কেউ কখনো বলে না, ভালোবাসা কোন দিন আসবে, কোন মুহূর্তে এসে নিঃশব্দে জীবন পাল্টে দেবে। শুধু এক সেকেন্ডেই সব বদলে যেতে পারে—হাসি, ভয়, প্রত্যাশা, পুরো ভবিষ্যৎ।
যেদিন তাকে দেখেছিলাম, সেদিন বুঝেছিলাম—ভালোবাসা হঠাৎ করেই আসে
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
ছোটগল্প ⋄ ২৮ নভেম্বর ২০২৫
সেদিনও আমি এমনই ছিলাম—ব্যস্ত, ক্লান্ত, ভালোবাসায় বিশ্বাসহীন। কিন্তু সেই বিকেলে, অচেনা এক মেয়েকে দেখে বুঝলাম, কিছু অনুভূতি মানুষ চাইলেও এড়িয়ে যেতে পারে না।
বৃষ্টির পরে ভেজা রাস্তায় হাঁটছিলাম। কফিশপটার সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই চোখে পড়ল তাকে। লাল শাড়ি নয়, ভারী মেকআপ নয়—সাধারণ, তবুও অদ্ভুত শান্ত সৌন্দর্য। চুলগুলো অগোছালো, হাতে বই, আর চোখ দুটো যেন অন্য কোথাও হারিয়ে আছে। আমি অজান্তে তাকিয়ে ছিলাম, আর ঠিক সেই মুহূর্তেই সে মাথা ঘুরিয়ে তাকাল।
আমার বুকের ভেতর যেন কারা দরজা খুলে দিয়ে গেল।
আমি হাসিনি। সে-ও হাসেনি। কিন্তু চোখের ভাষা বলে দিল—কিছু একটা ঘটেছে। কেউ কিছু বলেনি, তবুও এমন অনুভূতি হল যেন আমরা দুজন একে অপরকে বহুদিন ধরে চিনি, আবার বহুদিন ধরে যেন হারিয়েও ছিলাম।
আমি সাহস করে কফিশপে ঢুকলাম। বিস্ময়করভাবে দেখলাম, সে-ও ভেতরে এল। ভিড় থাকা সত্ত্বেও ঠিক আমার পাশের টেবিলটাই খালি ছিল, এবং সে সেটিই বেছে নিল। ভাগ্যের সাথে এতো সুন্দর সহযোগিতা কি হয়!
দুজনেই বই খুলে পড়া শুরু করলাম, তবু মন পড়ায় না—মন বারবার পাশের মানুষটাকে দেখতে চায়। কয়েক মিনিট পর সে কফিতে চিনি চাইল, আমি এগিয়ে দিলাম। সে আলতো গলায় বলল—“ধন্যবাদ।”
সেই একটি শব্দও অসম্ভব কোমল।
আমি জানি, সাধারণ মানুষ হয়তো এখানেই থেমে যেত। কিন্তু আমার ভেতরে ভয় ছিল—একসময় না বলার কারণে অনেক কিছু হারিয়েছি। তাই এবার থামিনি। বললাম, “আপনি কি প্রথমবার এখানে আসলেন?”
সে একটু হাসল, বলল, “হ্যাঁ। তবে জায়গাটা ভালো লেগেছে।”
সেদিন আমরা অচেনা মানুষ থেকে আলাপচারিতায় ডুবে গেলাম। প্রিয় গান, ভ্রমণ, ভয়ের গল্প, স্বপ্ন—কিছুই বাদ গেল না। যেন দুজনেই বেশ কিছুদিন ধরে এমন একজনকে খুঁজছিলাম, যার কাছে নিজের ভেতরের মানুষটা লুকাতে হয় না।
সময় কেটে গেল, কিন্তু বিদায় নেওয়ার সময় এলো। সে বেরিয়ে দরজার দিকে হাঁটছিল, আর আমি ভাবছিলাম—“হয়তো এটাই শেষ দেখা।” হাত কাঁপছিল, বুক ভারী লাগছিল।
ঠিক তখন সে থেমে গেল, ফিরল, আর বলল—
“আমার ধারণা, আজকে দেখা হওয়ার কথা ছিল। নাহলে দুজনেই এখানে আসতাম না।”
তার চোখে লুকোনো অনুভূতি ছিল, আর সেই বাক্যে আশার দরজা খুলে গেল। আমি বললাম—
“তেমন হলে… আবার দেখা হওয়াও হয়তো ঠিকই হবে।”
সে মাথা নিচু করে হালকা হাসল। তারপর নিজের নম্বরটা আমার হাতে ধরিয়ে চলে গেল। কোনো নাটকীয় বিদায় নয়। কোনো প্রতিশ্রুতি নয়। কিন্তু সেই কাগজের ছোট্ট নম্বরটাই যেন পুরো পৃথিবী বদলে দিল।
বাড়ি ফিরে ফোনটা অনেকবার হাতে নিয়েও কল করিনি। ভেবেছিলাম—অতি তাড়া দেখালে হয়তো অনুভূতিটা নষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু পরের দিন সে-ই মেসেজ করল—
“চা খেতে কবে দেখা হবে?”
দুনিয়ায় হাজার সম্পর্ক আছে—কেউ তর্কে বাঁধা, কেউ বাধ্যতায়, কেউ অভ্যাসে। কিন্তু কিছু সম্পর্ক আছে যা তৈরি হয় প্রথম দেখার অনুভূতি থেকেই। সেখানে যুক্তি নয়, ব্যাখ্যা নয়—শুধু অদৃশ্য টান কাজ করে।
এখনও ভাবি—যদি সেদিন ভয় পাইতাম, কিছু না বলতাম?
যদি ভাগ্যের সুযোগকে যেতে দিতাম?
হয়তো জীবন সম্পূর্ণ ভিন্ন হত।
ভালোবাসা কাউকে জোর করে আসে না, অপেক্ষা করেও আসে না।
এটা চলে আসে ঠিক সেদিন — যখন মানুষ তা আশা করে না।
কেউ যদি তোমার জীবনে সেইরকম অনুভূতি নিয়ে আসে, ভয় পেয়ো না। হারানোর ভয় নয়—পাওয়ার সাহসটা রাখো।
কমেন্টে শুধু লিখো — “ভালোবাসা বিশ্বাস করি” — যদি তুমি এখনো সেই অলৌকিক প্রথম দেখার অনুভূতিতে বিশ্বাস রাখো।
#ভালোবাসা
#প্রথমদেখা
#রোমান্স
#হৃদয়েরগল্প
#BanglaStory
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।