Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

একটা মিথ্যা

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
441 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,848 পয়েন্ট)   28 মার্চ "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

একটা মিথ্যাimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন 

ছোটগল্প। মার্চ ২৮,২০২৬


বৃষ্টি পড়ছিল সারাদিন। এমন বৃষ্টি, যেটা থামে না—শুধু একটু ধীর হয়, আবার শুরু হয়।


হাসপাতালের করিডোরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। সাদা দেয়াল, সাদা আলো—সবকিছু এত পরিষ্কার যে ভেতরের জিনিসগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।


রুম ৪০২।


দরজাটা আধখোলা। ভেতর থেকে কাশির শব্দ আসছিল—লম্বা, টানা।


আমি ঢুকলাম।


বৃদ্ধ লোকটা তাকিয়ে আছেন। চোখ দুটো অস্বাভাবিকভাবে পরিষ্কার। যেন শরীরের বাকি অংশ ধীরে ধীরে নিভে যাচ্ছে, কিন্তু চোখ এখনো টিকে আছে।


পাশে তার মেয়ে। হাতে রিপোর্ট। কাগজটা ভাঁজ করা, কিন্তু শক্ত করে ধরা।


“ডাক্তার কী বললেন?”

বৃদ্ধ জিজ্ঞেস করলেন।


আমি কাগজটা নিলাম।


শেষ পর্যায়।

ছড়িয়ে পড়েছে।

অপারেশন সম্ভব নয়।


আমি পড়ে ফেললাম। আবার ভাঁজ করলাম।


মেয়েটা আমার দিকে তাকালো। তারপর খুব আস্তে বলল,

“আপনি… উনাকে কী বলবেন?”


আমি কিছু বললাম না।


সে আরেকটু ঝুঁকে এল।

“উনি এসব নিতে পারবেন না।”


কথাটা অনুরোধের মতো শোনাল না।

বরং যেন একটা সিদ্ধান্ত, যেটা সে নিজে বলবে না।


বৃদ্ধ হালকা হেসে বললেন,

“কিছু না তো?”

“ডাক্তাররা একটু বাড়িয়ে বলে, তাই না?”


আমি দাঁড়িয়ে রইলাম।


এই প্রশ্নটা আমি চিনি।


অনেক বছর আগে, আমি একই রকম একটা ঘরে দাঁড়িয়ে ছিলাম।


সেদিন আমি সত্যি বলেছিলাম।


তিনি চুপ করে ছিলেন অনেকক্ষণ।

তারপর জিজ্ঞেস করেছিলেন,

“তাহলে আর সময় নেই?”


আমি বলেছিলাম, “না।”


তারপর থেকে তিনি অপেক্ষা করতেন।

শুধু অপেক্ষা।


চা ঠান্ডা হয়ে যেত।

বারান্দা ফাঁকা থাকত।


তিনি বেঁচে ছিলেন।

কিন্তু কোনো কিছুতে অংশ নিতেন না।


“কিছু না তো?”

বৃদ্ধ আবার জিজ্ঞেস করলেন।


আমি ফিরে এলাম।


এই ঘরে।

এই মুহূর্তে।


আমি বুঝলাম—আমি যা বলব, সেটা শুধু তথ্য হবে না।

এটা ঠিক করবে উনি বাকি সময়টা কীভাবে কাটাবেন।


মেয়েটা বলল, খুব নিচু গলায়,

“দয়া করে…”


আমি জানি না—ওটা অনুরোধ ছিল,

না দায় এড়ানো।


আমি বৃদ্ধের দিকে তাকালাম।


“না,” বললাম।

“কিছু না। ওষুধ নিলেই ঠিক হয়ে যাবে।”


শব্দগুলো খুব সহজে বেরিয়ে এল।


যেন আগে থেকেই ছিল।


বৃদ্ধ ধীরে মাথা নাড়লেন।

একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস।


“আমি জানতাম,” তিনি বললেন।


তার চোখে ভরসা ছিল।

সরাসরি।

অবিকৃত।


মেয়েটা মুখ ঘুরিয়ে নিল।


আমি বেরিয়ে এলাম।


করিডোরে একজন নার্স দাঁড়িয়ে ছিলেন।


“রিপোর্টটা দেখেছেন?”


“হ্যাঁ।”


“উনি জানেন?”


আমি একটু থামলাম।


“না।”


নার্স বললেন,

“সবাই জানার অধিকার রাখে।”


আমি কিছু বললাম না।


তিনি চলে গেলেন।


রাতে বাড়ি ফিরলাম।


বৃষ্টি তখনো পড়ছে।


রাস্তার আলো ভেজা পানিতে ভেঙে যাচ্ছে।


একটা কুকুর হাঁটছিল ধীরে—ক্লান্ত।


আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে চা বানালাম।


কাপটা হাতে নিয়ে হঠাৎ মনে হলো—

আমি আজ দুবার মিথ্যা বলেছি।


একবার তাকে।


একবার নিজেকে।


আমি নিজেকে বলেছি—

এটা ওনার ভালোর জন্য।


কিন্তু “ভালো” বলতে ঠিক কী বোঝায়?


আমি জানি না।


ফোন বেজে উঠল।


মেয়েটা।


“বাবা ঘুমিয়ে পড়েছেন,” সে বলল।

“হাসছিলেন।”


আমি চুপ করে রইলাম।


তারপর সে বলল,

“আপনি… ঠিক করেছেন?”


আমি উত্তর দিলাম না।


ওপাশে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।


তারপর সে বলল, খুব আস্তে—

“উনি জিজ্ঞেস করছিলেন… রিপোর্টটা একবার দেখতে পারবেন কিনা।”


আমি কিছু বললাম না।


“আমি বলেছি, দরকার নেই,” সে বলল।

“আপনি তো দেখেছেন।”


আমি চোখ বন্ধ করলাম।


ওপাশে শ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছিল।


তারপর সে বলল,

“আপনি কাল আসবেন তো?”


আমি বললাম, “হ্যাঁ।”


কল কেটে গেল।


চা ঠান্ডা হয়ে গেছে।


বৃষ্টি পড়ছে।


আমি কাপটা নামিয়ে রাখলাম।


অনেকক্ষণ পরে বুঝতে পারলাম—

আমি ঠিক কী অপেক্ষা করছি, সেটা আমি জানি না।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1378 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27848। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3666
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
ফুটপাতের শৈশব পর্ব ৬ — একটা বিস্কুটে কি বদলায় জীবন? মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
45 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
‎সতেরোশ শহীদের রক্তের দাম তুমি চুকালে, ‎তোমার রক্তের মূল্য বলো কে তবে চুকালো? ‎জুø[...] বিস্তারিত পড়ুন...
146 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সিরিজের নামঃ- নিজের জীবনটাও ছিল গল্প ৪-একটা জীবন ধার করে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গ&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
99 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

একটা নজরে পথের পাঁচালী মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী। মে ১১, ২০২৬ পথের পাঁচালী-কে এক নজরে ধরতে গেলে প্রথমেই একটা জিনিস চোখে পড়ে—এখানে গল্প কোনো সরল রেখায় এগোয় না। ঘটনা আছে, কিন্তু ঘটন�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
447 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
গতানুগতিক চিন্তাধারা: মিথ্যা আশার জাল মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী। ২৫ নভ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
478 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    244 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    3 মন্তব্য

    12 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    122 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. ফাহিম আহমাদ

    61 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    41 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...