Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

উপন্যাসঃ-ছইয়ের নিচে জীবন গল্প-৩-ছোট্ট শিশুর বড় স্বপ্ন

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
4 বার প্রদর্শিত
করেছেন (24,116 পয়েন্ট)   26 জুলাই "উপন্যাস" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

উপন্যাসঃ-ছইয়ের নিচে জীবন

গল্প-৩-ছোট্ট শিশুর বড় স্বপ্নimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

২৬ জুলাই, ২০২৬


হাতে বই থাকার কথা ছিল, অথচ তার হাতে ধরা ছিল ঝাঁপি।


বিকেলের রোদ তখন কাঁশবনের মাথায় হেলে পড়েছে। নদীর চরে জমে থাকা পাতলা কুয়াশার ভেতর দিয়ে একটা ছোট ছায়া ধীরে ধীরে হেঁটে আসছিল। পরনে হাঁটু পর্যন্ত তোলা ময়লা ধুতি, গায়ে জীর্ণ একটা ফতুয়া। বয়স সাত কি আটের বেশি হবে না। অথচ তার ছোট দুটো কাঁধে ঝুলছে বাঁশের বাঁক, দুই মাথায় দুটো গোল কাঠের ঝাঁপি। চরের মেঠো পথ ধরে বাবার পেছন পেছন হেঁটে চলা এই ছেলেটার নাম সুমন।


এই বয়সী আর দশটা বাচ্চা যখন বিকেলে স্কুল থেকে ফিরে ব্যাগটা কোণে ছুড়ে ফেলে মাঠের দিকে ছোটে, কিংবা কুপির আলোয় বইয়ের পাতায় আঁকাবাঁকা অক্ষরে নিজের নাম লিখতে শেখে, সুমন তখন জীবনের অন্য এক কঠিন অঙ্ক মেলাতে ব্যস্ত। তার ছোট হাত দুটো শক্ত করে ধরে রেখেছে ঝাঁপি, আর ভেতরে কুণ্ডলী পাকিয়ে শুয়ে আছে বিষধর সাপের বাচ্চা। শৈশব বলতে আমরা যে নিষ্পাপ আনন্দ আর বইয়ের গন্ধ বুঝি, সুমনের জীবনে তার ছিটেফোঁটাও নেই।


বেদে বহরের এই যাযাবর জীবন কোনো শিশুর জন্যই সহজ নয়। আজ পদ্মার চরে, কাল মেঘনার মোহনায়, পরশু হয়তো অন্য কোনো অচেনা বাঁকে। নির্দিষ্ট কোনো বাড়ি নেই, স্থায়ী কোনো উঠোন নেই। এই ভাসমান ঘরের ছইয়ের নিচে জন্ম নেওয়া সুমনের মতো শিশুদের কাছে স্কুল বা শিক্ষা যেন রূপকথার গল্পের মতোই দূরের এক কল্পনা। যেখানে ভোর হলেই বেঁচে থাকার লড়াই শুরু হয়, সেখানে বর্ণমালার বই কিনে দেওয়ার সাধ বা সাধ্য কোনোটাই তাদের বাবা-মায়ের থাকে না।


আর সেই সুযোগের অভাবই এই কোমল হাতগুলোতে বইয়ের বদলে তুলে দিয়েছে সাপের ঝাঁপি।


কিন্তু গায়ের জীর্ণ কাপড় কিংবা হাতে ধরা ঝাঁপি দিয়ে কি একটা শিশুর মনের স্বপ্নকে আটকে রাখা যায়? স্বপ্নের কি কোনো সীমানা আছে? নেই। স্বপ্ন দেখার অধিকার সবার সমান — সে শহরের দালানে বড় হওয়া কোনো ধনী ঘরের সন্তান হোক, কিংবা নদীর জলে ভেসে বেড়ানো কোনো নিঃস্ব বেদের ঘরে জন্ম নেওয়া শিশু।


সুমন যখন গ্রামের মোড়ে বাবার পাশে দাঁড়িয়ে সাপের খেলা দেখায়, তখন ভিড়ের মধ্যে স্কুলপোশাক পরা ছেলেদের দিকে সে এমনভাবে তাকায়, তার চোখে এক তীব্র আকুতি খেলা করে। তার সমবয়সী কোনো বাচ্চা যখন রঙিন বই খুলে ছবি দেখায়, তখন সুমনের বুকের ভেতরটা হু হু করে ওঠে। সাপের ফণার আতঙ্ক নয়, তার বুকের ভেতর তখন শিক্ষার আলোর জন্য ডানা ঝাপটায় অন্য এক পৃথিবী।


সুমন হয়তো সারাজীবন এই কাঠের ঝাঁপি কাঁধে নিয়ে এক ঘাট থেকে আরেক ঘাটে ঘুরতে চায় না। সে হয়তো হাত উঁচিয়ে গোখরো নাচানোর বদলে হাতে কলম তুলে নিতে চায়। সে হয়তো একদিন ডাক্তার হয়ে তার বহরের অসুস্থ মানুষগুলোর সেবা করতে চায়, কিংবা শিক্ষক হয়ে তাদের এই অন্ধকার নদী থেকে আলোর তীরে নিয়ে যেতে চায়।


একটাই সত্য, একটাই পথ। শিক্ষার একটু সুযোগই পারে একটা পিছিয়ে পড়া প্রজন্মকে বদলে দিতে। সুমনের মতো বেদে শিশুদের হাতে যদি আজ শিকড়-বাকড় আর ঝাড়ফুঁকের ঝুলির বদলে একটা বই আর একটা পেন্সিল তুলে দেওয়া যায়, তবে এই বহরের দুঃখ আর কুসংস্কারের পুরোনো ইতিহাসটাই বদলে যাবে। যে নদী রোজ তাদের ঘর ভাসিয়ে নেয়, সেই নদীর বুকেই একদিন জ্বলে উঠবে বিদ্যার আলো। আর সেই আলোই তাদের এনে দেবে সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচার মতো একটা স্থায়ী ঠিকানা।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1194 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 24116। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4426
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
উপন্যাসঃ-ছইয়ের নিচে জীবন গল্প-১০ -আবার দেখা হবে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ২৬ জুলাই, ২০২&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
4 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
উপন্যাসঃ-ছইয়ের নিচে জীবন গল্প-৯ -বিদায়ের মুহূর্ত মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ২৬ জুলাই, [...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
উপন্যাসঃ-ছইয়ের নিচে জীবন গল্প-৭ -সন্ধ্যার আগুন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ২৬ জুলাই, ২০২[...] বিস্তারিত পড়ুন...
4 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
উপন্যাসঃ-ছইয়ের নিচে জীবন গল্প-৬-হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ২৬ জù[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
উপন্যাসঃ-ছইয়ের নিচে জীবন গল্প-৫-এক মায়ের নীরব লড়াই মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ২৬ জুলù[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    282 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    14 টি আইডিয়া ব্লগ

...