আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
বাইবেলের আলোকে প্রমাণ: যীশু কোনো পাপীর জন্য প্রাণ দেননি, আর রক্ত কখনো পাপ মোচন করতে পারে না এবং যীশু শ্রেষ্ঠ নন
খ্রিস্টানরা বলে যীশু নাকি পাপীদের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, আর তার রক্ত নাকি পাপ মোছে দেয় এবং খ্রিষ্টানরা যীশুকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করার জন্য ওঠে পরে লেগেছে... ।
কিন্তু এই তিন দাবিই বাইবেল নিজের ভাষায় সম্পূর্ণ অস্বীকার করে।
নিচে সরাসরি বাইবেল থেকে পরিষ্কার প্রমাণ করে দিচ্ছি যে খ্রিষ্টানদের করা দাবিগুলো ভুল।
প্রথম অংশ: যীশু পাপীদের জন্য প্রাণ দেননি
১. যীশু নিজেই বলেছেন তাঁর কাজ শুধু ঈশ্বরের বার্তা প্রচার করা, পাপ বহন করা নয়-
“আমার কর্তব্য হচ্ছে ঈশ্বরের রাজ্যের সুসমাচার প্রচার করা।”
(লূক ৪:৪৩)
২. যীশু বলেছেন, প্রত্যেকে তার নিজের কাজের প্রতিফল পাবে-
“প্রত্যেকে তার নিজের কাজ অনুসারে প্রতিফল পাবে।”
যদি প্রত্যেকে নিজের কাজের প্রতিফল পায়, তবে যীশু অন্যের পাপ বহন করছেন এটা অসম্ভব। (মথি ১৬:২৭)
৩. ঈশ্বর স্পষ্ট বলেছেন, কেউ অন্যের পাপ বহন করতে পারে না-
“পুত্র পিতার পাপ বহন করবে না, পিতাও পুত্রের পাপ বহন করবে না।” ( ইজেকিয়েল ১৮:২০)
এই আয়াতই যীশু পাপ বহন করেছেননএ ধারণাকে সম্পূর্ণভাবে বাতিল করে।
দ্বিতীয় অংশ: রক্ত কখনোই পাপ মোচন করতে পারে না
১. ঈশ্বর বলি বা রক্ত চান না-
“আমি দয়া চাই, বলি নয়"( হোশেয়া ৬:৬)
২. ঈশ্বর বলি গ্রহণ করেন না, বরং চান ধার্মিক জীবন-
“তুমি বলি ও উৎসর্গ কামনা করনি "( গীতসংহিতা ৪০:৬)
৩.“বলি দেওয়ার চেয়ে ন্যায়পরায়ণতা ও ন্যায়ের কাজই ঈশ্বরের কাছে উত্তম।” ( নীতিবচন ২১:৩)
৪. নিউ টেস্টামেন্টও স্বীকার করে যে রক্ত পাপ দূর করতে পারে না-
“ষাঁড় ও ছাগলের রক্ত পাপ দূর করতে পারে না।”
যদি পশুর রক্ত পাপ দূর করতে না পারে, তবে যীশুর রক্ত কোন নিয়মে ব্যতিক্রম হবে বাইবেল তা কখনো বলেনি" (ইব্রীয় ১০:৪)
৫. যীশু যখন ক্ষমার উপায় শেখিয়েছেন, সেখানে রক্ত বা ক্রস কোনোটিই নেই-
“তোমরা মানুষকে ক্ষমা করলে, তোমাদের স্বর্গীয় পিতাও তোমাদের ক্ষমা করবেন।”
ক্ষমা পাওয়া নির্ভর করছে নৈতিক আচরণের ওপর, রক্তের ওপর নয়" ( মথি ৬:১৪–১৫)
তৃতীয় অংশ : যীশু শ্রেষ্ঠ নন
১) যীশু বলেছেন: ইয়াহইয়া তাঁর থেকেও শ্রেষ্ঠ -
আমি তোমাদের সত্যি বলছি, স্ত্রীলোকের গর্ভে যত মানুষের জন্ম হয়েছে তাদের মধ্যে বাপ্তিস্মদাতা য়োহনের চেয়ে কেউই মহান নয়, তবু স্বর্গরাজ্যের কোন ক্ষুদ্রতম ব্যক্তিও য়োহনের থেকে মহান৷ (মথি ১১:১১)
[ এই একটা ভার্স দিয়েই প্রমাণ হয়ে যাচ্ছে যে যীশু শ্রেষ্ঠ না বরং তার চেয়েও শ্রেষ্ঠ মানুষ আছে.... ]
২) যীশু জ্ঞানহীন ছিলেন (মার্ক ১৩:৩২), কিন্তু অনেক নবী ভবিষ্যৎ জানতেন
যেমন দানিয়েল, ইজেকিয়েল, যিশাইয়া।
৩) যীশু নিজেকে “ভালো” বলতে মানা করেছেন
মথি ১৯:১৭
যেখানে অন্য নবীদের ঈশ্বর “ভালো” বলে উল্লেখ করেছেন।
অতএব বাইবেল নিজেই প্রমাণ করে: যীশুর চেয়েও শ্রেষ্ঠ মানুষ আছে, আর এই জন্য খ্রিস্টানদের উচিত উল্টাপাল্টা কথা না বলে পড়ালেখা করতে....... ।
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।