জীবন মানে কী
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
বিশ্লেষণধর্মী | ফেব্রুয়ারি ০১,২০২৬
জীবন মানে কী—এই প্রশ্নটা হঠাৎ আসে না।
এটা আসে তখনই, যখন সব চলছে, অথচ ভেতরে কিছু থেমে আছে।
“জীবন মানে কী?
ক্লান্তিহীন গগনে নিশ্চুপ আঁধার;
শ্রান্তিহীন চোখে অবিরত স্বপ্ন;
নিষ্পলক চেয়ে থাকা—
না কি জীবন মানে মৃত্যুর অনুপস্থিতি?”
লাইনগুলো পড়লে প্রথমে শব্দ ধরা পড়ে না, ধরা পড়ে এক ধরনের নীরব চাপ। যেন কিছু বলা হচ্ছে না, তবু অনেক কিছু উপস্থিত।
ক্লান্তিহীন গগন—এই কথাটা আশ্বস্ত করে না, বরং অস্বস্তি তৈরি করে। কারণ ক্লান্তি না থাকা মানেই শান্তি নয়। কখনো কখনো ক্লান্তিহীনতাই সবচেয়ে দীর্ঘ বোঝা। আকাশ এখানে বিশাল, কিন্তু আলো নেই। জীবনও তেমন—চলমান, অথচ প্রশ্নহীন নয়।
নিশ্চুপ আঁধার শব্দ করে না। অথচ তার ওজন আছে। জীবনের অনেক সময় এমন—কোনো নাটক নেই, কোনো বিপর্যয়ও নেই, তবু ভেতরে জমে থাকে অচেনা ভার। আমরা তাকে নাম দিতে পারি না, শুধু বহন করি।
তারপর আসে চোখ।
শ্রান্তিহীন চোখ—যে চোখ অবিরত স্বপ্ন দেখে।
স্বপ্ন এখানে সাফল্যের তালিকা নয়। বরং একটা জেদ। বাস্তবতা বারবার থামাতে চাইলেও চোখ থামে না। আমি নিজেও টের পেয়েছি—কিছু স্বপ্ন আমি চাইনি, তবু তারা থেকে গেছে। হয়তো চোখের কাজই থেমে না যাওয়া।
নিষ্পলক চেয়ে থাকা সবচেয়ে বিপজ্জনক লাইন। কারণ এটা সক্রিয়তাও হতে পারে, পালানোও হতে পারে। স্থির দৃষ্টির আড়ালে কখনো গভীর ধৈর্য থাকে, কখনো নিঃশব্দ আত্মসমর্পণ। বাইরে থেকে দুইটাই একই রকম দেখায়।
এক সময় আমি ভেবেছিলাম, অপেক্ষা মানেই শক্ত থাকা। পরে বুঝেছি—সব অপেক্ষা সাহসী নয়। কিছু অপেক্ষা শুধু সময় পার করার কৌশল।
শেষ প্রশ্নটা সবকিছু ভেঙে দেয়:
জীবন কি মৃত্যুর অনুপস্থিতি?
হয়তো।
কিন্তু শুধু তাই হলে জীবন খুব হালকা হয়ে যেত। মৃত্যুর অনুপস্থিতি মানেই যদি জীবন হয়, তবে প্রতিটা শ্বাস শুধু বিলম্ব। অথচ আমরা জানি, কিছু মুহূর্ত আছে যেগুলো বিলম্ব নয়—ওগুলো উপস্থিতি।
এই কবিতার লাইনগুলো কোনো সংজ্ঞা দেয় না। বরং সন্দেহ রেখে যায়। জীবন হয়তো নীরবতা, স্বপ্ন আর চেয়ে থাকার মাঝখানে কোথাও। নিশ্চিত না, সম্পূর্ণ না—তবু চলমান।
জীবনের সংজ্ঞা হয়তো আলাদা করে খুঁজতে হয় না।
হয়তো আমরা যেভাবে প্রশ্নটা বহন করি, সেটাই জীবন।
#জীবনমানেকী #জীবনেরদর্শন
#অবিরতস্বপ্ন #মৃত্যুরঅনুপস্থিতি #জীবনবিশ্লেষণ
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।