যখন দয়া দায়িত্বহীন হয়
মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন
বিশ্লেষণধর্মী। ০৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
একটা ছোট্ট কুকুরছানার মৃত্যুতে আমরা কাঁদি। কাঁদি ঠিকই। কিন্তু পরদিনই ভুলে যাই। কারণ আমরা শুধু ছবি দেখি, ভিডিও দেখি, কমেন্টে “নির্মম” লিখে নিজেদের সহানুভূতির সার্টিফিকেট নিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমোই।
আর যারা প্রতিদিন এই বোঝা বয়ে বেড়ায়, তাদের কথা কেউ শোনে না।
গ্রামের বাড়িতে যখন একটা কুত্তি বারান্দায় বাচ্চা দেয়, প্রথম দু-দিন সবাই “কী সুন্দর!” বলে ছবি তোলে।
তৃতীয় দিন থেকে শুরু হয় গঞ্জনা। গরু-ছাগল কামড়ালো, রাস্তায় বিষ্ঠে ভর্তি—দোষ সব তাদেরই, যারা আশ্রয় দিয়েছে। নিজের সংসারে দু-মুঠো চাল বাঁচিয়ে কুকুরকে খাওয়াচ্ছে, সেই পরিবারকেই গালি শুনতে হয়।
শহর থেকে আমরা বলি, “মারবেন না।”
ঠিক আছে, মারব না।
কিন্তু একটা বাচ্চা নিয়ে যেতে বললে হঠাৎ সবার ফ্ল্যাট ছোট হয়ে যায়, অ্যালার্জি হয়, সময় থাকে না।
পাহাড়ে বানর ফসল খেয়ে শেষ করে দেয়। মারা যাবে না, আইন আছে। কিন্তু কৃষকের সারা বছরের পরিশ্রমের ক্ষতিপূরণ কোথায়?
আমরা প্রাণী ভালোবাসি।
কিন্তু শুধু পোস্ট দিয়ে নয়।
ভালোবাসা মানে দায়িত্ব।
তাই এখন আর শুধু কথা নয়, কাজের সময় এসেছে। যদি সত্যিই কিছু করতে চাই, তাহলে এই কয়েকটা পথে হাঁটতে হবে। এগুলো কঠিন নয়, শুধু ইচ্ছাটা লাগবে:
১. গ্রামে-গঞ্জে নিয়মিত স্টেরিলাইজেশন ক্যাম্প করা। পঞ্চায়েত, স্কুলের ছেলেমেয়ে, কয়েকজন তরুণ মিলে একটা গ্রুপ তৈরি করলেই হল। মাসে একদিন ক্যাম্প, দশ-বিশটা কুকুর-কুত্তির অপারেশন। দু-তিন বছরে পুরো এলাকার সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে।
২. কমিউনিটি ফিডিং পয়েন্ট। একটা নির্দিষ্ট জায়গায় প্রতিদিন একটু খাবার রাখা। হোটেল-রেস্তোরাঁর উচ্ছিষ্ট, বাজারের ফেলে দেওয়া মাছ-মাংস—এসব জড়ো করে এক জায়গায় দিলে কুকুরগুলো আর এদিক-ওদিক ছড়িয়ে কামড়াবে না।
৩. যারা সত্যিই কুকুর ভালোবাসে, তাদের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ: প্রতি মাসে একদিন গ্রামে গিয়ে দশ কেজি চাল বা বিস্কুট নিয়ে যান। যে পরিবারগুলো কুকুর পুষছে, তাদের হাতে তুলে দিন। এক বছরে বোঝা অনেক হালকা হয়ে যাবে।
৪. বানরের সমস্যার জন্য বন দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে অরণ্যে বিকল্প খাবারের ব্যবস্থা করা। আর কৃষকদের জন্য ফসলের বীমা আর ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা চালু করা। এটা সরকারের কাজ, কিন্তু আমরা চাপ দিতে পারি।
৫. আর সবচেয়ে সহজ কাজ: যে পরিবারটা কুকুরদের আশ্রয় দিয়েছে, তাদের গালি দেওয়া বন্ধ করা। তাদের পাশে দাঁড়ানো। একটু সম্মান দেওয়া। কারণ তারাই তো আসলে আমাদের “প্রাণীপ্রেম” বাঁচিয়ে রেখেছে। আমরা শুধু লাইক দিয়েছি।
কথা বলা শেষ।
এবার একটু হাত নোংরা করার পালা।
নইলে আজকের কুকুরছানাটা কাল আরেকটা হবে। আর আমরা আবার কাঁদব। আবার ভুলে যাব।
#দায়িত্বহীন_দয়া #প্রাণীপ্রেম_নয়_শখ #কুকুরের_বোঝা #গ্রামের_বাস্তব #যেখানে_দয়া_থেমে_যায় #SterilizationNow #CommunityFeeding #RealActionNeeded #SaveStraysWithResponsibility
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।