ্রামের গল্প মাটির ঘরের শেষ গল্প মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী | ০২ আগষ্ট,  ২০২৬ ইটের বাড়ি বেড়েছে, কিন্তু মাটির ঘরের সেই উষ্ণ অনুভূতিটা যেন কোথাও হারিয়ে গেছে। একটা �[...] বিস্তারিত পড়ুন...
44 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অতিথি এলে বদলে যাওয়া মানুষ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণমূলক লেখা | ২৯ সেপ্টেম্বর [...] বিস্তারিত পড়ুন...
18 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষ বেঞ্চের মানুষ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী । ২৬ মে, ২০২৬ হাসপাতালের ক[...] বিস্তারিত পড়ুন...
395 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

 ত্যাগের নামে হারিয়ে যাওয়া মানুষ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী । ১৬ মে, ২০২৬ [...] বিস্তারিত পড়ুন...
462 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

 দায়িত্বের নিচে চাপা মানুষ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী । ১৬ মে, ২০২৬ রায়হ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
458 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    244 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    3 মন্তব্য

    12 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    122 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. ফাহিম আহমাদ

    61 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    41 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...