মা কোনো অপশন নয়
কাঁপা গলায় প্রশ্ন জাগে, বুকের ভেতর ঝড়,
মায়ের নামে ‘অপশন’ কেন? মা-ই তো আসল ঘর।
যে হাত ধরে হাঁটতে শেখা, শক্ত মাটির ‘পরে,
তাকে ছেড়ে সুখ খুঁজব কেমন কেমন করে?
ওরা বলে, “ছেড়ে দে মা’কে, তবেই জীবন দামী,”
শর্ত দিয়ে সুখ কেনা যায়? এ কেমন পাগলামি!
জন্মদাত্রী, নাড়ির বাঁধন—ছিঁড়বে কেমন করে?
গাছ কি বাঁচে শিকড় কেটে, কৃত্রিম এক ঘরে?
অপবাদ দেয়— “নেই তো রূপ, নেই পুঁথিগত জ্ঞান,
মুখের ওপর সত্য বলে, বাড়ায় অপমান।”
সেই সত্যই তো দহন জ্বালা মিথ্যে সাজের ভিড়ে,
তাই কি আজ শর্ত আসে— যেও না মায়ের নীড়ে?
আইন কেন অন্ধ থাকে? কেন নেই সেই ধারা?
বৃদ্ধা মাকে করলে পর, জুটবে জেল বা তাড়া।
বিয়ে মানেই মা-বাবাকে আবর্জনা ভাবা?
এ সমাজকে ধিক্কার দিই, বন্ধ হোক এই থাবা।
একদিকে ওই ‘সাজানো সুখ’, অন্যদিকে মোর ‘মা’,
দাঁড়িপাল্লায় মাপছো হৃদয়? এ ভুল তরজমা!
দেবলীনার ওই কান্না আজ হাজার মেয়ের স্বর,
মা কোনোদিন অপশন নয়, মা-ই আমার বর।
শোনো হে সমাজ, শোনো পাষাণ, জেনে রাখো সারাজীবন,
মাকে বেছে নেওয়াই সাহস, মা-ই আসল ধন।
শিকড় ছিঁড়ে সুখ মেলে না, মেলে না পরিচয়,
মায়ের পায়ের ধুলো ছাড়া— স্বর্গও তুচ্ছ হয়।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।