নীরব মানুষটার শেষ সীমা
পর্ব–৪ : সব দোষ কি শুধু পুরুষের?
একটি ধারাবাহিক গল্প
লেখক: মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
১০ জুলাই, ২০২৬
“বিচ্ছেদের পর সবাই নিশির পাশে দাঁড়াল। কিন্তু কেউ একবারও অভিকের গল্পটা শুনল না।”
বিচ্ছেদের খবরটা ছড়াতে বেশি সময় লাগেনি।
আত্মীয়রা ফোন করল।
পাড়ার মানুষও জেনে গেল।
যার সাথে দেখা হচ্ছে, সবার মুখে প্রায় একই কথা।
“আহারে, মেয়েটার জীবনটাই নষ্ট হয়ে গেল।”
কেউ বলল,
“নিশ্চয়ই ছেলেটার দোষ ছিল।”
আর কেউ বলল,
“কোনো মেয়ে তো আর এমনি এমনি সংসার ছাড়ে না।”
অভিক এসব কথা শুনত।
কিছু বলত না।
আগে হলে হয়তো বলত,
“গল্পটা এত সহজ না।”
এখন আর সেই চেষ্টাটাও করল না।
কারণ সে জানত, মানুষ রায় শুনতে বেশি ভালোবাসে, গল্প শুনতে না।
একদিন অফিসে একজন কলিগ সাবধানে জিজ্ঞেস করল,
“ভাই, কী হয়েছিল?”
অভিক একটু হেসে বলল,
“মিল হয়নি... এই যা।”
লোকটা আর কিছু জিজ্ঞেস করেনি।
অভিকও কিছু বলেনি।
কী বলবে?
বলবে, দিনের পর দিন নিজের ইচ্ছেগুলো গুটিয়ে রাখতে রাখতে একসময় সে নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছিল?
বলবে, চুপ থাকাটা তার স্বভাব ছিল না, বেঁচে থাকার একটা উপায় ছিল?
এসব কথা মুখে আনা যায় না।
অনেক পুরুষই পারে না।
কারণ ছোটবেলা থেকেই তারা একটা কথা শুনে বড় হয়—
“ছেলেরা কাঁদে না।”
তারপর বড় হয়ে শেখে,
“নিজের কষ্ট নিজের কাছেই রাখো।”
তাই তারা অনেক সময় ভেঙে পড়লেও, বাইরে থেকে শুধু স্বাভাবিক থাকার অভিনয় করে।
অভিকও তাই করেছিল।
কাজে যেত।
হাসত।
প্রয়োজনমতো কথা বলত।
শুধু ভেতরের মানুষটা আর আগের মতো ছিল না।
তবে একটা কথাও সত্যি।
সব সম্পর্ক ভাঙার দোষ কখনো শুধু একজনের হয় না।
কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ভুল করে।
কেউ চুপ থাকতে থাকতে দূরে সরে যায়।
আর মাঝখানে সম্পর্কটা ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে।
তাই কোনো সম্পর্কের গল্প শুনলে, শুধু একপক্ষের কথা শুনে বিচার করে ফেলাটা খুব সহজ।
কিন্তু সত্যিটা প্রায়ই একটু বেশি জটিল হয়।
অভিক সেটা জানত।
নিশিও একদিন জানবে।
চলবে...
পাঠকের কাছে প্রশ্ন:
সম্পর্কের গল্প কি শুধু একপক্ষের কথা শুনে বিচার করা উচিত? নাকি দুই মানুষের গল্প না শুনে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক না? আপনার মতামত জানাতে পারেন।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।