ক্লান্ত নূপুরের ধ্বনি
প্রথম পর্ব: বিষণ্ন বিকালের ছায়া
মোহম্মদ জাহিদ হোসেন
২৩ জুলাই, ২০২৬
শুষ্ক ঠোঁটে তোমার শরীরের ঘ্রাণ পেয়ে জেগে দেখি, তুমি ক্লান্ত নূপুর। ভোর থেকে ছিটকে পড়া বিষণ্ন বিকেল, অথবা কোনো ঘুম ভাঙা ভুল।
অভিক চোখ মেলে তাকাতেই ঘরের থমথমে নীরবতা তাকে গ্রাস করল। জানালার পর্দা পেরিয়ে বিকেলের মরা আলো এসে পড়েছে বিছানায়। পাশেই পড়ে আছে নিশির ব্যবহৃত একটি রুপোর নূপুর। একসময় যে নূপুরের রুনুঝুনু শব্দে পুরো বাড়ি মুখরিত থাকত, তা আজ বড়ই ক্লান্ত, নিথর।
অভিক ও নিশির সংসারের বয়স বারো বছর। তাদের ভালোবাসার বাঁধন শক্ত করে ধরে রেখেছে দুই মেয়ে—বড় মেয়ে মেঘ আর ছোট মেয়ে মিশি। মেঘ শান্ত, গভীর জলের মতো গম্ভীর; আর মিশি এক চঞ্চল হরিণী। অথচ এই চারজনের সাজানো সংসারে কোথায় যেন এক নীরব দূরত্ব থাবা বসিয়েছে।
অফিসের টানা কাজের চাপ আর মধ্যবিত্ত জীবনের টানাপোড়েনে অভিক ও নিশির সম্পর্কে জমতে শুরু করেছে না-বলা অভিমানের পাহাড়। নিশি এখন আর আগের মতো হেসে কথা বলে না। সারাদিন সংসারের দায়িত্ব সামলে সে যেন এক জীবন্ত প্রতিমা হয়ে উঠেছে।
বিকেলের ঝাপসা আলোয় নূপুরটি হাতে নিয়ে অভিকের মনে হলো, তাদের ভালোবাসার সোনালী ভোরটা কোন এক ফাঁকে ছিটকে গিয়ে এই বিষণ্ন বিকেলে রূপ নিয়েছে। সবটা কি তবে কেবলই একটা ভুল?
চলবে........দ্বিতীয় পর্ব: স্মৃতির উঠোন
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।