Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

বৃদ্ধাশ্রমে জমে থাকা অসমাপ্ত গল্প

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 বার দর্শন
করেছেন (23,875 পয়েন্ট)   1 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

বৃদ্ধাশ্রমে জমে থাকা অসমাপ্ত গল্পimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্প। ০২ আগষ্ট,  ২০২৬



বৃদ্ধাশ্রমের গেট পেরোনোর সঙ্গে সঙ্গেই অভিক থমকে দাঁড়াল। ভিতরে কোনো হইচই নেই—মানুষ আছে, কথা আছে, তবু চারপাশে একটা নীরবতা জমে আছে, এমনভাবে যে মনে হয় কেউ শব্দ কণ্ঠে আঁচড় লাগিয়ে দিয়েছে। এখানে সবাই যেন খুব আস্তে বলে; পাছে শব্দে কারো ঘুম ভেঙে যাবে।


দোতলার বারান্দায় কয়েকজন বসে আছেন। একজন রেলিং ধরে বাইরে রাস্তার দিকে চেয়ে আছেন, আরেকজন মাথা নিচু করে নিজের হাতের রেখা দেখছেন। গেটের কাছে এক বৃদ্ধ বারবার বাইরের দিকে তাকাতে পারেন—কাউকে খুঁজছেন, না হয় প্রতিদিন অনুশীলনস্বরূপ তাকিয়ে থাকা। নীরবতার ভেতরেই একটি আলাদা অপেক্ষা মিশে আছে।


নিশি কোমল সুরে বলল, "চলো, ওদিকে যাই।" তারা ফল, ওষুধ, কিছু দরকারি জিনিস নিয়ে এসেছিল; কিন্তু মিনিট দশেকের মধ্যেই অভিক বুঝে গেল, এখানে ওসবের চেয়েও বেশি দরকার একজন মন দিয়ে শোনার মানুষ।


এক বৃদ্ধা হাত তুলে ডেকলেন, 

"এই বাবা, একটু বসবি?" 

অভিক পাশে গিয়ে বসল। বৃদ্ধার চোখ ভাঁজে ভাঁজে স্মৃতির ঢেউ—হলুদ দাগ, দীর্ঘ সংসারের আঁচ। 

তিনি বললেন, "আমার নাতিটাও তোর মতোই বড় হয়েছে। যেতেই বলেছিল, 'দিদা, তাড়াতাড়ি আসব।'" তিনি একটু থেমে নিজের শাড়ির আঁচল মোচড়াতে লাগলেন। "হয়তো ওর কাছে এখনো তাড়াতাড়িই চলছে," বলে নিজেই হেসে উঠলেন—হাসিটা বেশিক্ষণ টেকল না; বাতাসে মিলিয়ে গেল।


পাশের ঘরে একজন বৃদ্ধ এক পুরোনো অ্যালবাম কোলে নিয়ে বসে ছিলেন। অভিক দেখে তিনি অ্যালবামটা এগিয়ে দিলেন। "এটা ছোট ছেলের বিয়ে," তিনি বললেন। "কি দৌড়ঝাঁপ ছিল সেবার! ভেবেছিলাম নাতিদের বড় হতে দেখব, তাদের বিয়েতে এমন করে খাটব।" তিনি ছবির ওপরে হাত বুলিয়ে এলবামটা আস্তে করে বন্ধ করলেন। "সব হিসেব তো আর মেলে না, বাবা,"—এই কথাটা ভাঙা-ভাঙা নীরবতায় শেষ হল। কথার পর আর কিছু থাকে না; অভিকও চুপ করে রইল।


বিকেলে নিশি দেখল, সকালের সেই লোকটা এখনো গেটের কাছে দাঁড়িয়ে আছেন—অপরিবর্তিতভাবে। নিশি গিয়ে জিজ্ঞেস করল, "কারো আসার কথা আছে?" 

লোকটা হেসে মাথা নাড়লেন, "থাকুক আর না-ই থাকুক। একটু অপেক্ষা করলে সময়টা তাড়াতাড়ি কাটে।" নিশি চুপ করে গেল; দেখল, অপেক্ষাও এক ধরনের কাজ—এখনো সে আগে কখনো এইভাবে ভাবেনি যে কাউকে শুধুই অপেক্ষা করিয়ে রাখা একটুকু দায়, একটুকু প্রার্থনা।


ফেরার আগে তত্ত্বাবধায়ক বললেন, "এখানে সবাই অপেক্ষা করে। কেউ ফোনের, কেউ দেখা করার, কেউ শুধু চেনা কোনো মুখের।" অভিক গাড়িতে উঠে অনেকক্ষণ চুপ করে রইল; রাস্তা পেরোতে পেরোতে হঠাৎ বলল, "খেয়াল করেছিস? 

এখানে শুধু মানুষকে মিস করা হয় না—কিছু কথা আছে, যেগুলো শেষ হয়নি। 'আসব, নিয়ে যাব', কয়েকটা দিনের ব্যাপার—যারা বলেছে, তারা হয়তো ভুলে গেছে; কিন্তু যারা শুনেছে, তারা ভুলতে পারে না।"


নিশি জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল, "সব মানুষই বাঁচার জন্য একজন শ্রোতা খোঁজে।" গাড়িতে আর কোনো কথা হলো না; শব্দগুলো হৃদয়ে জমতে লাগল।

রাতে বাড়ি ফিরে অভিক বাবাকে ফোন করল। বাবা অবাক কণ্ঠে বললেন, 

"কী রে? 

এত রাতে? 

সব ঠিক আছে তো?" 

অভিক হাসল, "হ্যাঁ বাবা, সব ঠিক আছে। 


আজকে কিছুদিন মন খারাপ ছিল—লোকে ভালো লাগে কথা না শোনালে।" তারপর দুইজন পুরনো দিনের কথা বলতে লাগল—শূন্যতার ছোট ছোট ফাঁকগুলো পুরনো গল্প আর অগ্রাহ্য হাসিতে ভরে উঠল। ওষুধ খাচ্ছিস? 

খেতে কি ভালো লাগছে?—এগুলো বয়স্ক মানুষের কথা নয়, মানুষের কথা ছিল।


ফোন রাখা মনখারাপ ভরা হাতটা একটু থমকে রইল; অভিক রাত্রি তাঁবুর নীরবতায় বহুক্ষণ মোবাইলটা নাড়াচাড়া করলেন। সে কেবল ফল কিংবা ওষুধের ব্যাগ বয়ে নিয়ে যায়নি। 


তার সঙ্গে আটকে এসেছে কিছু অসমাপ্ত গল্প—কয়েকটা শুরু করা বাক্য, মাঝের ফাঁক, কিছু নীরব শেষ হওয়া কথা। আর এক ভয়ও লেগে এসেছে: তার নিজের কাছের মানুষের গল্পগুলো কি একদিন একেবারে অর্ধেকেই থেমে যাবে?

সেই রাত থেকেই অভিক দেখল—কতটা ছোট্ট খোঁজ, কতো শত অর্ধেক কথা মিলেই এক মানুষের জীবন চালায়। সকালে উঠে সে ডায়েরি টেনে নিল—ডায়েরির প্রথম পাতায় লিখল, 'আজ আমি শুনব।' 


এরপর প্রতিদিন সকালে অল্প সময় রেখে বাড়ির ছোটখাটো কথা ছেঁকে নেবার বদলে কারও কথার জন্য সময় রাখবে। বাড়িতে মা-বাবার সঙ্গে একটু বেশি কথা বলল, অফিসে সহকর্মীর কৌতুকের মাথায় হাত দিল, বৃদ্ধাশ্রমে যাওয়া বন্ধ করল না—একটু বেশি চোখ, একটু বেশি কান।


বৃদ্ধাশ্রম থেকে ফিরেই বুঝে নিল—অসমাপ্ত গল্পগুলো ভর করে না, শোনার সাহসে ভরে যায়। এবং যদি আমরা মাঝে মাঝে থামি—কেউ কারোর কথা শেষ করে দেই—তবে হয়তো কোনোরকম অর্ধেক জীবনের কষ্টও সম্পূর্ণ হতে পারে। অভিক সে নিশ্ছিদ্র বোধটা সঙ্গে রাখল—প্রতিটি মানুষের মুখটা, প্রতিটি চিরাচরিত চাহনি, প্রতিটি অপেক্ষার সময়ই আমাদের কথা শোনার দাবি রাখে।


রাতের শেষে, মোবাইল স্ক্রীন নিভে গেলেও সেই অসমাপ্ত গল্পগুলো অভিকে ছাড়ল না। তারা ধীরে ধীরে ডায়েরির পাতায় জাগতে লাগল—কোথাও শেষ, কোথাও শুরু। পৃথিবীটা হয়তো পালটে যাবে না; কিন্তু এখানে একটি সত্য নিশ্চিত হলো—কখনো কেউ শুনলে অসমাপ্ত গল্পগুলো আর নিঃস্ব হয়ে যায় না।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1182 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 23875। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4545
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
স্মৃতি কি সত্য নাকি অসমাপ্ত জীবনের গল্প মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, প্রাবন্ধিক বিশ্লেষ&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
439 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অসমাপ্ত প্রেম  মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ছোটগল্প। মার্চ ২২, ২০২৬   রাস্তার বাঁকের চা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
389 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

 একটি দিনের ভেতর থেমে থাকা বাক্য মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ছোট গল্প। মে ১০,২০২৬ “মা কথ&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
360 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

অনিশ্চয়তার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা দিনগুলো মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প। মে ০৪, ২০২৬ বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে রিয়ান অনেকক্ষণ ধরে শুধু মানুষের চলাচল দেখছিল। কেউ দ্রুত পেরিয়ে যাচ্ছ�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
375 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অতঃপর বেঁচে থাকা শামীমা আকতার ভর দুপুর। সূর্য মাথার উপর। পিটার বেড়াবার জন্য সবসময়[...] বিস্তারিত পড়ুন...
99 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    41 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...