Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

মায়ের ভাগে শুধু পুরোনো ঘর

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
2 বার প্রদর্শিত
করেছেন (29,003 পয়েন্ট)   15 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

মায়ের ভাগে শুধু পুরোনো ঘরimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

পারিবারিক দ্বন্দ্বের ছোটগল্প

১৯ অক্টোবর ২০২৬


তিন ভাই বাবার সম্পত্তি ভাগ করে নিল। বড় ভাই রাশেদ পেল পাকা বাড়ি, মেজো ভাই কামাল সামনের জমি আর পুকুর, ছোট ছেলে সুমনের ভাগে পড়ল বাড়ির পেছনের এক টুকরো জমি। মায়ের থাকার জন্য রইল পুরোনো ঘরটা—যার টিনের ছাদে কয়েক জায়গায় ছিদ্র, আর বর্ষা নামলেই মেঝেতে পানি জমে।


ভাগাভাগির দিন মা উঠানের এক কোণে বসে ছিলেন। ছেলেরা কাগজপত্র নিয়ে কথা বলছিল। কোন জমির সীমানা কোথায়, কোন গাছের ফল কে পাবে, পুকুরের মাছ ধরার অধিকার কার—সবকিছুর হিসাব হচ্ছিল। মা একবার শুধু বলেছিলেন, তাঁর ঘরের চালটা মেরামত করা দরকার।


রাশেদ বলেছিল,

— পরে দেখা যাবে, মা।


তারপর আর কেউ কথাটা তোলেনি।


বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর মা নিজেই ব্যবস্থা করে নিলেন। বিছানার এক পাশে একটা বালতি, অন্য পাশে পুরোনো হাঁড়ি রাখলেন। ছাদের যে জায়গা দিয়ে বেশি পানি পড়ত, সেখানে বালতিটা সরিয়ে নিতেন। অন্য দিকের ফোঁটাগুলো জমত হাঁড়িতে। রাতে ঘুম ভেঙে গেলে পাত্র দুটো উপচে পড়েছে কি না, দেখে আবার শুয়ে পড়তেন।


তিন ছেলে মাঝেমধ্যে মাকে দেখতে আসত। মা তাদের জন্য রান্না করতেন। রাশেদের পাতে একটু বেশি মাংস দিতেন, কামালের জন্য ডাল ঘন করে রান্না করতেন, আর সুমনের থালার পাশে রাখতেন কাঁচা মরিচ। ছেলেরা খেত, তারপর জমিজমার কথা বলতে বলতে চলে যেত।


কেউ মায়ের ঘরের ছাদের দিকে তাকাত না।


একদিন দুপুরে সুমন মায়ের ঘরে এসে দেখল, মা বিছানার চাদর রোদে শুকোতে দিয়েছেন। ঘরের ভেতরে ভেজা মাটির গন্ধ। বালতি আর হাঁড়িতে আগের রাতের বৃষ্টির পানি জমে আছে।


— মা, এভাবে আর কত দিন থাকবে? ঘরটা ঠিক করিয়ে দিই।


মা চাদরের কোণটা মেলে দিতে দিতে বললেন,

— তোদের যখন সময় হয়।


সুমন সেদিনই মিস্ত্রি নিয়ে আসার কথা দিল। ঘরের চাল মেরামত করতে হলে আগে বিছানা, কাঠের বাক্স আর পুরোনো জিনিসপত্র সরাতে হবে। সে বাক্সটা টেনে বের করল। তার পাশে রাখা কয়েকটা বাসন সরাতে গিয়ে চোখে পড়ল ছোট্ট একটা পিতলের পানদানি।


পানদানিটা তার বাবার ছিল।


বাবা খাওয়ার পর পান মুখে দিয়ে জানালার পাশে বসতেন। পানদানিটা বিছানার মাথার কাছে রাখতেন, আর মা রাতে ঘর গোছানোর সময় সেটি সরিয়ে দিতেন। বাবার মৃত্যুর পরও জিনিসটা ওই ঘরেই ছিল।


সুমন পানদানিটা হাতে তুলে দেখল। তলার দিকে একটা ফুটো। সে আঙুল দিয়ে ছুঁয়ে দেখল, তারপর পাশের বালতির পানিতে একটু ঢেলে পরীক্ষা করল। পানি ধরে রাখার ক্ষমতা নেই। তলা দিয়ে টুপটুপ করে পড়তে লাগল।


সে অবাক হয়ে পানদানিটার দিকে তাকিয়ে রইল। এতগুলো বাসনের মধ্যে মা এটাকে কেন রেখেছেন, সেটাই বুঝতে পারল না।


মা দরজায় এসে দাঁড়িয়েছিলেন। সুমনের হাতে পানদানিটা দেখে বললেন,


— ওটা ওখানেই রাখিস।


— এটা তো ফুটো, মা। পানি রাখলে পড়ে যায়।


মা একটু এগিয়ে এসে পানদানিটা তার হাত থেকে নিলেন। তারপর বালতি আর হাঁড়ির মাঝখানে আগের জায়গায় রেখে দিলেন।


— ওটা সরাস না। ওটা তোর বাবার।


সুমন আর কিছু বলল না।


ঘরের চালের ওপর তখন মিস্ত্রিরা টিন মাপছিল। একজন নিচে নেমে এসে জানতে চাইল, বিছানাটা কোথায় রাখবে। সুমন মায়ের দিকে তাকাল। মা পানদানিটার পাশে জমে থাকা পানি কাপড় দিয়ে মুছছিলেন।


সুমন বালতি আর হাঁড়ি দুটো বাইরে নিয়ে রাখল। তারপর পানদানিটা দুই হাতে তুলে বিছানার মাথার কাছে, পুরোনো জায়গায় রেখে দিল।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1435 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 29003। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 5021
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
বাবার পুরোনো জুতো মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন আবেগঘন ছোটগল্প। ১৯ অক্টোবর ২০২৬ অফিসের অ&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
মায়ের বাক্সের তালিকা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন মায়ের আত্মত্যাগের ছোটগল্প ১৯ অক্টো&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সিরিজ -আমাদের না-বলা কথা। গল্প-০২ পুরোনো জুতোর সেলাই মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ছোট গল্&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
41 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সিরিজ-শব্দহীন পৃথিবীর গল্প গল্প-১ আমাদের নীরব ঘর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ২১ জুলাই, ২[...] বিস্তারিত পড়ুন...
57 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বাবার পুরোনো ঘড়ি    মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প। ২৭ জুন, ২০২৬   বাবার সবচেয়ে [...] বিস্তারিত পড়ুন...
53 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1419 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    7 মন্তব্য

    69 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    126 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. জামিনুল রেজা

    83 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    82 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

...