Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চিনি কতটা দিতে হয়

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
2 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,848 পয়েন্ট)   1 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

চিনি কতটা দিতে হয়image

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্প  | ৫ অক্টোবর ২০২৬


স্বামী-স্ত্রী যতই কাবিননামায় চুক্তি করুক, সংসারের শান্তি কোনো চুক্তিতে লেখা থাকে না।


কাবিননামায় অধিকার থাকে, দেনমোহর থাকে, দায়িত্বের কথা থাকে। একজন নারীর আইনি নিরাপত্তার জন্য এসবের গুরুত্বও অনেক। কিন্তু সেখানে লেখা থাকে না, অভিমান করে স্ত্রী মুখ ফিরিয়ে নিলে স্বামী কতক্ষণ পরে পাশে গিয়ে বসবে। লেখা থাকে না, স্বামী সারাদিন বাইরে থেকে ক্লান্ত হয়ে ফিরলে স্ত্রী তাকে এক কাপ চা দেবে কি না।


এই কথাগুলো কোনো কাগজে লেখা যায় না।


অভিক আর নিশির বিয়ের বয়স সাত বছর।

বিয়ের দিন অনেক মানুষের ভিড় ছিল। দুই পরিবার বসে কাবিনের বিষয়গুলো ঠিক করেছিল। স্বাক্ষর হয়েছিল, সাক্ষী হয়েছিল। সেদিন দুজনেরই মনে হয়েছিল, তারা বুঝি জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিটা করে ফেলেছে।


কিন্তু সাত বছর পর তারা বুঝেছিল, আসল চুক্তিটা তখনও বাকি ছিল।


সেটা প্রতিদিন করতে হয়।


এক সন্ধ্যায় অফিস থেকে ফিরে অভিক দেখল, নিশি চুপচাপ বসে আছে।

“কী হয়েছে?”

“কিছু না।”

“কিছু না হলে এমন চুপ করে আছ কেন?”

নিশি টেলিভিশনের দিকে তাকিয়ে বলল, “তুমি বুঝবে না।”


অভিক জুতো খুলতে খুলতে বিরক্ত হয়ে বলল, “আমি কীভাবে বুঝব? তুমি তো বলোই না।”


নিশি এবার তাকাল।

“সব কথা কি মুখে বলতে হয়?”


অভিক কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল।


সেদিন রাতে দুজন একই বিছানায় শুয়েছিল। মাঝখানে কোনো দেয়াল ছিল না। তবু দুজনের মধ্যে একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল।


এই দূরত্বের কোনো কাগজ নেই।

কোনো সাক্ষী নেই।

কোনো স্বাক্ষরও নেই।


তবু সংসারে কখনো কখনো এটাই সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।


কয়েকদিন পর আবার ঝগড়া হলো।


অভিক অফিস থেকে ফিরে বলল, “আজ বাজারটাও আমাকে করতে হলো। বিল দিতে হলো। মেয়ের স্কুলের ফি-ও দিতে হবে। সবকিছুর চিন্তা আমার একার।”


নিশি রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসে বলল, “তুমি বাজার করো, বিল দাও, ঠিক আছে। কিন্তু আমি কি সারাদিন বসে থাকি?”


“আমি কি সেটা বলেছি?”


“বলতে হয় না। তোমার কথাতেই বোঝা যায়।”


অভিক একটু চুপ করে থেকে বলল, “আমি সারাদিন বাইরে থাকি। বুঝি না ঘরে কী কী হয়।”


নিশির গলার স্বর এবার একটু নরম হলো।


“আর আমি সারাদিন ঘরে থাকি বলে কি আমার ক্লান্তি হয় না?”


অভিক তাকিয়ে রইল।


নিশি বলল, “তুমি বাইরে থেকে এসে শুধু নিজের ক্লান্তিটা দেখো। আমি ঘরে থেকে তোমার ক্লান্তিটা দেখি। আমারটাও যদি একটু দেখতে?”


অভিক সেদিন কোনো উত্তর দিতে পারেনি।


কারণ কথাটার উত্তর তর্ক করে দেওয়া যায় না।


সংসারের সমস্যা অনেক সময় দায়িত্ব না নেওয়া থেকে হয় না। হয়তো দুজনেই দায়িত্ব নেয়। কিন্তু নিজের দায়িত্বের হিসাব করতে করতে অন্যজনের পরিশ্রমটা চোখে পড়ে না।


অভিক ভাবে, “আমি এত করি।”

নিশি ভাবে, “আমি কি কম করি?”


তারপর শুরু হয় হিসাব।

কে বেশি খরচ করে।

কে বেশি কাজ করে।

কে বেশি ছাড় দিয়েছে।

কে আগে ক্ষমা চেয়েছে।


এই হিসাবের শেষ কোথায়, কেউ জানে না।


কিন্তু একটা সময় দুজনেই বুঝতে পারে, সংসারে ‘আমি’ আর ‘তুমি’ শব্দ দুটো বড় হয়ে গেছে। ‘আমরা’ শব্দটা ছোট হয়ে গেছে।


অভিক আর নিশির মধ্যেও এমন সময় এসেছিল।


তবে তাদের গল্পটা সেখানেই থেমে থাকেনি।


এক সন্ধ্যায় নিশি রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে ছিল। অভিক এসে দেখল, তার মুখটা ক্লান্ত।


“আজ খুব ক্লান্ত?”

নিশি বলল, “হুম।”

“চা করে দিই?”

নিশি অবাক হয়ে তাকাল।

“তুমি চা বানাবে?”

“চেষ্টা করতে পারি।”

“চিনি কতটা দিতে হয় জানো?”


অভিক একটু ভেবে বলল, “দুই চামচ?”

নিশি হেসে বলল, “আজ এক চামচ দিও।

“কেন?”

“আজ বেশি মিষ্টি লাগবে না।”


অভিক চা বানাতে গেল।


চা খুব একটা ভালো হয়নি। চিনি একটু কম হয়েছিল। তবু নিশি পুরো কাপটাই খেয়ে ফেলেছিল।


অভিক জিজ্ঞেস করল, “খারাপ হয়েছে?”


নিশি কাপটা নামিয়ে বলল, “চা না। চেষ্টা ভালো হয়েছে।”


অভিক হেসে ফেলল।


সেদিন তাদের কোনো বড় সমস্যা মিটে যায়নি। পরদিনও হয়তো ঝগড়া হবে। সংসারে টাকা নিয়ে চিন্তা থাকবে, সন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকবে, ক্লান্তি থাকবে, ভুল বোঝাবুঝিও থাকবে।


তবু একটা জিনিস বদলেছিল।


দুজনেই বুঝেছিল, সংসার টিকিয়ে রাখার জন্য সবসময় বড় কিছু করতে হয় না।


কখনো শুধু জিজ্ঞেস করতে হয়, “তুমি ক্লান্ত?”


কখনো নিজের রাগটা একটু গিলে ফেলতে হয়।


কখনো বলতে হয়, “এই জায়গায় আমি ভুল করেছি।”


আর কখনো এক কাপ চায়ে চিনি কম হলেও সেটা পুরোটা খেয়ে নিতে হয়।


কাবিননামা একজন মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে পারে। অন্যায় হলে আইনি পথও দেখাতে পারে। কিন্তু কাবিননামা কাউকে ভালোবাসতে শেখায় না, সম্মান করতে শেখায় না, ক্ষমা চাইতে শেখায় না।


এসব শেখে মানুষ প্রতিদিনের সংসারে।


বিয়ের দিন দুজন মানুষ কাগজে স্বাক্ষর করে।


কিন্তু সংসার টিকে থাকে সেই স্বাক্ষরের পরের প্রতিটি দিনে।


সেখানে কোনো সাক্ষী থাকে না।

শুধু অভিক আর নিশি থাকে।


আর প্রতিদিন তাদের ছোট ছোট আচরণই ঠিক করে দেয়, তারা শুধু একই ছাদের নিচে থাকবে, নাকি সত্যিই একসঙ্গে সংসার করবে।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1378 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27848। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4934
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
সব চাপ নিতে হয় না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণমূলক লেখা। ৩ অক্টোবর ২০২৬ কখন মান[...] বিস্তারিত পড়ুন...
9 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
যে দরজাগুলো সন্তানের নিজেরই খুলতে হয় মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী। ৭ সেপ্[...] বিস্তারিত পড়ুন...
32 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ফুটপাতের শৈশব পর্ব ৯ — পথশিশু জন্মায় না, তৈরি হয়জ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধরú[...] বিস্তারিত পড়ুন...
49 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ফুটপাতের শৈশব পর্ব ৩ — ঈদের দিনও যার নতুন জামা হয় না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
46 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ডিভোর্স আদালতে শুরু হয় না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  বিশ্লেষণধর্মী। ৩০ জুন, ২০২৬ ডিভো&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
48 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    244 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    3 মন্তব্য

    12 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    122 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. ফাহিম আহমাদ

    61 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    41 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...