অদৃশ্য হওয়ার আগে
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
গদ্য কবিতা । মে ১৬,২০২৬
শরীরটা আজকাল খুব তাড়াতাড়ি ক্লান্ত হয়ে যায়।
সিঁড়ি ভাঙলে বুকের ভেতর কেমন অচেনা ধ্বনি ওঠে।
ডাক্তার বলেছে রাতে জেগে থাকতে নেই,
তবু মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে আর শোয়া হয় না।
জানালার পাশে বসে থাকি।
দূরের আলো দেখি।
দূরে কয়েকটা জানালায় তখনো আলো ছিল—
কে জানে, আর কারা জেগে ছিল তখন।
এই শহরে কত মানুষের সঙ্গে পরিচয় হলো,
কত মুখ এল, চলে গেল—
অথচ তোমাকে ভুলে থাকার অভিনয়টাই সবচেয়ে কঠিন রয়ে গেল।
তাই একসময় নিজেকে কাজে ডুবিয়ে দিলাম।
ফাইল। মেইল। মিটিং।
দিনের শেষে ক্লান্ত চোখে শুধু মনে হতো,
মানুষ আসলে কাজ নয়,
নিজেকেই এড়িয়ে চলতে শেখে।
আজ সন্ধ্যায় চায়ে চুমুক দিতে গিয়ে হঠাৎ
তোমার কথা মনে পড়ল।
কারণ ছাড়াই।
যেভাবে পুরোনো বই খুললে মাঝে মাঝে
ভেতর থেকে শুকনো ফুল পড়ে যায়।
বাড়িটার কথাও মনে পড়ল।
ধুলো জমা বই।
কালচে হয়ে যাওয়া কাপ।
বিকেলের শেষ আলো।
আর একটা গন্ধ, যা এখন আর ঠিক মনে নেই,
তবু ভুলতেও পারিনি।
কিছু স্মৃতি পুরোপুরি নিভে যায় না।
শুধু ভেতরের অন্ধকারে খুব আস্তে জ্বলে ওঠে।
হৃদ্রোগী নাকি বেশি দিন বাঁচে না।
কথাটা শুনলে এখন আর ভয় লাগে না।
শুধু মাঝে মাঝে মনে হয়,
মানুষের শরীরের আগেই হয়তো
তার কিছু অপেক্ষা মারা যায়।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।