চোখে দেখা যায় না ভালোবাসা
লেখকঃ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
ধরণঃ আবেগঘন ছোটগল্প
তারিখঃ ০৭ অক্টোবর ২০২৫
বৃষ্টি পড়ছিল টুপটাপ। মানুষ দৌড়াচ্ছে, ছাতার নিচে বই বাঁচানোর চেষ্টা করছে।
কিন্তু ভিড়ের মাঝখানে এক মেয়ে—চুল ভিজে
কপালে লেপ্টে আছে, হাতে পুরোনো এক কবিতার বই, আর চোখ বন্ধ করে বৃষ্টির ফোঁটা গুনছে ঠোঁটে।
অভিক দাঁড়িয়ে ছিল এক স্টলে। দৃষ্টি যেন আটকেই গেল। সে ছাতা বাড়িয়ে দিল মেয়েটির দিকে,
“ছাতাটা ভাগ করবেন?”
মেয়েটি চোখ খুলে হেসে বলল,
“বৃষ্টি ভাগ করা যায় নাকি?
এটা তো অনুভবের জিনিস।”
সেই এক মুহূর্তে অভিক বুঝেছিল, তার জীবনে একটা গল্প শুরু হয়ে গেছে।
দিনের পর দিন, সন্ধ্যার পর সন্ধ্যা,
নিশি আর অভিকের সম্পর্ক এক অদ্ভুত শান্ত নদীর মতো বয়ে চলেছিল।
তারা কথা বলত বই নিয়ে, জীবন নিয়ে, ভালোবাসার অনিশ্চয়তা নিয়ে।
নিশি একদিন বলেছিল,
“ভালোবাসা চোখে দেখা যায় না, অভিক।
কিন্তু যখন এটা থাকে, পুরো পৃথিবীটাই অন্যরকম লাগে।”
অভিক মৃদু হেসে বলেছিল,
“তুমি থাকলেই আমার পৃথিবী রঙিন হয় নিশি।”
নিশি চুপ করে ছিল।
চোখের গভীরে এক অনির্বচনীয় ভয়,
যেন সে আগেই জানে, এই রঙিন পৃথিবী একদিন মুছে যাবে।
চাকরির কারণে অভিককে চলে যেতে হয় দূর শহরে।
প্রথমদিকে প্রতিদিন কথা হতো,
পরে সময়ের অভাব, ভুল বোঝাবুঝি,
আর অব্যক্ত অভিমান জমে উঠল দুজনের মাঝে।
এক রাতে নিশি ফোনে বলেছিল,
“তুমি কি জানো, অভিক?
ভালোবাসাও কখনো কখনো ক্লান্ত হয়ে পড়ে।”
অভিক বলেছিল,
“তবু ভালোবাসা মরে না, নিশি। এটা হয়তো চুপ করে যায়, কিন্তু থাকে।”
নিশি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেছিল,
“হয়তো... একদিন বুঝবে।”
সেই রাতের পর থেকে নিশি আর কোনো ফোন করেনি।
দুই সপ্তাহ পর অভিক খবর পেল,
একটি সড়ক দুর্ঘটনায় নিশি মারা গেছে।
বুকের ভেতর থেকে যেন কেউ সমস্ত আলো নিভিয়ে দিল। অভিক রাতের পর রাত ঘুমাতে পারত না।
নিশির শেষ দেখা মুখটাই বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠত।
একদিন তার পুরোনো বইয়ের ভেতর থেকে পড়ল একটি ভাঁজ করা চিঠি।
চিঠিতে লেখা ছিল,
“অভিক,
যদি কোনোদিন আমি হঠাৎ হারিয়ে যাই,
ভয় পেয়ো না। আমি তখন অন্য কোনো আলো হয়ে তোমার পাশে থাকব। যখন বৃষ্টি নামবে, তুমি ছাতা খুলে দাঁড়াবে না। কারণ সেই বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটায় আমি তোমার নাম ডাকব।”
অভিকের চোখের জল মিশে গেল কাগজের কালি ভিজিয়ে।
বছর কেটে গেছে।
একদিন ঠিক সেই দিনের মতো বৃষ্টি নামল।
অভিক হাঁটছিল রাস্তায়, ভিজতে ভিজতে।
হঠাৎ শুনল—একটা মেয়ের হাসি।
পেছনে তাকাতেই দেখল,
এক মেয়ে, ভেজা চুল কপালে লেপ্টে আছে, হাতে ফুলের ঝুড়ি। চোখে শান্তি, ঠোঁটে মিষ্টি হাসি।
সে বলল,
“ছাতা আছে তো? ভাগ করবেন?”
অভিক থমকে দাঁড়াল।
তার ঠোঁট কাঁপল,
“বৃষ্টি ভাগ করা যায় নাকি?
এটা তো অনুভবের জিনিস…”
মেয়েটি হেসে তাকাল, সেই একই আলোতে,
যেটা একদিন নিশির চোখে দেখেছিল।
এক মুহূর্তে অভিকের বুকের ভেতর আলো জ্বলে উঠল,
নিশি কি ফিরে এসেছে?
নাকি বৃষ্টি শুধু তার ছায়াকে পাঠিয়েছে?
সে উত্তর খুঁজে পায়নি।
শুধু বৃষ্টির শব্দে শুনতে পায়,
“অভিক…”
রাতে জানালার পাশে বসে অভিক সেই চিঠিটা আবার খুলে রাখে। বাইরে এখনো বৃষ্টি পড়ছে।
তার মনে হয়,
ভালোবাসা কখনো হারায় না, শুধু রূপ বদলায়।
নিশি এখন তার চারপাশের আলো, তার নিঃশ্বাসের গন্ধ, তার প্রতিটি বৃষ্টির শব্দে মিশে থাকা এক অদৃশ্য অস্তিত্ব।
ভালোবাসা চোখে দেখা যায় না, কিন্তু একবার যদি সেটা হৃদয়ে জ্বলে ওঠে, তবে সেই আলো কোনোদিন নিভে না।
#চোখেদেখাযায়নাভালোবাসা #অভিকওনিশি #বৃষ্টিরগল্প #EmotionalBanglaStory #HeartTouchingLoveStory #জাহিদহোসেন #LoveBeyondLife #বাংলাসাহিত্য #রোমান্টিকগল্প #RainAndLove
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।