অর্থহীনতার আগে
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্য কবিতা। ২১ জুলাই, ২০২৬
একদিন মনে হতো,
দিগন্তের ওপারেই ভালোবাসার দেশ আছে।
এখন বুঝি, দিগন্ত শুধু চোখের সীমানা সরিয়ে দেয়, পথ ফুরায় না।
যে মেয়েটি একদিন চুলে বৃষ্টি মেখে আয়নার সামনে দাঁড়াত,
তার চোখের কোণে এখন কয়েকটি অদৃশ্য সন্ধ্যা ঘর বেঁধেছে।
যে ছেলেটি একদিন বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে রাস্তায় হাঁটত,
তার পকেটে এখন ওষুধের প্রেসক্রিপশন আর কয়েকটা অসমাপ্ত হিসেব পড়ে থাকে।
কোন বয়সে এসে মানুষ টের পায়,
সব প্রতিশ্রুতিরই একটা মেয়াদ থাকে?
কোন সকাল থেকে কবিতার শব্দগুলো
কাগজেই থেকে যায়, আর হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছায় না?
অনেক মুখ এসেছে জীবনে,
অনেক নাম সময়ের ভিড়ে মুছে গেছে।
শুধু কিছু নীরবতা রয়ে গেছে,
যাদের কোনো ভাষা নেই,
অথচ তারাই সবচেয়ে স্পষ্ট।
জীবন আসলে বড় কোনো বিস্ময় নয়,
ছোট ছোট অভ্যাসের দীর্ঘ পুনরাবৃত্তি মাত্র।
আর মৃত্যু,
হয়তো একটা দরজা,
যা কোনো শব্দ না করেই খুলে যায়।
এখন আর উত্তর খুঁজি না।
প্রশ্নগুলোকেও আগের মতো আপন মনে হয় না।
শুধু সন্ধ্যা নামলে মনে হয়,
যা সত্যিই ছিল, তা কখনো বলা হয়ে ওঠেনি।
মানুষ শেষ পর্যন্ত স্বপ্নে বাঁচে না,
বাঁচে কয়েকটি অসমাপ্ত স্মৃতির ভেতর।
আর একদিন,
সেই স্মৃতিগুলোও নিঃশব্দে আলো বদলে ফেলে।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।