Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

অসমাপ্ত শোক

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 বার দর্শন
করেছেন (24,177 পয়েন্ট)   1 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

অসমাপ্ত শোক

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্প । ০৪ আগষ্ট, ২০২৬image


রফিকুলের সকালে একটা ছোট রুটিন আছে।


ঘুম ভাঙে। সে চুপচাপ উঠে জানালাটা খুলে দেয়। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। আলো ঢোকে, হাওয়া ঢোকে। আর হাওয়ার সঙ্গে এমন কিছু ঢুকে পড়ে, যা সে চায় না। তাই বেশিক্ষণ খোলা রাখে না। টেনে বন্ধ করে দেয়। মনে হয়, বেশি আলো পড়লে পুরোনো জিনিসগুলো বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠবে।


সে নিজেকে বলে, ভুলে গেছি।

আসলে ভোলে না। শুধু এড়িয়ে চলে।


অফিসে তাকে দেখে কেউ কিছু বুঝবে না। কাজ করে ঠিকঠাক, দরকার হলে হাসে। লাঞ্চের সময় সহকর্মীরা কলেজ, প্রেম, পুরোনো দিনের গল্প করে। কেউ তাকে জিজ্ঞেস করলে কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলে, "না, আমার তেমন কিছু নেই।"


আছে। কিন্তু সে বলে না।


ছোট একটা শহর ছিল। পাশ দিয়ে রেললাইন গেছে। বিকেলে হাওয়া দিত।

আর ছিল মীরা।


এখন সে মীরার নামটাও মনে মনে উচ্চারণ করতে চায় না। নামটা মাথায় এলেই মন ঘুরিয়ে দেয়। অফিসের হিসাব, বাজারের ফর্দ, বাড়ি ভাড়া দেওয়ার তারিখ - এইসব ভাবতে থাকে। যেন নিজের মনকে অন্য কাজে ব্যস্ত রাখা যায়।


দশ বছর আগে হুট করে শহর ছেড়েছিল। কাউকে তেমন কিছু বলেনি। সবাই ভেবেছিল, ভালো চাকরি পেয়েছে বোধহয়। সত্যিটা খুব সোজা। একটা দুর্ঘটনা।


সেদিন বৃষ্টি পড়ছিল। রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে ছিল। মীরা বলেছিল, চল একটু বেরোই। সে না করেনি। বাইকটা কত জোরে চলছিল, এখন আর ঠিক মনে নেই। শুধু মনে আছে, সামনে হঠাৎ একটা ট্রাক চলে এসেছিল। তারপর সব সাদা।


হাসপাতালের সাদা আলো।

আর কারও গলা - "মেয়েটাকে বাঁচানো গেল না।"


এই একটা বাক্য এখনো তার মাথার ভেতর বাজে। হঠাৎ, কোনো কারণ ছাড়াই।


লোকজন বলেছিল, দুর্ঘটনা তো দুর্ঘটনাই। এতে কারও হাত থাকে না।

সে মানতে পারেনি।

নিজেকে জিজ্ঞেস করেছে, কেন বেরোলাম? কেন আরেকটু সাবধানে চালালাম না? কেন থামলাম না?


এই 'কেন'গুলোই রাতের ঘুম কেড়ে নিত।


শুরুতে কাঁদত। তারপর একসময় কান্নাটাও বন্ধ হয়ে গেল।

একদিন ঠিক করল, সব সরিয়ে ফেলবে। ছবি পুড়িয়ে ফেলল। নম্বর বদলে ফেলল। শহর বদলাল। পুরোনো বন্ধুদের এড়িয়ে চলল। ভেবেছিল, দূরে গেলে বেঁচে যাবে।


দূরে গিয়েও কিছু বদলায়নি। শুধু ভেতরটা আরও ফাঁকা হয়ে গেছে।


ফুলের দোকানের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তাকায় না। মীরা রজনীগন্ধা ভালোবাসত।

বৃষ্টির দিনে ছাতা নিয়ে হাঁটে। আগে ভিজতে ভালো লাগত। এখন আর ইচ্ছে করে না।


এভাবেই সে রোজ একটু একটু করে পুরোনো দিনগুলোকে চেপে ধরে রাখে। নিজেকে বোঝায়, কিছুই ছিল না।


একদিন অফিস থেকে ফিরে দেখে, পাশের ফ্ল্যাটে নতুন পরিবার এসেছে। ছোট একটা মেয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে হাত বাড়িয়ে বৃষ্টি ধরছে। হেসে বলছে, "মা, দেখো!"


রফিকুল নিজের জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। দৃশ্যটা দেখে বুকের ভেতর হালকা ধাক্কা লাগল।


মীরাও ঠিক এভাবে বলত, "এই মুহূর্তটা মনে রাখবি।"

সে তখন হাসত, গুরুত্ব দিত না।


অনেকদিন পর সেদিন সে জানালাটা পুরো খুলে দিল। বৃষ্টির ছাঁট ভেতরে এসে পড়ছিল। সে সরল না।


সেই রাতে আলমারির নিচে রাখা পুরোনো ট্রাঙ্কটা টেনে বের করল। ভেবেছিল সব ফেলে দিয়েছে। তবু একটা খামের ভেতর একটা ছবি রয়ে গেছে। দুজন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে। মীরা হাসছে। সে একটু অপ্রস্তুত হয়ে আছে।


ছবিটার দিকে তাকিয়ে অনেকক্ষণ বসে রইল। চোখ ভিজেছে কি না, নিজেই টের পেল না। শুধু মনে হলো, এতদিন ধরে শক্ত করে ধরে রাখা কিছু যেন একটু আলগা হলো।


পরদিন সকালে জানালাটা খুলেই দাঁড়িয়ে রইল।

বাইরে রোদ উঠেছে।

মনে মনে বলল, "সবটা আমার দোষ ছিল না।"

কথাটা সহজে বেরোল না। তবু বলল।


সে বুঝতে পারল, এতদিন সে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করেনি, পালিয়ে বেড়িয়েছে। মীরাকে মুছে ফেলতে গিয়ে নিজের একটা অংশকেও তালা দিয়ে রেখেছিল।


শোকটা শেষ হয়ে যায়নি। হয়তো কখনো যাবেও না।

কিন্তু এখন আর সে প্রতিদিন সেটাকে মেরে ফেলতে চায় না।

মনে পড়লে চুপ করে বসে থাকে।

সরে যায় না।


কারণ সে ধীরে ধীরে মানতে শিখছে -

সব শোক ফুরায় না।

কিছু শোক নিয়েই মানুষ বাঁচে।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1197 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 24177। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4561
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
বৃদ্ধাশ্রমে জমে থাকা অসমাপ্ত গল্প মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প। ০২ আগষ্ট,  ২০২৬ [...] বিস্তারিত পড়ুন...
7 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অসমাপ্ত প্রেম  মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ছোটগল্প। মার্চ ২২, ২০২৬   রাস্তার বাঁকের চা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
390 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অসমাপ্ত শব্দের শহর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন গদ্য কবিতা। ০৬-০৫-২০২৬ হাসপাতালের বিছান[...] বিস্তারিত পড়ুন...
407 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
স্মৃতি কি সত্য নাকি অসমাপ্ত জীবনের গল্প মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, প্রাবন্ধিক বিশ্লেষ&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
440 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিজের ছায়ার সামনে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প। ০৩ আগষ্ট, ২০২৬ জেলা জজ আদালতে আব[...] বিস্তারিত পড়ুন...
5 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    343 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    17 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    1 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...