Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

গল্প৩-মানুষটা কখনো না বলেনি

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
56 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,603 পয়েন্ট)   10 অগাস্ট "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

সিরিজের নামঃ- নিজের জীবনটাও ছিল

গল্প৩-মানুষটা কখনো না বলেনিimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্প । ১০ আগষ্ট, ২০২৬


সে কখনো কাউকে না বলতে পারেনি। শুধু নিজের জীবনটাকেই রোজ একটু একটু করে না বলে গেছে।


অভিক মানুষটা এমনই। অফিসে কেউ বাড়তি কাজ চাপিয়ে দিলে না করতে পারে না। বাড়িতে নিশি কিছু বললে, মেঘ আর মিশি কিছু চাইলে তার মুখে সেই একই কথা—“আচ্ছা, দেখি।” 


যেন কাউকে ফিরিয়ে দেওয়া তার স্বভাবের বাইরে। অন্যের প্রয়োজনটা তার কাছে সবসময় একটু বেশি জরুরি মনে হয়, আর নিজের প্রয়োজনটা কখন যে তালিকার একেবারে নিচে চলে গেছে, সে নিজেও খেয়াল করেনি।


মেঘের কলেজের ফি দিতে হবে বলে নিজের নতুন শার্ট কেনাটা পিছিয়ে দেয়। মিশিকে আঁকার ক্লাসে ভর্তি করাতে হবে বলে পুরোনো জুতোটাই আরেকটু চালিয়ে নেয়। 

নিশি একদিন বলেছিল, 

“এই মাসে একটু কোথাও ঘুরে আসি?” 

অভিক হেসে বলেছিল, “এই খরচগুলো মিটুক, তারপর যাব।” 

সেই “তারপর” কথাটা কত বছর ধরে যে তাদের সঙ্গে আছে, তার কোনো হিসাব নেই।


অভিকের নিজেরও একটা শখ ছিল—গিটার বাজানো। অনেক বছর আগে নিজের জমানো টাকা দিয়ে গিটারটা কিনেছিল। তখন সন্ধ্যায় অফিস থেকে ফিরে বারান্দায় বসে বাজাত। নিশি রান্নাঘর থেকে শুনত, মেঘ ছোট ছিল, মিশি তখনও জন্মায়নি। সময়ের সঙ্গে সংসার বড় হয়েছে, খরচ বেড়েছে, দায়িত্ব বেড়েছে। গিটারটা একদিন আলমারির মাথায় উঠে গেল। মাঝে মাঝে ধুলো ঝাড়তে গিয়ে অভিক হাত বুলিয়ে দেয়, কিন্তু নামায় না। 

নিজের কাছেই বলে, “সময় কোথায়?”


তাকে সবাই ভালো মানুষ বলে। দায়িত্ববান, সংসারী, নির্ভরযোগ্য। কথাটা ভুলও নয়। কিন্তু মানুষকে শুধু তার দায়িত্ব দিয়ে মাপলে তার ভেতরের ক্লান্তিটা দেখা যায় না। অভিক খুব ক্লান্ত থাকলেও মুখে সেটা প্রকাশ করে না। 

নিশি মাঝে মাঝে জিজ্ঞেস করে, 

“তুমি এত চুপচাপ কেন?” 

অভিক হেসে বলে, “কিছু না।”

 এই “কিছু না” কথাটা বলতে বলতে একসময় সেটাই তার অভ্যাস হয়ে গেছে।


নিজের কষ্টের কথা বললে সংসারে চাপ বাড়বে—এই ভয়টা তার ভেতরে অনেকদিনের। মেঘের পড়াশোনা আছে, মিশির ভবিষ্যৎ আছে, নিশির নিজেরও কিছু ছোট ছোট ইচ্ছে আছে। সবার সামনে নিজের ক্লান্তিটাকে তুলে ধরতে তার কেমন যেন সংকোচ হয়। মনে হয়, এত মানুষের এত কিছু সামলাতে হচ্ছে, তার আবার আলাদা করে কষ্ট দেখানোর কী আছে? তাই চুপ থাকে। শক্ত থাকার চেষ্টা করে। কিন্তু শক্ত থাকতে থাকতে ভেতরের মানুষটাও যে ধীরে ধীরে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, সেটা কাউকে বলে না।


একদিন অফিস থেকে ফিরে অভিক সোফায় বসেছিল। টিভি চলছিল। এক কোণে মিশি পড়ছিল, রান্নাঘরে নিশি ব্যস্ত। ঘর ভর্তি আপন মানুষ। তবু সেদিন হঠাৎ তার মনে হলো, সে ভীষণ একা। কারও সঙ্গে কথা বলার মতো কোনো বিশেষ কথা নেই। শুধু মনে হলো, অনেকদিন ধরে সে নিজের সঙ্গে বসে কথা বলেনি। জীবনে কাউকে না বলতে না বলতে নিজের ইচ্ছেগুলোকেই কতবার যে থামিয়েছে, তার হিসাব নেই।


ঠিক তখন মেঘ এসে পাশে বসল। কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, “বাবা, তুমি সবসময় আমাদের জন্য করো। তুমি কখনো নিজের জন্য কিছু চাও না?”


অভিক মেয়ের দিকে তাকিয়ে রইল। এত সহজ একটা প্রশ্নের উত্তর তার মাথায় এল না।


দরজার কাছে দাঁড়িয়ে নিশি কথাটা শুনেছিল। সে এসে অভিকের পাশে বসল। কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, 

“সবাইকে দিতে দিতে তুমি নিজেকেই যেন ভুলে যাচ্ছ।”


অভিক হেসে উড়িয়ে দিতে চেয়েছিল। পারল না।


সেদিন রাতে অনেকদিন পর সে আলমারির মাথা থেকে গিটারটা নামাল। ধুলো মুছতে মুছতে নিজের অজান্তেই হেসে ফেলল। তারগুলো একটু ঢিলে হয়ে গেছে। আঙুল রাখতেই পুরোনো সুরের বদলে কর্কশ একটা শব্দ বের হলো। অভিক আবার চেষ্টা করল। এবারও ঠিক হলো না। তবু গিটারটা নামিয়ে রাখল না।


বারান্দায় বসে সে অনেকক্ষণ বাজাল। সুর পুরোপুরি ঠিক ছিল না। কোথাও কোথাও বেসুরো হয়ে যাচ্ছিল। পাশের ঘর থেকে নিশি একবার তাকিয়ে মৃদু হাসল।


অভিকও হাসল।


সেদিন সে কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেয়নি। শুধু এতটুকু বুঝেছিল—সংসারের মানুষগুলোর জন্য থাকা জরুরি, কিন্তু নিজের জীবনটা পুরোপুরি সরিয়ে রেখে নয়।


সবসময় “আচ্ছা, দেখি” বলতে বলতে একদিন যদি নিজের কাছেই প্রশ্ন আসে—“আমার কী চাই?”—তখন তার উত্তরটাও জানা দরকার।


অভিক সেদিন প্রথমবার নিজের জন্য একটা সন্ধ্যা রেখে দিল।


খুব ছোট একটা ব্যাপার।


কিন্তু অনেকদিন পর সেটাই ছিল তার নিজের।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1366 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27603। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4653
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
সম্পর্কের সত্যি কখনো পোস্ট হয় না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  বিশ্লেষণধর্মী। ০১ জুলাই, &#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
49 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

 যে চিঠিগুলো কখনো শেষ হয় না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী। মে ১২, ২০২৬ রঞ্জন &[...] বিস্তারিত পড়ুন...
456 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নীরব মানুষটার শেষ সীমা   পর্ব–১ : কথা বলতে বলতে মানুষটা একদিন চুপ হয়ে গেল   একটি ধা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
47 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলা গল্প-৪ যে মানুষটা আমাকে চিনত মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প [...] বিস্তারিত পড়ুন...
40 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অচেনা মানুষটা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প।  ২৩ জুন,২০২৬ সাবেরা বেগম কখনো ভাবে÷[...] বিস্তারিত পড়ুন...
97 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1504 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    74 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. রফিক আতা

    350 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    17 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    125 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. অমিত দত্ত দিলু

    124 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

...