আলোর আড়ালে যে মানুষটি থাকে
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্য কবিতা
গদ্য কবিতা। ২১ জুলাই, ২০২৬
রাতের শহর আমাকে কখনো আশ্রয় দেয়নি,
তবু তার ফাঁকা রাস্তাগুলো আমার পদচিহ্ন চিনে রেখেছে।
যে ল্যাম্পপোস্টগুলোর নিচে দাঁড়িয়ে
অকারণ ভয়গুলো একটু একটু করে নামিয়ে রেখেছিলাম,
সকালের আলোয় তারাই আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছে
আমারই অচেনা মুখ।
আমি ভেবেছিলাম,
আলো মানেই নিরাপত্তা।
পরে দেখলাম,
কিছু আলো কেবল মুখোশ হয়ে থাকে।
যে আলোয় সবাই আমাকে চেনে,
সেই আলোতেই আমি নিজেকে সবচেয়ে কম চিনি।
তখন বুঝেছি,
অন্ধকার শুধু আলোর অভাব নয়,
সে একটা ঘর,
যেখানে মানুষের সব অস্বীকার,
সব না বলা কথা
চুপচাপ পাশাপাশি বসে থাকে।
তাদের কোনো অভিযোগ নেই,
শুধু অপেক্ষা আছে।
আমি বহুদিন কৃত্রিম আলোয়
নিজের সত্যকে আড়াল করতে চেয়েছি।
হাসির ভেতর ক্লান্তি লুকিয়েছি,
কথার ভেতর নীরবতা,
আর ভিড়ের ভেতর লুকিয়েছি নিজের একাকিত্ব।
মনে হতো, কেউ টের পাবে না।
অথচ সবাই টের পায়, শুধু মুখে বলে না।
আকাশের দিকে তাকিয়ে
অসংখ্য পাখির উড়ে যাওয়া দেখেছি,
মনে হয়েছে,
নিশ্চয়তা বলে কিছু নেই এই পৃথিবীতে,
শুধু চলে যাওয়ার ভঙ্গিটা আলাদা।
কেউ শব্দ করে যায়, কেউ নিঃশব্দে।
তবু প্রতিটি ভোর
আমাকে নতুন করে জিজ্ঞেস করে,
আজও কি নিজেকে এড়িয়ে যাবে?
আজও কি অন্যের চোখে নিজেকে খুঁজবে?
আমি কোনো উত্তর দিই না।
কারণ আমি জানি,
মানুষ সবচেয়ে বেশি হারিয়ে যায় অন্ধকারে নয়,
নিজের বানানো আলোতেই হারিয়ে যায়।
যে আলো সে নিজের জন্য বানিয়েছে
অন্যদের দেখানোর জন্য।
আর সেই আলোর আড়ালেই
প্রতিদিন নীরবে জন্ম নেয়
আরও একজন অচেনা মানুষ।
সে আমার মতোই দেখতে,
কিন্তু আমার চেয়ে বেশি সৎ,
আমার চেয়ে বেশি নিঃসঙ্গ।
আমি জানি, একদিন
কোনো এক ক্লান্ত বিকেলে
যখন সব আলো নিভে আসবে,
যখন আর কারও সামনে অভিনয় করার দরকার থাকবে না,
তখন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে
তার সঙ্গেই আমার শেষ পরিচয় হবে।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।