Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

নিশির দিনগুলো গল্প-৪ : সন্তানের জন্য

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 বার দর্শন
করেছেন (22,802 পয়েন্ট)   2 ঘন্টা পূর্বে "উপন্যাস" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

নিশির দিনগুলো

গল্প-৪ : সন্তানের জন্যimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

১৫ জুলাই, ২০২৬


মায়ের চোখ থেকে ঘুম হারিয়ে যায়, কিন্তু সন্তানের মুখের হাসিটা সে কখনো হারাতে দেয় না।


অভিক চলে যাওয়ার পর নিশির কাছে সবচেয়ে কঠিন ছিল সকালগুলো।


আগে ঘুম ভাঙলেই অভিকের সঙ্গে দিনের হিসাব শুরু হতো। এখন ঘুম ভাঙে একা। ঘুম ভাঙার পরই মাথায় একটাই চিন্তা ঘুরতে থাকে, আজকের দিনটা কীভাবে কাটবে?


মেঘ তখন স্কুলে পড়ে। মিশি আরও ছোট।


দুজনের চাহিদা খুব বড় কিছু ছিল না। স্কুল, বই, কোচিং, টিফিন, এইটুকুই। কিন্তু নিশির কাছে তখন ছোট ছোট খরচও পাহাড়ের মতো মনে হতো।


এক রাতে পানি খেতে উঠে মেঘ দেখল, মা ডাইনিং টেবিলে বসে একটা খাতা খুলে হিসাব করছে। সামনে কয়েকটা নোট, কিছু খুচরা টাকা আর একটা ক্যালকুলেটর।


মেঘ বলল,

"মা, তুমি এখনও ঘুমাওনি?"


নিশি তাড়াতাড়ি টাকাগুলো গুছিয়ে রেখে হাসল,

"ঘুম আসছে না। তুই যা, ঘুমিয়ে পড়।"


মেঘ চলে গেল। কিন্তু দরজার আড়াল থেকে দেখল, মা আবার হিসাব করতে বসেছে।


পরদিন সকালে নিশি আলমারি খুলে নিজের ছোট্ট সোনার কানের দুল জোড়া বের করল। ওটা অভিকের দেওয়া ছিল।


দোকান থেকে ফিরে সে সোজা স্কুলে গিয়ে মিশির বেতনটা জমা দিয়ে দিল। বাড়ি ফিরে এমনভাবে রান্না করল যেন কিছুই হয়নি।


বিকেলে মিশি খুশি হয়ে বলল,

"মা, আজ ম্যাডাম বলেছে আমার নাম আর কাটবে না।"


নিশি শুধু বলল,

"ভালো করে পড়বি।"


মিশি বুঝতেই পারল না, তার সেই হাসির জন্য মায়ের কানের দুলটা আর কোনোদিন ফিরবে না।


এর মধ্যেও মানুষের কথা থামেনি।


একদিন পাশের বাড়ির একজন বললেন,

"দুই মেয়েকে এত পড়িয়ে কী হবে? শেষ পর্যন্ত তো বিয়েই দিতে হবে।"


নিশি সেদিন কোনো উত্তর দিল না। শুধু মনে মনে বলল,

"আমার মেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত অন্য কেউ নেবে না।"


তারপর সে আরও কাজ বাড়িয়ে দিল।


অফিস থেকে ফিরে রাতে হিসাবের কাজ করত। ছুটির দিনে টিউশনি নিত। কখনো কখনো ক্লান্তিতে টেবিলেই মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ত।


এক রাতে মেঘ চুপচাপ একটা চাদর এনে মায়ের গায়ে দিয়ে দিল।


ঘুম ভেঙে নিশি বলল,

"কটা বাজে?"


"দুইটা।"


"তোরা এখনও জেগে আছিস?"


মেঘ মৃদু হেসে বলল,

"আমরা তো ঘুমিয়েছিলাম। তুমিই ঘুমাওনি।"


নিশি আর কিছু বলতে পারল না।


মেয়েরা বড় হয়ে যাচ্ছে, এটা সে বুঝতে পারছিল। কিন্তু ওরা যে মায়ের না বলা কষ্টগুলোও পড়তে শিখে গেছে, সেটা বুঝতে তার একটু দেরি হয়ে গেল।


সময় কেটে গেল।


মেঘ বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তি পেল। কয়েক মাস পর মিশিও ভালো ফল করল।


প্রথম টিউশনির টাকা আর বৃত্তির টাকা মিলিয়ে দুই বোন মাকে একটা শাড়ি কিনে দিল। দামি নয়।


তবু শাড়িটা হাতে নিয়ে নিশি অনেকক্ষণ চুপ করে বসে রইল।


মিশি হেসে বলল,

"মা, পছন্দ হয়নি?"


নিশি মাথা নাড়ল,

"খুব পছন্দ হয়েছে। শুধু একটা কথা মনে পড়ছে।"


"কী কথা?"


"তোদের জন্য যা যা ছেড়েছি, আজ মনে হচ্ছে সেগুলো কোনো ক্ষতিই ছিল না। ওগুলোই আমার সবচেয়ে বড় সঞ্চয় ছিল।"


ঘরের দেয়ালে অভিকের ছবিটা ঝুলছিল।


নিশি একবার সেদিকে তাকাল, আবার মেয়েদের দিকে তাকাল।


তার মনে হলো, এতদিনের না ঘুমানো রাত, না পাওয়া, লুকিয়ে রাখা কান্নাগুলো হয়তো এই একটা মুহূর্তের জন্যই ছিল।


মায়েরা কখনো বড় বড় ত্যাগের গল্প বলেন না।


তারা শুধু চুপচাপ লড়ে যান।


আর একদিন সন্তানের মুখের হাসি দেখেই বুঝে যান, এই লড়াইটার মূল্য ছিল।


চলবে.........গল্প-৫ : মানুষের দৃষ্টি(স্বামী মারা যাওয়ার পর তার পোশাক বদলায়নি, বদলে গেছে মানুষের চোখ।)

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 9 মাস 2 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1129 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 22802। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4244
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
নিশির দিনগুলো গল্প-১০ : নতুন সকাল মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ১৫ জুলাই, ২০২৬ সব হারিয়েও [...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশির দিনগুলো গল্প-৯ : সমাজের বিচার মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ১৫ জুলাই, ২০২৬ একজন বিধবা &[...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশির দিনগুলো গল্প-৮ : একাকী রাত মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ১৫ জুলাই, ২০২৬ দিনের ভিড়ে সে [...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশির দিনগুলো গল্প-৭ : ঈদের দিন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ১৫ জুলাই, ২০২৬ সবাই যখন নতুন কা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

নিশির দিনগুলো গল্প-৬ : চাকরির দরজা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ১৫ জুলাই, ২০২৬ স্বামী হারানোর পর সে শুধু একজন বিধবা হয়ে থাকল না, হয়ে গেল একজন চাকরিপ্রার্থীও। অভিক চলে যাওয়ার পর প্রথম কয়েক মাস নিশ�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1333 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    66 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    43 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  3. Adiba jannat

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  4. রাকিব মুসাব্বির

    1 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...