Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

শাড়ির ভাঁজে লুকানো চিঠি

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
24 বার প্রদর্শিত
করেছেন (24,421 পয়েন্ট)   22 জুন "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

শাড়ির ভাঁজে লুকানো চিঠিimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্প।  ২৩ জুন,২০২৬



মায়ের পুরোনো শাড়িটা বিক্রি করতে গিয়ে নিলয় এমন কিছু পেল, যেটার জন্য তার হাতটা মাঝপথে থেমে গেল।


শাড়িটা খুব দামি ছিল না। নীল রঙের সাধারণ একটা সুতি শাড়ি। রং কিছুটা ফিকে হয়ে গেছে। ভাঁজে ভাঁজে ন্যাপথলিন আর পুরোনো দিনের গন্ধ।


তবু এই শাড়িটা আলাদা ছিল। মা এই শাড়িটা পরলে নিলয়ের মনে হতো, ঘরটা একটু অন্যরকম হয়ে যায়।


কিন্তু সেদিন স্মৃতির কথা ভাবার সময় ছিল না। ছোট বোন নীহার কলেজের ভর্তি ফি দিতে হবে। নিজের চাকরিটাও কয়েক মাস ধরে ভালো যাচ্ছে না। বাড়িভাড়া, বাজার আর ঋণের কিস্তি দিতে দিতে হাতে কিছুই থাকছে না।


তাই মায়ের রেখে যাওয়া কিছু জিনিস বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে। সিদ্ধান্তটা নেওয়ার পর থেকেই বুকের ভেতর একটা অস্বস্তি ছিল। মনে হচ্ছিল, সে যেন মায়ের জিনিস নয়, মায়ের একটা অংশ সরিয়ে ফেলছে।


মা মারা যাওয়ার তিন মাস হয়েছে।

এই তিন মাসে নিলয় একটা জিনিস বুঝেছে, মানুষ চলে যাওয়ার পরও তার কিছু অভ্যাস ঘরের মধ্যে থেকে যায়।


রান্নাঘরের তাকে রাখা হলুদ মাখা মশলার কৌটা। বারান্দার কোণে মায়ের লাগানো মানিপ্ল্যান্ট গাছটা। বিকেলে জানালার পাশে রাখা বেতের চেয়ারটা।


সবকিছু আগের মতো আছে। শুধু মা নেই।

মায়ের আলমারিটা নিলয় এতদিন খোলেনি। সেদিন খুলতে হলো।


একটার পর একটা শাড়ি বের করছিল সে। হাতে নিলেই মনে হচ্ছিল, প্রতিটা কাপড়ের সঙ্গে একটা করে দিন আটকে আছে।


হঠাৎ মনে হলো, মা থাকলে হয়তো বলতেন, "যদি দরকার হয়, নিয়ে যা বাবা।"


এই কথাটা মনে পড়তেই নিলয় কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে রইল।


নীল শাড়িটা হাতে আসতেই সে থেমে গেল।

এই শাড়িটা মা খুব যত্ন করে রাখতেন। নিলয় একবার জিজ্ঞেস করেছিল, "এই পুরোনো শাড়িটা ফেলে দাও না?"


মা হেসে বলেছিলেন, "সব পুরোনো জিনিস ফেলে দিতে নেই। কিছু জিনিস শুধু মনে রাখার জন্য থাকে।"


তখন কথাটার মানে বুঝতে পারেনি। আজ বুঝতে পারছে।


শাড়িটা ভাঁজ করতে গিয়ে হঠাৎ তার হাত থেমে গেল। ভেতরে কিছু একটা শক্ত লাগছে।


সে ধীরে ধীরে ভাঁজ খুলল। একটা ছোট খাম। হলদে হয়ে যাওয়া।

খামের ওপর লেখা, "নিলয়ের জন্য।"

মায়ের হাতের লেখা।


নিলয় কিছুক্ষণ খামটার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ধীরে খুলল।


ভেতরে ছোট একটা কাগজ। মাত্র কয়েকটা লাইন।


"নিলয়,

জীবনে কখনো যদি মনে হয় তুই একা, তাহলে মনে করিস, ছোটবেলায় তুই ভয় পেলে আমার হাত খুঁজতিস।

আমি না থাকলেও তুই নিজের হাতটা শক্ত করে ধরিস।

আর একটা কথা, নিজের জন্য বাঁচতে ভুলে যাস না।


—মা"


চিঠিটা পড়ে নিলয় অনেকক্ষণ চুপ করে বসে রইল।


এটা কোনো বিদায়ের চিঠি ছিল না। কোনো বড় উপদেশও ছিল না। তবু কয়েকটা শব্দের মধ্যে সে মাকে খুঁজে পেল।


হঠাৎ মনে পড়ল, শেষ দিকে মা নিজের চিকিৎসার কথা প্রায়ই এড়িয়ে যেতেন। ডাক্তার দেখানোর কথা বললে বলতেন, "আগে তোর কাজটা ঠিক হোক।"


তখন নিলয় বিরক্ত হতো। ভাবত, মা নিজের যত্ন নেন না কেন।


আজ বুঝল, মা হয়তো সারাজীবন এমনই ছিলেন। নিজের কথাটা সবসময় শেষে রাখতেন।


সেদিন নিলয় শাড়িগুলো বিক্রি করল না। আবার আলমারিতে তুলে রাখল।


তবে সমস্যাগুলো শেষ হয়ে গেল না। পরদিনও তাকে টাকা জোগাড় করতে হয়েছে। কিছু মানুষের কাছে সাহায্য চাইতে হয়েছে। কিছু পরিকল্পনা বদলাতে হয়েছে।


কিন্তু সেদিন রাতে মায়ের চিঠিটা বালিশের পাশে রেখে ঘুমানোর সময় তার মনে হচ্ছিল, কঠিন সময়টা সে একা পার করছে না।


কয়েক মাস পর। নীহার কলেজে ভর্তি হয়ে গেল।


সেদিন রাতে নিলয় আবার আলমারি খুলল। নীল শাড়িটা বের করল। বিক্রি করার জন্য নয়। শুধু একটু ছুঁয়ে দেখার জন্য।


শাড়ির ভাঁজে আর কোনো চিঠি ছিল না।


কিন্তু নিলয়ের মনে হলো, মায়ের কথাগুলো এখনও সেখানে আছে। পুরোনো কাপড়ের গন্ধে। আলমারির নীরবতায়। আর তার নিজের ভেতরে।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1209 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 24421। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4113
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
নীরব মানুষটার শেষ সীমা   পর্ব–৮ : শেষ চিঠি   একটি ধারাবাহিক গল্প   লেখক: মোহাম্মদ জ&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
24 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
মিষ্টি কাগজের অপ্রেরিত চিঠি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প  । ২৪ মে, ২০২৬ অভিক সেদি[...] বিস্তারিত পড়ুন...
358 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
কবিতায় লুকানো বিজ্ঞান মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী | মার্চ ২৫, ২০২৬ বাংলা [...] বিস্তারিত পড়ুন...
515 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
পরিবারে লুকানো মন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   বিশ্লেষণধর্মী | মার্চ ৬, ২০২৬ রুমি রান্ন&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
515 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ডিজিটাল ঔপনিবেশিকতার লুকানো মূল্য মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন   বিশ্লেষণধর্মী। ডিসে&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
450 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    587 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    29 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    42 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    2 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...