Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

পর্ব ৫ — আমরা তাদের দেখি, কিন্তু দেখি না

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
6 বার প্রদর্শিত
করেছেন (25,290 পয়েন্ট)   12 ঘন্টা পূর্বে "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

ফুটপাতের শৈশব

পর্ব ৫ — আমরা তাদের দেখি, কিন্তু দেখি নাimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

বিশ্লেষণধর্মী | ১৮ আগস্ট ২০২৬


প্রতিদিন তাদের পাশ দিয়ে যাই। দেখি। তারপর চলে যাই।


রাস্তার মোড়ে, বাসস্ট্যান্ডে, ট্রাফিক সিগন্যালে, বাজারের ভিড়ে কিংবা কোনো দোকানের সামনে—কোথাও না কোথাও একটা শিশু থাকেই। কারও হাতে ফুলের ঝুড়ি, কারও হাতে প্লাস্টিকের বস্তা। কেউ গাড়ির কাচ মুছে, কেউ মানুষের কাছে হাত বাড়ায়। কেউ আবার চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে।


আমরা তাদের দেখি।


কিন্তু সত্যিই কি দেখি?


শিশুটাকে চোখে পড়ে, তার জীবনটা পড়ে না।


আমরা ব্যস্ত থাকি। ফোনে কথা বলতে বলতে পাশ কাটিয়ে যাই। গাড়ির জানালা তুলে দিই। কেউ বিরক্ত হয়ে বলে, ‘যাও, যাও।’ কেউ আবার এমনভাবে মুখ ফিরিয়ে নেয়, যেন শিশুটিকে দেখাটাই একটা অস্বস্তিকর ব্যাপার।


অস্বস্তি হওয়ার কারণও আছে। একটা ছোট শিশু যখন মানুষের কাছে হাত বাড়ায়, তখন নিজের জীবনটাকেও একটু প্রশ্নের সামনে দাঁড় করাতে হয়।


সে কেন এখানে?


কেন তার হাতে বই নেই?


কেন সে স্কুলে নেই?


কেন তার দিনের শুরু হয় কাজ দিয়ে?


এসব প্রশ্নের উত্তর জানার চেয়ে না দেখেই চলে যাওয়া অনেক সহজ।


আমরা প্রায়ই একটা শিশুকে তার কাজ দিয়েই বিচার করি।


সে ভিক্ষা করছে—বিরক্তিকর।


সে গাড়ির কাচ মুছছে—বিরক্ত করছে।


সে রাস্তার পাশে বসে আছে—শহরটা নোংরা করছে।


কিন্তু এসবের বাইরে শিশুটার পরিচয় কী?


তারও একটা নাম আছে। হয়তো কোনো মা তাকে আদর করে একটা ডাকনাম দিয়েছিলেন। হয়তো কোনো খাবার তার খুব পছন্দ। হয়তো অন্য শিশুদের স্কুলে যেতে দেখে তারও ইচ্ছে হয়। হয়তো কোনোদিন স্কুলের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে সে ভেতরে তাকিয়ে ছিল।


এসব আমরা জানি না।


কারণ জানার চেষ্টাও করি না।


আমরা দারিদ্র্যটা দেখি, মানুষটাকে দেখি না।


তার পুরোনো জামাটা দেখি, কিন্তু জামার ভেতরে থাকা শিশুটাকে দেখি না।


তার বাড়িয়ে দেওয়া হাতটা দেখি, কিন্তু সেই হাত কেন বাড়াতে হয়েছে, সেটা জানতে চাই না।


অবশ্যই সবাইকে টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। প্রতিবার টাকা দেওয়াই সমস্যার সমাধানও নয়। কেউ টাকা না দিলে তাকে দোষ দেওয়ারও কারণ নেই।


কিন্তু টাকা না দেওয়ার সঙ্গে অপমান করার সম্পর্ক কোথায়?


একটা শিশু সাহায্য চাইলে তাকে ধমক দিতে হবে কেন? গালি দিতে হবে কেন? এমনভাবে তাড়িয়ে দিতে হবে কেন, যেন সে মানুষই নয়?


শান্তভাবে বলা যায়, ‘আজ দিতে পারছি না।’


কথাটা ছোট। কিন্তু সম্মানটা বড়।


সাহায্য করার ক্ষেত্রেও আমাদের একটু সচেতন হওয়া দরকার। শিশুটিকে খাবার দিতে পারি, প্রয়োজন হলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করতে পারি। সে বিপদে থাকলে নিজের মতো করে কোথাও নিয়ে যাওয়ার বদলে দায়িত্বশীল ব্যক্তি, সমাজকর্মী বা শিশু সহায়তা ব্যবস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা নিরাপদ।


কারণ ভালো উদ্দেশ্য থাকলেই সবসময় ভালো ফল হয় না। ভুলভাবে সাহায্য করতে গিয়ে একটা শিশুকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া সম্ভব।


আর একটা বিষয় আমরা প্রায়ই ভুলে যাই—শিশুর সম্মান।


একটা শিশুকে খাবার দিয়ে তার ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা সাহায্যের প্রমাণ নয়। তার কষ্টকে নিজের ভালো কাজের প্রচারের উপকরণ বানানোর দরকার নেই। ছবি, নাম, ঠিকানা বা ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের আগে তার নিরাপত্তার কথা ভাবতে হবে।


সাহায্য করতে হলে মানুষটাকে ছোট না করেও করা যায়।


বরং সেটাই হওয়া উচিত।


সবসময় টাকা দিয়ে সাহায্য করাও জরুরি নয়। কখনো একটা ভালো কথা বলা যায়। একটু সময় দেওয়া যায়। তার নাম জানতে চাওয়া যায়।


হয়তো সে উত্তর দেবে না। হয়তো সন্দেহ করবে। হয়তো অভ্যাসবশত দূরে সরে যাবে।


তবু একবার ভাবুন—সারাদিনে কত মানুষ তাকে তাড়িয়ে দেয়। কতজন বিরক্ত হয়। কতজন তার দিকে তাকিয়েই মুখ ঘুরিয়ে নেয়।


তারপর একজন মানুষ যদি একটু থেমে জিজ্ঞেস করে, ‘তোমার নাম কী?’


হয়তো শিশুটি অবাক হবে।


হয়তো একটু হাসবে।


হয়তো কিছুই বলবে না।


তবু কয়েক মুহূর্তের জন্য সে বুঝতে পারে—কেউ তাকে শুধু রাস্তার একটা শিশু হিসেবে দেখেনি।


সমাজ বদলানোর কথা আমরা অনেক বলি। কিন্তু সমাজ আসলে তৈরি হয় আমাদের প্রতিদিনের ছোট ছোট আচরণ দিয়ে।


রাস্তার একটা শিশুকে দেখে আমরা কী করি, কীভাবে কথা বলি, সাহায্য করতে না পারলে কীভাবে ফিরিয়ে দিই—এসবও সেই সমাজেরই অংশ।


সব পথশিশুকে আমরা রাস্তা থেকে সরিয়ে আনতে পারব না। তাদের জীবনের সব সমস্যার সমাধানও আমাদের হাতে নেই।


কিন্তু আমাদের আচরণটা আমাদের হাতেই আছে।


তাই পরেরবার রাস্তার পাশে কোনো শিশুকে দেখলে অন্তত তাকে অবহেলার চোখে দেখবেন না।


টাকা দেবেন কি দেবেন না, সেটা আপনার সিদ্ধান্ত।


কিন্তু তাকে অপমান না করাও একটা সিদ্ধান্ত।


হয়তো আপনি তার জীবন বদলে দিতে পারবেন না। আজকের ক্ষুধা মিটিয়ে আগামী দিনের অনিশ্চয়তাও দূর করতে পারবেন না।


তবু সম্মান দিয়ে কথা বলতে পারবেন।


কারণ পথশিশুরা আমাদের শহরের বাইরের কেউ নয়।


তারা এই শহরেরই শিশু।


তাদের জীবন আমাদের মতো নয়, কিন্তু ক্ষুধা তাদেরও লাগে, ভয় তাদেরও হয়, আনন্দে তারাও হাসে, কষ্ট পেলে তারাও চুপ করে যায়।


আমরা তাদের প্রতিদিন দেখি।


এবার একটু থেমে মানুষ হিসেবেও দেখি।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1252 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 25290। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4679
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
পথের পাঁচালী আমরা গল্প পড়ি কিন্তু পাঠ শিখি না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  বিশ্লেষণধর্ম[...] বিস্তারিত পড়ুন...
429 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সম্পর্কের শেষ কথাগুলো পর্ব ৫ — সহ্য না করা? মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী | ৮ আ&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
10 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

কিশোরদের মানসিক সংকট আমরা কেন দেখতে পাই না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী | ৭ মার্চ ২০২৬ রাহি আমার পাশের বাড়ির ছেলে। বয়স সতেরো। গত বছর এই সময়টায় আমাদের গলির ক্রিকেট দলের অধিনায়ক �[...] বিস্তারিত পড়ুন...
440 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ফুটপাতের শৈশব পর্ব ১০ — আমরা কেমন বাংলাদেশ রেখে যাচ্ছি। মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশú[...] বিস্তারিত পড়ুন...
6 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ফুটপাতের শৈশব পর্ব ৯ — পথশিশু জন্মায় না, তৈরি হয়জ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধরú[...] বিস্তারিত পড়ুন...
6 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1456 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    72 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Monsoon Harmony

    904 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    45 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    367 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    18 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. Mayabi Ilmaz Megh

    81 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

...