“নীরব বিস্ফোরণ—আজকের তারুণ্যের অদৃশ্য যুদ্ধের নাম মুড সুইং”
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
বিশ্লেষণধর্মী ⋄নভেম্বর ২৬,২০২৫
আজকের তরুণরা আগুন নয়—ধীরে ধীরে নিভে যাওয়া কয়লা।
বাইরে যত হাসি, ভেতরে তারচেয়েও বড় ঝড়।
এক মুহূর্তে উচ্ছ্বাস, পরের মুহূর্তেই সবকিছু অর্থহীন।
কারও কাছে এটুকু “নাটক”,
কিন্তু যার ভেতরে চলতে থাকে, সে জানে—এটা যুদ্ধ।
শুধু শত্রু নেই বলে রক্ত ঝরছে না…
তাই কেউ দেখে না।
মুড সুইং আজ খেলা নয়—এটা এক নীরব মানসিক ক্ষয়।
রাতে খুশির গল্প পোস্ট, সকালে বিষণ্নতার নিস্তব্ধতা।
চুলে হাত বুলিয়ে বলার কেউ নেই,
শুধু কমেন্টে “স্টে স্ট্রং” লিখে চলে যায় মানুষ।
যুগটা এমন—সবাই নিজেকে সফল দেখাতে ব্যস্ত,
আর ভিতরের অস্থিরতাকে লুকাতে আরও বেশি ব্যস্ত।
ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, পরিবার—কোনো সম্পর্কই যেন নিরাপদ না।
ভালো লাগা–খারাপ লাগা এখন চোখের পলকে বদলায়।
যে ভুল করে, সে খারাপ; যে ভুল বোঝে, সেও খারাপ।
ফল—অপরাধবোধ, ভয়, একাকিত্ব—সব মিলিয়ে হিমশীতল এক মানসিক কারাগার।
এই সমাজের ভয়ঙ্কর সত্য—
তরুণের কান্না কেউ দেখে না,
ভাঙা মন কেউ শোনে না,
শুধু ফলাফল দেখে বিচার করে।
তবু ভিতরে ভিতরে আরেকটা প্রজন্ম মানসিক ক্লান্তিতে ক্ষয়ে যাচ্ছে।
আমরা কি কখনও থেমে ভেবেছি—
এদের দরকার ছিল যত্ন,
এদের দেওয়া হচ্ছে চাপ।
এদের দরকার ছিল কাঁধ,
এদের দেওয়া হচ্ছে তুলনা।
এদের দরকার ছিল মানুষ,
এদের দেওয়া হচ্ছে মোবাইল স্ক্রিন আর প্রত্যাশার পাহাড়।
মুড সুইংকে অবহেলা নয়—বোঝা দরকার।
শুনতে হবে, বিচার নয়।
থামতে হবে, ছুটে নয়।
মানুষ হতে হবে—পারফেক্ট নয়।
যে একদিন হাসছে,আরেকদিন সেই মানুষটা হয়তো নিজেকে হারিয়ে ফেলছে—
আর আমরা দেখলেও দেখছি না।
শেষ কথা—
তারুণ্যকে আমরা হারাতে দেব না।
অভিনয় করা শক্তি নয়,নিজেকে বুঝতে শেখাই শক্তি।
—কারণ মুড সুইং রোগ নয়,
অবহেলা-প্রাপ্ত জীবনের নীরব আর্তনাদ।
#মুড_সুইং #তারুণ্যের_সংকট #মনোবেদনা #নীরব_যুদ্ধ #মানসিক_স্বাস্থ্য #একটু_বোঝার_সময়
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।