বড় ছেলে
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
ছোট গল্প | ১৭ আগস্ট, ২০২৬
অভিকের বয়স তখন উনিশ।
সেদিন সন্ধ্যায় বাবা তাকে কাছে ডেকে বলেছিলেন, “তুই তো বড় ছেলে, অভিক। সংসারের অবস্থাটা তো দেখছিস। এবার একটু দায়িত্ব নিতে হবে।”
অভিক মাথা নিচু করে বসেছিল। কী বলবে, বুঝতে পারেনি। শুধু মনে হয়েছিল, বাবার গলার স্বরটা আজ অন্যরকম।
“দায়িত্ব” কথাটার মানে সে বুঝেছিল। কিন্তু তখনও জানত না, এই একটা শব্দ একদিন তার নিজের অনেক স্বপ্নের জায়গা দখল করে নেবে।
অভিক পড়াশোনায় ভালো ছিল। কলেজের স্যারেরা বলতেন, ছেলেটা চেষ্টা করলে অনেক দূর যেতে পারবে। তারও স্বপ্ন ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে, সরকারি চাকরি করবে। বাবা-মাকে একটু স্বস্তি দেবে।
কিন্তু সেই বছরই বাবার অসুখটা বেড়ে গেল। ডাক্তার, পরীক্ষা, ওষুধ—খরচ বাড়তেই থাকল। চিকিৎসা করাতে গিয়ে জমির শেষ অংশটুকুও বিক্রি হয়ে গেল। ঘরে মা-বাবা, অভিক, দুই ছোট ভাই । আয় বলতে কিছু নেই।
এক রাতে বাবা তাকে কাছে ডেকে বললেন,
“তুই যদি একটা কাজ ধরিস, ঘরটা অন্তত চলবে।”
অভিক বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে শুধু বলেছিল, “আচ্ছা বাবা।”
পরদিন থেকেই একটা দোকানে হিসাব লেখার কাজ নিল।
সকাল আটটায় বের হতো। ফিরত রাত দশটা-এগারোটায়। মাসের বেতন হাতে পেলেই খাতা খুলে বসত—বাবার ওষুধ, বাজার, ভাইদের স্কুলের বেতন পড়ার খরচ।
সবশেষে নিজের জন্য কিছু রাখার কথা মনে পড়লে দেখত, আর কিছুই নেই।
নিজের জন্য একটা জামা কিনতে গেলেও দোকান থেকে ফিরে আসত। মনে হতো, পুরোনোটা তো এখনও পরা যায়।
এভাবেই বছর কেটে গেল।
বন্ধুরা কেউ চাকরি পেল, কেউ বিয়ে করল, কেউ শহরের বাইরে চলে গেল। অভিকেরও একসময় বিয়ের কথা উঠল। তারপর নিশি এল তার জীবনে।
নিশি সংসারের টানাটানি বুঝত। অভিকের চুপ হয়ে যাওয়ার কারণও বুঝত।
বিয়ের কয়েক মাস পর একদিন আলমারি গোছাতে গিয়ে সে একটা পুরোনো খাতা পেল। মলাট ছেঁড়া, পাতাগুলো হলদে হয়ে গেছে।
প্রথম পাতায় লেখা—
“বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হব।”
তার ঠিক নিচে—
“টাকা জোগাড় হলে।”
অভিক ঘরে ঢুকতেই নিশি খাতাটা হাতে তুলে জিজ্ঞেস করল, “এটা তোমার?”
“হ্যাঁ।”
“ভর্তি হওনি কেন?”
অভিক একটু হাসল। “হয়নি।”
“কেন?”
কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, “সংসার ছিল।”
নিশি আর কিছু বলেনি। শুধু খাতাটা বন্ধ করে রেখে দিয়েছিল।
সেদিন থেকে মানুষটাকে সে একটু অন্যভাবে দেখতে শুরু করল।
কয়েক বছরের মধ্যে তাদের ঘরে এল মেঘলা। তারপর মিশি।
মেয়েদের জন্মের পর অভিকের জীবনে যেন নতুন আলো জ্বলে উঠল। মেঘলার প্রথম স্কুলে যাওয়ার দিন সে দোকান থেকে ছুটি নিয়েছিল। মেয়ের হাত ধরে স্কুলের গেট পর্যন্ত গিয়ে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল।
মিশির জ্বর হলে সারা রাত তার পাশে বসে থেকেছে। ভোরের দিকে মেয়ের কপালে হাত রেখে যখন দেখল জ্বরটা একটু কমেছে, তখন ক্লান্তিতে চেয়ারে বসেই ঘুমিয়ে পড়েছিল।
নিশি একদিন বলেছিল,
“মেয়েদের জন্য এত ভাবো। নিজের জন্য একটু ভাবো না?”
অভিক হেসে বলেছিল,
“আমার নিজের আবার কী আছে?
তোমরাই তো আছ।”
নিশি সেদিন হাসেনি।
সে জানত, অভিকের নিজের একটা জীবন ছিল। শুধু সেই জীবনটা অনেক আগেই অন্যদের হাতে তুলে দিয়েছে।
এর মধ্যে ছোট ভাই চাকরি পেল। অভিক সেদিন এক কেজি মিষ্টি কিনে বাড়ি ফিরেছিল। মুখে এমন আনন্দ, যেন চাকরিটা সে নিজেই পেয়েছে।
আরেক ভাইও পরে চাকরি পেল। তার জন্যও অভিক ছুটল। কোথায় কাগজ লাগবে, কোথায় টাকা দিতে হবে—সবকিছু সে নিজের দায়িত্ব মনে করেই করল।
নিশি এক রাতে বলল,
“তোমার নিজের মেয়েদের কথাও তো ভাবতে হবে।”
অভিক বলল,
“ভাইগুলো একটু দাঁড়াক। মা'র চিন্তা কমুক। তারপর মেঘলা আর মিশির জন্য ভাবব।”
নিশি চুপ করে গেল।
অভিকের জীবনে সবচেয়ে বড় শব্দ হয়ে উঠেছিল—“তারপর”।
সবকিছুই যেন সেই “তারপর”-এর জন্য।
হঠাৎ একদিন
অভিকের বয়স তখন পঁয়ত্রিশ।
সেদিনও অন্য দিনের মতোই কাজে বেরিয়েছিল সে। দুপুরে ঠিকমতো খাওয়াও হয়নি। সন্ধ্যার দিকে দোকানের হিসাব লিখতে লিখতে হঠাৎ বুকের ভেতর অস্বস্তি শুরু হলো।
প্রথমে গুরুত্ব দেয়নি।
ভাবল, হয়তো গ্যাস।
কিন্তু কিছুক্ষণ পর সে চেয়ারে হেলে পড়ল।
সহকর্মীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেল।
নিশি খবর পেয়ে ছুটে গেল। হাসপাতালের করিডোরে দাঁড়িয়ে সে শুধু একটা কথাই শুনল—
“হার্ট অ্যাটাক হয়েছে।”
নিশির মাথার ভেতর যেন সব শব্দ থেমে গেল।
অভিক বেঁচে গেল।
কিন্তু সেই দিন থেকে তাদের সংসারে আরেকটা নতুন হিসাব ঢুকে গেল—অভিকের ওষুধের হিসাব।
ডাক্তার বিশ্রাম নিতে বলেছিলেন। নিয়ম করে ওষুধ খেতে বলেছিলেন। কিন্তু বিশ্রাম নিলে সংসার চলবে কীভাবে?
কয়েকদিন পর অভিক আবার কাজে ফিরে গেল।
নিশি বলেছিল,
“এভাবে যেও না। শরীরটা তো তোমার।”
অভিক মৃদু হেসে বলেছিল,
“শরীরটা আমার হলে কী হবে?
সংসারটা তো আমার ওপর।”
সেই হাসিটা নিশির ভালো লাগেনি।
কারণ সে বুঝেছিল, অভিক এবার নিজের শরীরটাকেও দায়িত্বের নিচে চাপা দিয়ে দিল।
বছর কেটে গেল।
ওষুধ চলল। সংসারও চলল। কিন্তু অভিক আগের মতো থাকল না। কখনো শরীর খারাপ হলেও কাজে গেল। কখনো ওষুধের দাম বেশি হলে একটা-দুটো ওষুধ বাদ দিল।
নিশি রাগ করত।
অভিক বলত,
“এই মাসটা যাক। পরের মাসে ঠিক করে খাব।”
সেই “পরের মাস”ও অনেক সময় আর আসত না।
অভিকের বয়স যখন পঁয়তাল্লিশ, তখন শরীরের অবস্থা আরও খারাপ হলো। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা বললেন, ওপেন-হার্ট অপারেশন করতে হবে।
অপারেশনের আগের রাতে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে অভিক নিশির হাত ধরে বলেছিল,
“আমি যদি না ফিরি…”
নিশি সঙ্গে সঙ্গে তার মুখ চেপে ধরেছিল।
“এই কথা বলবে না।”
অভিক কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,
“মেঘলা আর মিশিকে দেখো।”
নিশির চোখ বেয়ে পানি নামছিল।
“তুমিই দেখবে।”
অভিক মৃদু হেসেছিল।
“দেখব।”
অপারেশন হলো।
অভিক ফিরে এল।
কিন্তু আগের অভিক আর ফিরে এল না।
শরীর দুর্বল হয়ে গেল। নিয়মিত ওষুধ লাগত। ডাক্তার দেখাতে হতো। কাজ করলেও আগের মতো দীর্ঘ সময় পারত না।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো—সংসারের আয় কমে গেল, কিন্তু খরচ কমল না।
মাসের শেষে নিশি ওষুধের তালিকা, বাজারের খরচ আর মেয়েদের পড়াশোনার খাতা সামনে রেখে বসত।
অনেক রাতে অভিক বলত,
“এই মাসে আমার একটা ওষুধ বাদ দাও।”
নিশি রেগে বলত,
“ডাক্তার তো বলেছেন, নিয়ম করে খেতে হবে।”
“জানি।”
“তাহলে?”
অভিক একটু হাসত।
“মিশির ফি-টা আগে দাও।”
নিশির তখন আর কোনো কথা বের হতো না।
একদিন মিশির বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ হলো।
বাড়িতে আনন্দের সঙ্গে ভয়ও ঢুকল। ভর্তি ফি, বই, যাতায়াত—সব মিলিয়ে বড় অঙ্কের টাকা।
অভিক ভাইদের ফোন করল।
“মিশির ভর্তি। একটু সাহায্য করতে পারলে…”
কেউ বলল, “এই মাসে সম্ভব না।”
কেউ বলল, “পরে দেখি।”
অভিক একে একে ফোন রেখে দিল।
কারও কাছে অভিযোগ করল না।
রাতে মিশি বাবার পাশে এসে বসে বলল,
“বাবা, টাকা না হলে আমি এবার ভর্তি হব না।”
অভিক মেয়ের মুখের দিকে তাকাল।
“এই কথা আর বলবি না।”
“কিন্তু টাকা?”
অভিক মেয়েকে বুকে টেনে নিয়ে বলল,
“তুই শুধু পড়। টাকা নিয়ে ভাববি না।”
মিশি বাবার বুকের মধ্যে মুখ লুকিয়ে কাঁদছিল।
সেদিন রাতে নিশি দেখল, অভিক নিজের ওষুধের প্যাকেটটা টেবিলে রেখে মিশির ভর্তি ফরমের দিকে তাকিয়ে আছে।
নিশি বুঝে গেল।
“তুমি আবার নিজের ওষুধ বন্ধ করার কথা ভাবছ?”
অভিক কিছু বলল না।
“অভিক!”
সে ধীরে বলল,
“মেয়েটার একটা বছর নষ্ট হয়ে যাক, এটা আমি চাই না।”
নিশির চোখ ভিজে উঠল।
“তোমার একটা জীবন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, সেটা?”
অভিক মাথা নিচু করল।
কোনো উত্তর দিল না।
কয়েকদিন পর মিশির ভর্তি হয়ে গেল।
কিন্তু অভিকের ওষুধ নিয়মিত কেনা হলো না।
কখনো দুই দিনের ওষুধ চার দিন চালাল। কখনো ডাক্তার দেখানো পিছিয়ে দিল। কখনো শরীর খারাপ থাকলেও নিশিকে বলল, “আমি ভালো আছি।”
নিশি জানত, সে ভালো নেই।
অভিক ধীরে ধীরে আরও দুর্বল হয়ে যাচ্ছিল।
তারপর একদিন ভাইদের সংসার আলাদা হয়ে যায়া
নিশি আর চুপ থাকতে পারল না।
“বড় ছেলে বলে কি সারাজীবন শুধু তারই দায়িত্ব? মা কি শুধু অভিকের?”
ঘরটা নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
অভিক ধীরে বলল,
“থাক নিশি। ওরা হয়তো বুঝতে পারেনি।”
নিশি এবার কাঁদতে কাঁদতে বলল,
“তুমি সবাইকে বুঝেছ। সবাইকে দিয়েছ। নিজের শরীরটাও দিয়েছ। কেউ কি একবারও ভেবেছে, তোমার কী দরকার?”
অভিক কোনো উত্তর দিল না।
সেদিন রাতে বারান্দায় বসে ছিল সে।
মেঘলা এসে বাবার পাশে বসল।
“বাবা, মন খারাপ?”
অভিক হেসে বলল, “না রে।”
মেঘলা বাবার হাত ধরল।
হাতটা কেমন ঠান্ডা লাগছিল।
“বাবা, তুমি আমাদের ছেড়ে কোথাও যাবে না তো?”
অভিক কিছুক্ষণ মেয়ের দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর মেয়ের হাতটা নিজের বুকের কাছে টেনে নিয়ে বলল,
“আমি তোদের ছেড়ে কোথাও যেতে চাই না মা।”
মেঘলা বাবার কাঁধে মাথা রাখল।
অভিক চোখ বন্ধ করল।
বুকের ভেতর তখন ব্যথা ছিল।
কিন্তু সে কিছু বলল না।
রাতে সবাই ঘুমিয়ে গেলে অভিক পুরোনো খাতাটা বের করল।
প্রথম পাতায় লেখা—
“বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হব।”
নিচে নিজের হাতে বহু বছর পর লেখা—
“এখনও দেরি হয়নি।”
অভিক পাতাটার দিকে তাকিয়ে কলম হাতে নিল।
অনেকক্ষণ পর লিখল— “আমারটা হয়নি। মেঘলা আর মিশিরটা যেন হয়।”
নিশি পেছন থেকে এসে দাঁড়িয়েছিল।
লেখাটা পড়ে সে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না।
অভিক অবাক হয়ে বলল,
“কাঁদছ কেন?”
নিশি চোখ মুছে বলল,
“তুমি কখনো নিজের জন্য কিছু চাওনি কেন?”
অভিক একটু চুপ করে থেকে বলল,
“চেয়েছিলাম।”
“তাহলে?”
“সময় পাইনি।”
নিশি তার পাশে বসে হাতটা ধরল।
“সময় ছিল, অভিক। তুমি শুধু সবাইকে দিয়ে দিয়েছ।”
অভিক কোনো উত্তর দিল না।
ভেতরের ঘর থেকে মেঘলা আর মিশির হাসির শব্দ আসছিল।
অভিক চোখ বন্ধ করে সেই শব্দ শুনতে লাগল।
তার জীবনে অনেক কিছুই হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া হয়নি।
সরকারি চাকরি করা হয়নি।
নিজের জন্য বড় কোনো স্বপ্ন পূরণ করা হয়নি।
হার্ট অ্যাটাকের পরও সে থামেনি।
ওপেন-হার্ট অপারেশনের পরও সংসারের জন্য দাঁড়িয়েছে।
শেষ পর্যন্ত নিজের ওষুধের টাকাও মেয়ের পড়াশোনার জন্য সরিয়ে রেখেছে।
তারপরও তার কোনো অভিযোগ ছিল না।
শুধু একটা কষ্ট ছিল—যাদের জন্য সে সারাজীবন নিজেকে শেষ করে দিল, তারা কেউ কোনোদিন তাকে জিজ্ঞেস করল না, “অভিক, তুই কেমন আছিস?”
সেই রাতে পুরোনো খাতাটা বন্ধ করার আগে অভিক শেষবারের মতো প্রথম পাতাটার দিকে তাকাল।
উনিশ বছরের ছেলেটা লিখেছিল—
“বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হব।”
পঁয়তাল্লিশ বছরের মানুষটা তার নিচে লিখেছিল—
“আমারটা হয়নি। মেয়েদেরটা হবে।”
অভিক জানত না, সামনে তার জন্য কতটা সময় পড়ে আছে।
শুধু জানত, সময়টা খুব বেশি নয়।
তবু সে হাসল।
কারণ পাশের ঘরে তার দুই মেয়ে ঘুমিয়ে আছে।
আর এত বছর পরও তার একটা স্বপ্ন বেঁচে আছে—অভিকের নিজের নয়, তার মেয়েদের স্বপ্ন।
নিশি পাশে এসে বসে তার হাতটা ধরল।
অভিক মাথাটা নিশির কাঁধে রাখল।
অনেকক্ষণ দুজনেই চুপ করে রইল।
বাইরে রাত গভীর হচ্ছিল।
টেবিলের ওপর পড়ে ছিল অভিকের ওষুধের খালি পাতা।
তার পাশে সেই পুরোনো খাতা।
আর খাতার প্রথম পাতায়, ফিকে হয়ে যাওয়া কালিতে এখনও স্পষ্ট—
“বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হব।”
বড় ছেলে হওয়া অভিকের অপরাধ ছিল না।
পরিবারকে ভালোবাসাও ছিল না।
কষ্টটা শুধু এই—সবাই অভিকের দায়িত্বটা মনে রেখেছিল, কিন্তু অভিক যে একজন মানুষ, যারও ক্লান্তি আছে, ভয় আছে, স্বপ্ন আছে—সেটা কেউ মনে রাখেনি।
আর অভিকও কোনোদিন কাউকে বলেনি—
“আজ একটু আমার কথাও শুনুন।”
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।