Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

সিরিজ-শব্দহীন পৃথিবীর গল্প গল্প-১ আমাদের নীরব ঘর

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
2 বার প্রদর্শিত
করেছেন (23,187 পয়েন্ট)   5 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

সিরিজ-শব্দহীন পৃথিবীর গল্প

গল্প-১ আমাদের নীরব ঘরimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন 

২১ জুলাই, ২০২৬


আমাদের ঘরে প্রতিদিনের সকাল শুরু হয় একইভাবে। চায়ের কাপের টুংটাং শব্দে, খবরের কাগজের খসখস আওয়াজে। এই চেনা শব্দের ভিড়ে একজন মানুষ একেবারেই আলাদা, আমাদের আট বছরের ছেলে আয়ান।


সকাল হলেই ও গিয়ে দাঁড়ায় বারান্দার গ্রিলের পাশে। গ্রিল গলে নরম রোদ এসে ওর মুখে পড়ে। ও নড়ে না, চোখ সরায় না। চুপচাপ দাঁড়িয়ে রোদের দিকে তাকিয়ে থাকে। কোনো তাড়া নেই, কোনো অস্থিরতা নেই।


আয়ান কথা বলে না। জন্মের পর থেকে আজ পর্যন্ত ওর মুখ থেকে একটা শব্দও আমরা শুনিনি। ডাক্তার, পরীক্ষা, থেরাপি, কোথায় না ছুটেছি আমরা। শেষমেশ সত্যটা মেনে নিতে হয়েছে, আয়ান অটিস্টিক। ও কথা বলবে না।


আর তখন থেকেই আমাদের মনে একটা সংশয় দানা বেঁধেছিল। আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীর কথায় সেই সংশয় আরও ভারী হতো। আয়ান কি আমাদের কথা বোঝে? ও কি ভালোবাসা বোঝে, কষ্ট বোঝে? নাকি ও নিজের ভেতরের কোনো দূর দেশে একা আটকে আছে, কাঠের পুতুলের মতো?


রাতের পর রাত এই ভাবনাটা ঘুম কেড়ে নিত। আয়ানের বাবা মারুফ জানালার দিকে তাকিয়ে জেগে থাকত। ওর একটাই কষ্ট, ছেলেটা কোনোদিন আমাদের 'বাবা' বা 'মা' বলে ডাকবে না? কোনোদিন কিছু চাইবে না?


আমাদের বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা এই ভুল ধারণাটা এক বিকেলেই ভেঙে গুঁড়িয়ে গেল।


তখন বর্ষার শেষ। আকাশ মেঘলা, টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে। আমাদের পোষা বিড়াল মিনি দুই দিন ধরে খুব অসুস্থ। কিছুই খাচ্ছে না। ড্রয়িংরুমের সোফার নিচে অন্ধকার কোণে গুটিসুটি মেরে পড়ে আছে। সকালে পশু চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়েছিলাম। ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে, ওষুধও দিয়েছে। কিন্তু মিনির চোখ দুটো নিভে আসছিল। বাঁচার কোনো ইচ্ছাই যেন ওর ভেতরে অবশিষ্ট নেই। আমি বারবার একটা বাটিতে একটু দুধ নিয়ে ওর মুখের সামনে ধরছিলাম। ও মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছিল।


আমরা সবাই ধরে নিয়েছিলাম, মিনিকে আর বাঁচানো যাবে না। ঘরজুড়ে একটা থমথমে শোক নেমে এসেছিল।


ঠিক তখনই আয়ান ধীর পায়ে করিডোর পেরিয়ে ড্রয়িংরুমে এল।


ওর পায়ে কোনো শব্দ ছিল না। আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। মনে হয়েছিল, ও না বুঝে মিনিকে টেনে বের করবে, ব্যথা দেবে। আমি ওকে থামাতে যাচ্ছিলাম। মারুফ আমার হাত ধরে ফিসফিস করে বলল, "থাক, দেখি ও কী করে।"


আয়ান সোফার সামনে এসে হাঁটু গেড়ে বসল। আমরা সবাই নিঃশ্বাস বন্ধ করে তাকিয়ে আছি।


ও কোনো শব্দ করল না। কোনো তাড়াহুড়ো করল না। খুব স্বাভাবিকভাবে ওর ছোট দুটো হাত বাড়িয়ে দিল সোফার নিচে, সেই অন্ধকার কোণের দিকে।


ওর নরম হাত দুটো গিয়ে পড়ল মিনির পিঠে আর পেটের ওপর। আলতো করে ছুঁয়ে দিল। তারপর মুখটা নিচু করে একদম সোজা তাকাল মিনির চোখের দিকে।


বিশ্বাস করুন, আমি কোনো গল্প বানাচ্ছি না। ওই মুহূর্তে ঘরের বাতাসটাই যেন বদলে গেল। আয়ান পলক না ফেলে, একটুও না নড়ে তাকিয়ে রইল মিনির চোখের গভীরে। ওদের মধ্যে কোনো কথা ছিল না, কোনো ডাকাডাকি ছিল না। তবু মনে হচ্ছিল, দুটো নীরব প্রাণ তাদের ভেতরের সমস্ত যন্ত্রণা, একাকিত্ব আর কষ্ট একটা অদৃশ্য ভাষায় একে অন্যকে বুঝিয়ে দিচ্ছে।


আয়ানের আঙুলগুলো আস্তে আস্তে মিনির কানের পেছনে বিলি কাটতে লাগল।


আর তখনই অলৌকিক ঘটনাটা ঘটল। পাঁচ মিনিট আগেও যে বিড়ালটা মরার মতো পড়ে ছিল, সে কেঁপে উঠে ক্ষীণ একটা শব্দ করল। তারপর ধীরে ধীরে দুর্বল শরীরটা টেনে সোফার নিচ থেকে মাথাটা বের করে আনল। আয়ানের হাতের তালুতে নিজের মুখটা ঘষতে লাগল।


আয়ান ওর থুতনির নিচে আঙুল বুলিয়ে দিতেই মিনি হেলেদুলে উঠে দাঁড়াল। গিয়ে আমার রেখে দেওয়া দুধের বাটিতে মুখ দিল।


আমরা ড্রয়িংরুমে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকটা মানুষ একেবারে পাথর হয়ে গিয়েছিলাম। মারুফের চোখ থেকে টপটপ করে জল পড়ছিল। আমার গলার কাছে কান্না দলা পাকিয়ে আটকে ছিল।


আমরা এতদিন কত ভুল ভেবেছি। ভেবেছি, কথা বলতে না পারা মানেই ভেতরে কোনো অনুভূতি না থাকা। ভেবেছি, যে সন্তান আমাদের ভাষার ব্যাকরণ বোঝে না, সে পৃথিবীর কোনো আবেগই বোঝে না।


সেদিন চোখের সামনে থেকে পর্দাটা সরে গেল।


আমরা বুঝলাম, অটিস্টিক শিশুরা আমাদের মতো শব্দ দিয়ে নিজেদের সাজায় না ঠিকই, কিন্তু অনুভূতির যে গভীরে আমরা পৌঁছাতে পারি না, ওরা অনায়াসে সেখানে পৌঁছে যায়। আমরা যেখানে শব্দের জালে আটকে থেকে অন্যের চোখের ভাষা, মনের কষ্ট এড়িয়ে যাই, ওরা সেখানে এক পলকের দৃষ্টি আর একটুখানি ছোঁয়াতেই সব বুঝে নেয়। ওদের নীরবতার ভাষা আমাদের শেখানো ভাষার চেয়ে অনেক বেশি সত্যি, অনেক বেশি গভীর।


দুধটুকু শেষ করে মিনি এসে আয়ানের কোল ঘেঁষে বসল। আয়ান ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে আমার দিকে তাকাল। ওর মুখে কোনো কথা ছিল না, কিন্তু ঠোঁটের কোণে লেগে ছিল এক চিলতে হালকা, স্নিগ্ধ হাসি।


ওই একটুখানি হাসির সামনে আমাদের বুকের ভেতর বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা সব ভয়, সব দুশ্চিন্তা, সব কষ্টের পাথর এক মুহূর্তে ধুলো হয়ে উড়ে গেল।


আমাদের নীরব ঘরের নীরব ছেলেটা কোনো কথা না বলেও সেদিন জীবনের সবচেয়ে বড় সত্যটা শিখিয়ে দিল, ভালোবাসতে আর অন্যকে বুঝতে সবসময় মুখের শব্দ লাগে না, শুধু একটা খোলা হৃদয় লাগে।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 9 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1148 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 23187। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4276
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
সিরিজ-শব্দহীন পৃথিবীর গল্প গল্প-২ সুরের ছোঁয়া মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ২১ জুলাই, ২০ý[...] বিস্তারিত পড়ুন...
4 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশি উপাখ্যান সিরিজ গল্প-১ আমার হয়ে বেঁচো না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ২৮,জুন, ২০২৬ ব&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
14 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নীরব মানুষটার শেষ সীমা   পর্ব–১ : কথা বলতে বলতে মানুষটা একদিন চুপ হয়ে গেল   একটি ধা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
9 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশি উপাখ্যান সিরিজ   গল্প-১০   একাকীত্বের শান্তি   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   যেদ&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
19 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশি উপাখ্যান সিরিজ   গল্প-৯   হাসিটা কোথায় হারাল    মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ২৯, জ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
17 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1718 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    85 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    124 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. শামীমা আকতার

    43 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  4. মাহাতাব হোসেন অপল

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

...