Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

শুধু পরিবারের নয়

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
38 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,228 পয়েন্ট)   29 জুলাই "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

image

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্প। ২৯ জুলাই, ২০২৬


একটি শিশুকে বড় করে তোলে শুধু একটি পরিবার নয়, তার চারপাশের পুরো পৃথিবীটাও।


অভিক মনে-প্রাণে বিশ্বাস করত, সন্তানকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্বটা পুরোপুরি বাবা-মায়ের। তাই নিজের দুই সন্তানের জন্য তার চেষ্টার কোনো কমতি ছিল না। ভালো স্কুল, ভালো বই, নিয়ম করে পড়াশোনা — যা যা দরকার, সবকিছুই সে আগলে রেখেছিল। তার ধারণা ছিল, এভাবেই সন্তানের ভবিষ্যতের ভিতটা মজবুত হয়।


কিন্তু একটা ছোট ঘটনা তার এই বিশ্বাসটাকে নাড়িয়ে দিল।


অভিকের ছেলে রায়ান তখন ক্লাস সিক্সে পড়ে। শান্ত, চুপচাপ স্বভাবের ছেলে। পড়াশোনায় ভালো, কারও সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদে নেই।


এক বিকেলে স্কুল থেকে ফিরে রায়ানকে খুব চুপচাপ লাগছিল। ব্যাগটা রেখে সে জানালার পাশে গিয়ে বসল, কোনো কথা বলছে না।


অভিক কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল,

— কী হয়েছে বাবা?


রায়ান কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,

— আমাদের ক্লাসে একটা ছেলেকে সবাই নিয়ে হাসাহাসি করে। কেউ ওর পাশে বসতে চায় না।


অভিক বলল,

— তুমি কিছু বলোনি?


রায়ান মাথা নিচু করে আস্তে করে বলল,

— সবাই যখন হাসে, তখন একা একা কিছু বলতে খুব ভয় লাগে।


ছেলের এই কথাটা শুনে অভিক আর কোনো উত্তর দিতে পারল না। তার মনে হলো, ছেলেকে ঘরে বসে ভালো কথা শেখালেই তো দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। সে যে পরিবেশে বড় হচ্ছে, সেই পরিবেশটাও তো সমান গুরুত্বপূর্ণ।


পরদিন সকালে অভিক স্কুলে গেল। ক্লাস টিচারের সঙ্গে দেখা করে সবটা খুলে বলল।


সব শুনে শিক্ষক বললেন,

— দেখুন, একটা বাচ্চা বাড়িতে এক রকম শেখে। কিন্তু বাইরে এসে যদি তার উল্টোটা দেখে, তখন সে দ্বিধায় পড়ে যায়। ও বুঝতে পারে না কোনটা ঠিক। তাই শুধু পরিবার বা শুধু স্কুল — একা কারও পক্ষেই এই দায়িত্ব সামলানো সম্ভব না।


কথাটা অভিকের মনে গভীরভাবে গেঁথে গেল।


এরপর সে কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলল। সবাই মিলে স্কুলে একটা ছোট আলোচনার ব্যবস্থা করলেন। সেখানে ঠিক হলো, কেউ কাউকে নিয়ে হাসলে বা কাউকে একা করে দিলে শুধু শাস্তি দেওয়া হবে না, কেন এই আচরণটা ভুল, সেটাও সবাইকে বুঝিয়ে বলা হবে।


পরিবর্তনের হাওয়াটা পাড়াতেও এসে লাগল। বিকেল বেলা খেলার মাঠটা পুরোপুরি বাচ্চাদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হলো। পাড়ার বড়রা নিজেরাও খেয়াল রাখতে শুরু করলেন, যাতে তাদের কোনো আচরণ ছোটদের সামনে খারাপ উদাহরণ হয়ে না দাঁড়ায়।


পরিবর্তনটা এল, তবে খুব ধীরে ধীরে।


কয়েক দিন পরের ঘটনা। অভিক ছেলেকে আনতে স্কুলে গেছে। জানালা দিয়ে ক্লাসের ভেতর তাকিয়ে দেখল, রায়ান সেই ছেলেটার পাশেই বসে আছে, যাকে সবাই এড়িয়ে চলত।


বাড়ি ফিরে অভিক জিজ্ঞেস করল,

— আজ ওর পাশে বসেছিলে?


রায়ান হেসে বলল,

— শুধু আমি না, বাবা। আরও কয়েকজন বসেছে। আমরা এখন একসঙ্গে টিফিন খাই।


এই কথা শুনে অভিকের মুখেও নিজের অজান্তে হাসি ফুটে উঠল।


সেদিন সে বুঝতে পারল, একজন আন্তরিক শিক্ষক চাইলে একটা ক্লাসরুম বদলে দিতে পারেন। কয়েকজন সচেতন বাবা-মা চাইলে একটা স্কুলের পরিবেশ বদলে দিতে পারেন। আর সেই বদলে যাওয়া সুন্দর পরিবেশটাই একটু একটু করে বদলে দেয় একটা শিশুর মন।


সন্তানকে মানুষ করার কাজটা ঘরের চৌকাঠে এসে শেষ হয়ে যায় না।


সে যখন ঘরের বাইরে পা রাখে, তখন তার শিক্ষক, তার বন্ধু, তার প্রতিবেশী, তার খেলার মাঠ — সবাই মিলে একটু একটু করে তার ভেতরের মানুষটাকে গড়ে তোলে।


তাই একটা শিশুর জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে চাইলে শুধু নিজের সন্তানের দিকে তাকালেই চলে না।


চারপাশের প্রতিটি শিশুর জন্যই আমাদের একটু একটু করে দায়িত্ব নিতে হয়।


কারণ, একটি শিশুর বেড়ে ওঠা কখনোই শুধু একটি পরিবারের গল্প নয়, এটি পুরো সমাজের গল্প।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 11 মাস 2 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1348 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27228। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4525
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
নীরব মানুষটার শেষ সীমা   পর্ব–২ : ভালোবাসা নয়, নিয়ন্ত্রণ   একটি ধারাবাহিক গল্প  [...] বিস্তারিত পড়ুন...
43 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশি উপাখ্যান সিরিজ   গল্প-২   যত্নের নামে নয়   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ২৮, জুন, ২০&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
44 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নীরব মানুষটার শেষ সীমা   পর্ব–৪ : সব দোষ কি শুধু পুরুষের?   একটি ধারাবাহিক গল্প   লে&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
44 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

কোরআনের ভাষার একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো, আল্লাহ অধিকাংশ ক্ষেত্রে "أقسم" (আমি শপথ করছি) বলেননি। বরং কেবল وَ (ওয়াও) অক্ষর ব্যবহার করেই শপথ প্রকাশ করেছেন। এটি আরবি বালাগাহর অত্যন্ত শক্তিশালী একটি �[...] বিস্তারিত পড়ুন...
32 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

শিউলি গাছটার নীচে বসে রীতু তাকিয়ে থাকে পুরোনো বাড়িটার দিকে। একসময় এই উঠানেই সন্ধ্যায় ভেসে আসতো তার হাসির শব্দ,বাবার ডাক,ভাইয়ের দৌড় ঝাঁপ। এখন শুধুই নিস্তব্ধতা_ দেয়ালে ফাটল,জানালায় �[...] বিস্তারিত পড়ুন...
213 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1129 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    56 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. রফিক আতা

    269 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    13 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. আল-আমিন (আলো)

    117 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    5 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    62 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

...