Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

মায়ের বাক্সের তালিকা

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
2 বার প্রদর্শিত
করেছেন (29,003 পয়েন্ট)   15 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

মায়ের বাক্সের তালিকাimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

মায়ের আত্মত্যাগের ছোটগল্প

১৯ অক্টোবর ২০২৬


হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পর রাফি প্রথম যে কথাটা বলেছিল, তা ছিল নতুন জুতা নিয়ে।


তার পুরোনো জুতার সামনের অংশে ফুটো হয়ে গিয়েছিল। বৃষ্টি হলে মোজা ভিজে যেত, স্কুলের মাঠে হাঁটলে ধুলো ঢুকত ভেতরে। হাসপাতালে যাওয়ার আগেও সে মাকে জুতার কথা বলেছিল। মা তখন হেসে বলেছিলেন, মাসটা শেষ হোক, তারপর কিনে দেবেন।


অসুখের কারণে অনেক দিন স্কুলে যেতে পারেনি রাফি। বাড়ি ফেরার পর সে আবার পুরোনো জুতা পরেই স্কুলে যাওয়া শুরু করল।


এক সকালে জুতার ফাটা অংশটা আঙুল দিয়ে চেপে ধরে সে বলল,


— মা, এবার কিন্তু কালো জুতাটা কিনব। দোকানে একটা দেখেছি। খুব সুন্দর।


মা তার জুতার দিকে তাকিয়ে বললেন,


— হ্যাঁ বাবা, কিনব। তুই আগে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে নে।


রাফি আর কথা বাড়াল না। মায়ের কথা সে বিশ্বাস করত। মা যখন বলতেন কিছু কিনে দেবেন, তখন দেরি হলেও একদিন না একদিন কিনে দিতেন।


বাড়িতে ফিরে আসার কয়েক দিন পর আলমারির নিচের তাকে রাখা মায়ের কাঠের বাক্সটা খুঁজতে গিয়ে সে একটা ছোট খাতা পেল। বাক্সে পুরোনো কাপড়, সুতো, কয়েকটা বোতাম আর কিছু কাগজ রাখা ছিল। খাতাটা ছিল সবার নিচে।


প্রথম পাতায় মায়ের হাতের লেখা—‘কেনাকাটার হিসাব’।


রাফি পাতাগুলো উল্টাতে লাগল। কোথাও বাজারের হিসাব, কোথাও চাল-ডালের দাম, কোথাও মাসের শেষে কত টাকা হাতে থাকবে তার হিসাব। শেষের দিকে একটা ছোট তালিকা।


১. কালো জুতা

২. নীল স্কুলব্যাগ

৩. শীতের সোয়েটার

৪. জ্যামিতি বাক্স

৫. নিজের জন্য একটা চশমা

৬. একটা শাড়ি


পাঁচ আর ছয় নম্বরের ওপর কালো কালি দিয়ে দাগ টানা। এতবার কাটা হয়েছে যে শব্দ দুটো প্রায় পড়াই যায় না।


রাফি খাতাটা কিছুক্ষণ হাতে ধরে রাখল। তারপর আগের জায়গায় রেখে বাক্সের ঢাকনা বন্ধ করে দিল।


মায়ের চশমার একটা ডান্ডা অনেক দিন ধরে ভাঙা। কালো টেপ পেঁচিয়ে তিনি সেটা জোড়া লাগিয়ে রেখেছেন। চশমাটা পরে সেলাই করতে বসলে তাঁকে কাপড়টা চোখের কাছে টেনে আনতে হয়। কখনো সুইয়ে সুতো পরাতে গিয়ে কয়েকবার চেষ্টা করতে হয়, কখনো সেলাইয়ের রেখা একটু এদিক-ওদিক হয়ে যায়।


রাফি ছোটবেলায় মায়ের পাশে বসে বোতাম লাগানো দেখত। মা তখন চশমাটা খুলে কপালে তুলে বলতেন,


— আলোটা একটু কাছে ধর তো, বাবা।


এখন রাফি বড় হয়েছে। মায়ের কাছে বসার সময় কমে গেছে। স্কুল থেকে ফিরে পড়তে বসে, বন্ধুদের সঙ্গে বের হয়, কখনো ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তবু সেদিন খাতার পাতায় নিজের জন্য কেনার জিনিসগুলোর তালিকা দেখে তার মনে পড়ল, মা কত দিন ধরে ওই ভাঙা চশমাটা ব্যবহার করছেন।


পরদিন সকালে মা ঘুম থেকে উঠে দেখলেন, চশমাটা টেবিলের ওপর রাখা। ভাঙা ডান্ডার কালো টেপ খুলে নতুন করে লাগানো হয়েছে। টেপের মাথাটা যত্ন করে ভাঁজ করা, যাতে আর খুলে না যায়।


পাশেই তাঁর পুরোনো শাড়িটা রাখা। ছেঁড়া পাড়ে নতুন সেলাই পড়েছে। সেলাইটা খুব সোজা হয়নি। কয়েক জায়গায় সুতো বাঁকা হয়ে গেছে, একটা ছোট গিঁটও বাইরে বেরিয়ে আছে।


মা চশমাটা হাতে নিয়ে দেখলেন। তারপর শাড়ির পাড়টা আঙুল দিয়ে ছুঁয়ে রইলেন।


রাফি তখন স্কুলের জন্য তৈরি হচ্ছিল। সে পুরোনো জুতার ফিতা বাঁধতে বাঁধতে মাকে বলল,


— মা, আজ ফিরতে একটু দেরি হবে।


— কেন?


— স্কুলে কাজ আছে।


মা আর কিছু জিজ্ঞেস করলেন না। চশমাটা চোখে দিয়ে রান্নাঘরে চলে গেলেন।


রাফি দরজার বাইরে পা রাখতেই মা একবার ডাকতে গিয়েও ডাকলেন না। ছেলেটার জুতার সামনের ফুটোটা চোখে পড়েছিল তাঁর। তিনি কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে চুলার আঁচ কমিয়ে দিলেন।


দুপুরে সেলাই করতে বসে মা চশমাটা পরে কাপড়ের ওপর সুতো চালালেন। জানালার পাশ দিয়ে আলো এসে পড়েছিল। সুইয়ে সুতো পরাতে আজও একটু সময় লাগল। সেলাইয়ের রেখাটাও দু-এক জায়গায় বাঁকা হলো।


মা চশমাটা খুললেন না।


কাপড়ের পাড়ে সুতো টেনে গিঁট দিলেন, তারপর পরের সেলাইটা শুরু করলেন।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1435 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 29003। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 5019
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
মায়ের ভাগে শুধু পুরোনো ঘর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন পারিবারিক দ্বন্দ্বের ছোটগল্প ১৯[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
মায়ের পক্ষপাত মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণমূলক লেখা | ১৬ অক্টোবর ২০২৬ একটি বাড&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
15 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
উপন্যাসঃ-ছইয়ের নিচে জীবন গল্প-৫-এক মায়ের নীরব লড়াই মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ২৬ জুলù[...] বিস্তারিত পড়ুন...
54 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
উপন্যাসঃ-ছইয়ের নিচে জীবন গল্প-৪-এক মায়ের নীরব লড়াই মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ২৬ জুল[...] বিস্তারিত পড়ুন...
54 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বাবা-মায়ের সঙ্গে দূরত্ব মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  বিশ্লেষণধর্মী। ৩০ জুন, ২০২৬ "বাবা-&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
62 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1419 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    7 মন্তব্য

    69 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    126 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. জামিনুল রেজা

    83 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    82 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

...