Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

মায়ের নীরবতা

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
5 বার প্রদর্শিত
করেছেন (25,432 পয়েন্ট)   1 দিন পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

মায়ের নীরবতাimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প | ১৯ আগস্ট ২০২৬


দুপুরে রান্নাঘর থেকে পোড়া ডালের গন্ধ আসছিল।


বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিরে মেঘলা ব্যাগটা সোফায় রেখে রান্নাঘরে ঢুকল। নিশি চুলার সামনে দাঁড়িয়ে। হাতে খুন্তি। ডাল চুলা বেয়ে নেমে শুকিয়ে কালচে হয়ে গেছে। গ্যাসের আঁচ তখনও জ্বলছে।

মা!

নিশি ফিরে তাকাল।

কী?

ডালটা পুড়ে যাচ্ছে।


নিশি চুলার দিকে তাকিয়ে যেন এই প্রথম দেখল।

ও মা!

গ্যাস বন্ধ করে একটু হাসল।


কী যে করি আজকাল! দাঁড়িয়ে ছিলাম, কখন যে...

কথাটা শেষ করল না।


মেঘলা পোড়া ডাল পরিষ্কার করতে করতে জিজ্ঞেস করল,


কোথায় তাকিয়ে ছিলে?

নিশি জানালার দিকে তাকাল।

ওইদিকে।


জানালার বাইরে পাশের বাড়ির দেয়াল। তার ওপরে আকাশের সামান্য একটা ফালি।


মেঘলা আর কিছু বলল না।


তবে সেদিন থেকেই মায়ের ছোট ছোট বদলগুলো তার চোখে পড়তে লাগল।


আগে বিকেলে চা বানিয়ে নিশি বারান্দায় বসত। এখন চা ঠান্ডা হয়ে পড়ে থাকে। টিভি চলে, কিন্তু নিশি রিমোট হাতে নিয়ে বসে থাকে না। বাজার থেকে ফিরে আগের মতো ব্যাগ খুলে সবাইকে দেখায় না কী এনেছে।


এক রাতে খাওয়ার সময় অভিক ডালে এক চামচ ভাত মিশিয়ে বলল,

নুনটা একটু বেশি হয়েছে মনে হয়।

মিশি সঙ্গে সঙ্গে বলল,

বাবা, আজকাল মায়ের রান্নায় নতুন নতুন এক্সপেরিমেন্ট হচ্ছে।


নিশি চোখ তুলে তাকাল।

তোর খাওয়া বন্ধ করে দেব?

না মা। আমি তো প্রশংসা করলাম।

সবাই হেসে উঠল।


কিছুক্ষণ পর মেঘলা দেখল, নিশির প্লেটে ডাল নেই।

মা, তুমি ডাল নাওনি?

খাচ্ছি তো।


নিশি এক চামচ ডাল নিয়ে ভাতের সঙ্গে মিশিয়ে নিল।


শুক্রবার দুপুরে মেঘলা মায়ের ঘরের দরজা বন্ধ দেখে ডাকল।

মা?

ভেতর থেকে একটু দেরি করে উত্তর এল,

কী?


দরজা খুলে মেঘলা দেখল, নিশি পুরোনো একটা অ্যালবাম নিয়ে বসে আছে।


একটা ছবিতে মেঘলা আর মিশি খুব ছোট। অভিকের পাশে দাঁড়িয়ে নিশি। ছবির চারজনের মুখেই হাসি।


মেঘলা ছবিটা হাতে নিয়ে বলল,

মা, আমার এই জামাটা মনে আছে?

তুই পরতে চাইতিস না।

কেন?

বলতিস, গায়ে চুলকায়। পরে তোকে জোর করে পরিয়েছিলাম।

মেঘলা হেসে ফেলল।


কিছুক্ষণ পর বলল,

তুমি এখন এসব ছবি দেখো?


নিশি পাতাটা উল্টাতে উল্টাতে বলল,

মাঝে মাঝে।

আগে তো দেখিনি।

নিশি একটু থেমে বলল,

আগে সময় কোথায় ছিল?


তারপর অ্যালবামটা বন্ধ করে উঠে গেল।


সেদিন রাতে পানি খেতে উঠে মেঘলা মায়ের ঘর থেকে আসা পুরোনো গানের শব্দ শুনল।


দরজার কাছে দাঁড়িয়ে দেখল, নিশি একটা ছোট রেডিও কানে লাগিয়ে বসে আছে।


গান শেষ হলে নিশি বালিশের নিচ থেকে ভাঁজ করা একটা কাগজ বের করল। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে আবার সেটি রেখে দিল।


মেঘলা চুপচাপ সরে গেল।


পরদিন সকালে সে মিশিকে বলল,

তুই মায়ের মধ্যে কিছু খেয়াল করেছিস?


মিশি চায়ের কাপ হাতে বলল,

মা তো এমনই মাঝে মাঝে।


একটু পর নিজেই বলল,

তবে ইদানীং বেশি চুপ থাকে।

আর কিছু?

কাল রাতে আমার ঘরে এসেছিল।

কী বলল?

বলল, “তোর ঘরটা কেমন অন্ধকার হয়ে আছে।”


মেঘলা হেসে ফেলল।

রাতে তো অন্ধকার থাকবেই।

মিশি বলল,

আমি সেটাই বলেছি।


তারপর একটু চুপ করে বলল,

মা মাঝে মাঝে কথা বলতে আসে। আমরা বুঝতে পারি না।


সন্ধ্যায় অভিক ফিরলে মেঘলা বলল,

বাবা, মায়ের সঙ্গে একটু কথা বলো।

অভিক অবাক হলো।

কী হয়েছে?

জানি না। শুধু মনে হচ্ছে, ও ঠিক নেই।


সেদিন রাতে অভিক নিশির পাশে বসে বলল,

আজকাল তোমাকে একটু চুপচাপ লাগে।


নিশি হেসে বলল,

বয়স হচ্ছে। কথা কমে গেছে।


অভিক কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,

কিছু হলে আমাকে বলো।

নিশি তাকিয়ে রইল।

আচ্ছা।


তারপর সংসারে খুব বড় কোনো পরিবর্তন হলো না। শুধু কাজগুলো একটু ভাগ হয়ে গেল।


মেঘলা নিজের কাপড় নিজে ধুতে শুরু করল। মিশি রান্নাঘরে মায়ের পাশে দাঁড়াল।


একদিন আলু কাটতে গিয়ে মিশির আঙুল কেটে গেল।


নিশি ছুটে এসে বলল,

দে দেখি!

মিশি হাত লুকিয়ে বলল,

কিছু হয়নি।

রক্ত পড়ছে, আবার বলছিস কিছু হয়নি?

তুমিই তো বলো, ছোটখাটো ব্যাপারে ভয় পেতে নেই।

নিশি হেসে ফেলল।

আমার কথাই আমার কাছে ফিরিয়ে দিস?

তাহলে ব্যান্ডেজ দাও।


নিশি ওষুধের বাক্স আনতে গেল।

মিশি পেছন থেকে বলল,

মা, তুমি কিন্তু বেশি চিন্তা করো।


নিশি ফিরে তাকিয়ে বলল,

আর তুই কম করিস। তাই তো সংসারটা চলে।


এক বিকেলে মেঘলা বলল,

মা, আজ তুমি রান্না করবে না।

কেন?

আজ আমি করব। মিশি সাহায্য করবে।


নিশি হেসে বলল,

তোমরা রান্না করলে আজ বাইরে থেকে খাবার আনতে হবে।


দরজায় দাঁড়িয়ে অভিক বলল,

আমার চা?

মেঘলা বলল,

নিজেরটা নিজে বানাও, বাবা।


অভিক মুখ গম্ভীর করে বলল,

এই বাড়িতে আমার কোনো দামই নেই।

মিশি হেসে উঠল। নিশিও।


অনেকদিন পর মেঘলার মনে হলো, মায়ের হাসিটা আজ সত্যিই হাসি।


সন্ধ্যায় চারজন মিলে নিশির পুরোনো রেডিওটা চালাল।


প্রথমে কর্কশ শব্দ। তারপর ধীরে ধীরে গান ভেসে এল।


কেউ কিছু বলল না।


নিশি একবার মেঘলার দিকে, একবার মিশির দিকে তাকাল। তারপর অভিকের দিকে।


বালিশের নিচে রাখা কাগজটার কথা কেউ জিজ্ঞেস করল না।


রেডিও বাজতে থাকল।


ঘরের ভেতর খুব সাধারণ একটা নীরবতা ছিল।

কিন্তু সেদিন সেই নীরবতায় নিশি একা ছিল না।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1259 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 25432। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4734
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


মায়ের ক্লান্ত চোখ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প। ১৫ জুন, ২০২৬ অভিকের রোগটা হঠাৎ আসেনি। ধীরে ধীরে এসেছে, আর ঠিক ততটাই ধীরে বদলে দিয়েছে তার মায়ের চোখ। শুরুতে ওই চোখে ভয় ছিল। তারপর দুশ্চিন্তা�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
25 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নীরব মানুষটার শেষ সীমা   পর্ব–৩ : অভিকের নীরবতা   একটি ধারাবাহিক গল্প   লেখক: মোহা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
26 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অন্তহীন নীরবতা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ছোটগল্প। জানুয়ারি ০১,২০২৬ ডিসেম্বরের শেষú[...] বিস্তারিত পড়ুন...
474 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বিবেকের মৃত্যু শুরু হয় নীরবতা থেকে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  বিশ্লেষণধর্মী ১৮ জুলা&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
22 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শিশুর কান্না আর রাষ্ট্রের নীরবতা  মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী । ২৩ মে, ২০২&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
433 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1598 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    79 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Monsoon Harmony

    904 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    45 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. Mayabi Ilmaz Megh

    743 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    37 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. রফিক আতা

    367 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    18 টি আইডিয়া ব্লগ

...