Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

যে রাতে শৈশব কেঁপে উঠেছিলো

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
116 বার প্রদর্শিত
করেছেন (5,442 পয়েন্ট)   07 ডিসেম্বর 2025 "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

           যে রাতে শৈশব কেঁপে উঠেছিলো

                    — রফিক আতা —



দূরন্ত এক স্মৃতি। আবছা আবছা মন্থন। মখমল শৈশবের এক সন্ধ্যা। দশ বছর আগের পথ। একদিন দিন ফুরোল, আর সমাগম হলো নিশীথ। নিবিড় আধার ছড়িয়ে পড়ল প্রকৃতিজুড়ে। যেন রাত নিজেই শ্বাসরুদ্ধকর এক গল্প বলা শুরু করলো।



বাপজান বাজারে, বড় দুই প্রাণের ভাই সুদূরের কোন এক মাহফিলে। আমাদের টিনের দুচালা ঘর, তারই এক খণ্ড কোণে আমি আর আম্মা। আম্মা পিঁড়িতে বসে আমার দিকে মুখ করে আছেন। আমি থালায় মাছ ও আলু মাখা খাবার খাচ্ছি। আম্মা গল্প শোনাচ্ছেন—বিভিন্ন রকম, যেন আমি তাড়াতাড়ি খাওয়া শেষ করি। প্রতিটি শব্দের মধ্যে যেন এক ধরনের কোমল সুর, এক অদৃশ্য আশ্বাস।



তখনো আমাদের ওদিকটায় কারেন্ট আসেনি। একটিমাত্র হারিকেনের আলোয় লালচে ঘর, আর রাত গাঢ় হয়ে উঠছে ধীরে ধীরে। খাওয়া শেষ করে আমি মায়ের উষ্ণ কোলে উঠলাম। চোখে ঘুম, তবু মনে এক অদ্ভুত অপেক্ষা—বাপজান আর ভাইরা ফিরবে কবে।



পাতা নড়ার শব্দে হঠাৎ চমকে উঠি। আঁধারস্নাত পৃথিবী, চারপাশে গা ছমছম করা নীরবতা। ঠিক তখনই দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ—ঠক, ঠক! গল্প থেমে যায়, আম্মার মুখে ভয়ের ছায়া।

“কে? কে?”—আম্মা জিজ্ঞেস করলেন। কিন্তু কোনো উত্তর এল না। শুধু ঠক, ঠক! ধীরে ধীরে দরজায় ধাক্কা। মাঝে মাঝে টিনের চালে কিছু এসে পড়ছে—ইট বা কংক্রিটের টুকরো। বিকট শব্দে ঘর দুলে উঠছে, অথচ চারপাশ নিস্তব্ধ।



আমার বালকমনে তখন ভীষণ ভয়। মনে হচ্ছিল, চোর! ডাকাত! না কি ভূত! তাকালাম মায়ের দিকে—সেখানে এক অচেনা উদ্বেগ, এক অজানা শীতলতা। আমি মাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম। তাঁর বুকের ভেতরেই যেন আমার আশ্রয়। এভাবেই কেটে গেল এক দীর্ঘতম রাত।



পরবর্তী সময়গুলোও ঘুমকে তাড়িয়ে দিয়েছে। ঘরের মেঝেতে কেবল হারিকেনের নরম আলোয় ছায়ার খেলা। ঠাণ্ডা বাতাসে কেঁপে ওঠা গাছের ডাল। আমি তখন ভাবি, অন্ধকারের প্রতিটি শব্দ যেন নতুন নতুন রহস্যের ফসল ছুড়ে দিচ্ছে বালক মনকে।



এরপর গভীর রাতে বাপজান বাজার থেকে আর বড় ভাইরা মাহফিল থেকে ফিরলেন। ঘরে খানিক স্বস্তির হাওয়া। বড় ভাই বারান্দায় গেলেন, অন্ধকারে টর্চ ছাড়াই পাঞ্জাবি খুলে টিনের সাথে লাগানো রশিতে রাখতে। হঠাৎ তাঁর পা ভেতরের দিকে ঢলে পড়ে। এক চিৎকারে আমরা ছুটে যাই সেখানে।



টর্চ জ্বালাতেই দেখা গেল—ঘরের ঠিক পাশে এক বিশাল গর্ত! মাটি তাজা খোঁড়া, চারপাশে ছড়ানো। চোরেরা এসেছে—সিঙ খুঁড়েছে ঘরের নিচ দিয়ে ঢোকার জন্য। ভাই তখন স্তম্ভিত, মুখে কেবল, “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন…”



বাপজান এসে দাঁড়ালেন, আম্মাও ছুটে এলেন হারিকেন হাতে। সবাই তাকিয়ে রইলাম গর্তটার দিকে। এরপর শুরু হলো খোঁজাখুঁজি। চোর কোথায়! কে এসেছে! চারদিক চষে দেখা হলো। কিন্তু কেউ নেই। চোর পালিয়ে গেছে। তবু আশ্চর্য—ঘর থেকে কিছুই নিতে পারেনি সে।



সেই রাত কাটল নির্ঘুম। ভয়, উত্তেজনা, এবং বেঁচে যাওয়ার কৃতজ্ঞতায়। আমি—বালক আমি—ঘুমাতে পারিনি সেদিন। চোখের সামনে ঘুরে ফিরেছে টিনচালার ছায়া, হারিকেনের আলো, আর সেই গর্ত। রাতের নিস্তব্ধতা, ভয়ের স্ফীত হৃদয়, মায়ের শান্ত ছায়া—সবই যেন এক মিশ্র অনুভূতির আঁচল।



বছর কেটে গেছে বহু। আজও মনে হলে শিরদাড়া বেয়ে শীত নেমে আসে। ভাবি—চোর না এলে হয়তো জানতামই না, আমাদের শৈশবও কত গভীর গর্তের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। কখনো কখনো মনে হয়, সেই রাতে কেবল চোর আসেনি—আসছে শৈশবের ভঙ্গুরতা, ভয়ের সাথে মিলেমিশে রচিত সাহস, এবং মায়ের বুকের আশ্রয়—সবই আমাদের ছাঁয়ার মতো পাশে থেকেছে। সেই রাত আমাকে শিখিয়েছে, ভয়ের মধ্যেও বেঁচে থাকার আনন্দ কতটা মূল্যবান।



রচনাকাল—

দশ, এগারো, পঁচিশ 

সোমবার,  image

আমি রফিক আতা, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 7 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 266 টি লেখা ও 11 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 5442। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া
Enolej ID(eID): 1821
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
কেন মনে পড়ে শৈশব       রফিক আতা কেন মনে পড়ে শৈশব, কেন মনে পড়ে কৈশর, কেন হৃদয়ে ব্যথা জ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
314 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
যে রাতে বাবা কাঁদেনি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প  ⋄ ২৪ নভেম্বর ২০২৫ আমাদের বা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
515 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ওরাও জামেয়ার এক মহার্ঘ সম্পদ রফিক আতা দিনটি ছিলো শুক্রবার। বিকাল থেকেই আকাশ ছিলো [...] বিস্তারিত পড়ুন...
132 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
প্রত্যাবর্তন—আঁধার থেকে আলোর পথে  রফিক আতা ১. আদনান বড়লোক ঘরের ছেলে। সদ্য এসএসস[...] বিস্তারিত পড়ুন...
167 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
প্রভাতের মৃদু আলোয় ব্যালকনিতে বসে আমি টেবিলের উপর খাতা খুলে কিছু পুরোনো স্মৃতি লিখ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
153 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1333 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    66 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    43 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  3. Adiba jannat

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  4. রাকিব মুসাব্বির

    1 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...