Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

মায়ের ক্লান্ত চোখ

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
114 বার প্রদর্শিত
করেছেন (30,112 পয়েন্ট)   15 জুন "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!
মায়ের ক্লান্ত চোখ

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প। ১৫ জুন, ২০২৬

অভিকের রোগটা হঠাৎ আসেনি।

ধীরে ধীরে এসেছে, আর ঠিক ততটাই ধীরে বদলে দিয়েছে তার মায়ের চোখ।

শুরুতে ওই চোখে ভয় ছিল। তারপর দুশ্চিন্তা। পরে অভ্যাস। এখন আর কিছুই না—শুধু একটা টানটান ক্লান্তি, যেটা ঘুমিয়েও যায় না।

ডাক্তার প্রথম দিনই বলেছিল, “নিয়মিত ওষুধ খাওয়াবেন। মাঝপথে বন্ধ করা যাবে না।”

মা শুধু মাথা নেড়েছিলেন। তখন তিনি বুঝতে পারেননি, সবচেয়ে কঠিন হবে ওষুধ না, বরং প্রতিদিনের জীবনটা টিকিয়ে রাখা।

অভিক মাঝেমধ্যে রাতে কথা বলে—“মা, ওরা এখনো বাইরে আছে।”

মা উঠে দরজা-জানালা দেখে নেন। কেউ থাকে না। তবু বাতি জ্বালানো থাকে। আলোটা যেন ঘরের ভয়টাকে চেপে রাখে।

প্রতিবেশীরা প্রথম দিকে খোঁজ নিত। “ছেলেটার কি আসলে সমস্যা?” মা উত্তর দিতেন না। শুধু হাসার চেষ্টা করতেন। হাসিটা এখন আর ঠিক বসে না মুখে।

পরে তারা আর আসে না। দূর থেকে দেখাই নিরাপদ।

মা কারও ওপর রাগ করেন না। শুধু রাতে রান্নাঘরের মেঝেতে বসে থাকেন অনেকক্ষণ। চুল খুলে পড়ে থাকে কাঁধে। চোখে পানি আসে না, কিন্তু বুকের ভেতরটা ভিজে থাকে সারাক্ষণ।

টাকা কমে আসছিল। ওষুধ, ডাক্তার, বাস ভাড়া—সব মিলিয়ে হিসাব আর মেলে না।

বাবা একদিন শুধু বলেছিলেন, “এভাবে আর কতদিন?”

বাবা হিসাব মেলাতে পারতেন না। তাই কথাও মেলাতে পারতেন না। তারপর কথাটা আর ওঠেনি।

আত্মীয়রা প্রথম দিকে আসত। এখন শুধু ফোন করে খোঁজ নেয়, খুব দূর থেকে।

মা কাউকে দোষ দেন না। কারণ দোষ দিলে শক্তি লাগে, আর তার সে শক্তি আর বাকি নেই।

একদিন অভিক ওষুধ খায়নি। সেদিন সে জানালার পাশে অনেকক্ষণ বসে ছিল।

মা ডাকলেন, “খাবি না?”

অভিক বলল, “মা, আমি ঠিক আছি।”

মা জানতেন, এই “ঠিক আছি” মানে ঠিক না থাকা।

তিনি পাশে বসে ওষুধের পাতাটা খুলে দিলেন। অভিক নিল, কোনো কথা ছাড়াই।

রাতে মা আয়নার সামনে দাঁড়ালেন। চোখের নিচে কালো দাগ, মুখে অদ্ভুত চুপচাপ ক্লান্তি। মনে হলো এই মানুষটা কি সত্যিই সেই মা, যে একসময় ছেলেকে স্কুলে নিয়ে যেত?

পরদিন আবার সব আগের মতো। চুল বেঁধে চা বানালেন। অভিক ঘুম থেকে উঠল। সব স্বাভাবিক।

শুধু চোখ দুটো বদলায় না। ক্লান্তই থাকে।

একদিন ডাক্তার বললেন, “আপনি নিজের শরীরটাও খেয়াল করবেন।”

মা একটু হাসলেন—“ওরটা না দেখলে আমি কীভাবে নিজেরটা দেখব?”

ডাক্তার কিছু বললেন না।

এই নীরবতা মা খুব ভালোভাবে বোঝেন।

রাত নামলে অভিক কখনো কখনো প্রশ্ন করে—“মা, তুমি আমাকে একা ফেলে যাবে না তো?”

মা থেমে যান। তারপর বলেন, “না রে।”

কিন্তু সেই না-টা ভেতরে ঠিক থাকে না।

কারণ তিনি জানেন, মানুষ কতদিন পারে—তার কোনো হিসাব নেই।

শুধু এখনো তিনি পারেন। এখনো।

একদিন সকালে অভিক খুব শান্ত ছিল। অস্বাভাবিক শান্ত।

মা ভাত বেড়ে দিলেন। অভিক খেতে খেতে বলল, “মা, আমি আগে যেমন ছিলাম, আবার হতে পারব?”

মা কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলেন। উত্তর খুঁজলেন না। শুধু বললেন, “খা আগে।”

বিকেলে মা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। রাস্তা দিয়ে মানুষ যাচ্ছিল। সবাই নিজের মতো ব্যস্ত।

মায়ের মনে হলো, এই পৃথিবীতে সবচেয়ে একা মানুষটা সে না। আরও অনেকেই আছে, যারা চুপচাপ লড়ছে।

রাত নামলে অভিক ঘুমিয়ে পড়ল। মুখটা খুব সাধারণ লাগে। কোনো ভয় নেই, কোনো শব্দ নেই। শুধু ক্লান্তি।

মা পাশে বসে থাকলেন। ঘড়ির টিকটিক শব্দ শুনতে শুনতে।

তার চোখ দুটো আর কাঁদে না। শুধু দেখে। দীর্ঘ সময় ধরে দেখে।

যেন চোখও ক্লান্তই থাকে।

আর সেই ক্লান্ত চোখ নিয়েই তিনি প্রতিদিন সকালে আবার উঠে দাঁড়ান। অভিকের পাশে।
আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 1 মাস ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1490 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 30112। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4071
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার গল্প-৮ পলকহীন চোখ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প ৯, জুলাই, ২ý[...] বিস্তারিত পড়ুন...
62 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
মায়ের নম্বরে রিচার্জ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন আবেগঘন ছোটগল্প। ১৯ অক্টোবর ২০২৬ মায়ে[...] বিস্তারিত পড়ুন...
30 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
মায়ের নীরবতা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প | ১৯ আগস্ট ২০২৬ দুপুরে রান্নাঘর থেকে পো[...] বিস্তারিত পড়ুন...
53 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ক্লান্ত নূপুরের ধ্বনি পঞ্চম পর্ব: নতুন ভোর মোহম্মদ জাহিদ হোসেন  ২৩ জুলাই, ২০২৬ ব[...] বিস্তারিত পড়ুন...
48 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ক্লান্ত নূপুরের ধ্বনি চতুর্থ পর্ব: আলোর স্পর্শ মোহম্মদ জাহিদ হোসেন  ২৩ জুলাই, ২০ý[...] বিস্তারিত পড়ুন...
55 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    2508 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    12 মন্তব্য

    124 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Mayabi Ilmaz Megh

    393 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    19 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. মিস্টার পেন্সিল

    252 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    12 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    127 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

...