Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

সরস্বতীর শেষ ইচ্ছা

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
40 বার প্রদর্শিত
করেছেন (18,611 পয়েন্ট)   23 জানুয়ারি "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

সরস্বতীর শেষ ইচ্ছাimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প | জানুয়ারি ২৩, ২০২৬


জানেন স্যার, আজ প্রায় এক বছর পেরিয়েছে, বাবুর কথাগুলো এখনও মনের কোণে গেঁথে আছে।

বাবু আমার ছোট ভাই হলেও, আমরা প্রায় সমবয়সী। বাবু আমাকে সবসময় তুই করেই বলতো। একদিন ফোনে সে বলল,

“হ্যালো ভাইয়া, আমি ভালো আছি রে। তুই কবে আসবি বল?”


আমি হেসে বলেছিলাম,

“কেন, এখনো তো আসতে দেরি আছে।”

বাবু তখন কপালে ভাঁজ দিয়ে বলল,

“না না, তুই এখুনি চলে আয়। তুই আমাকে একটা সরস্বতী ঠাকুর কিনে দিবি, বল। আমি পূজা করব, দিবি তো?”


আমি আবার হেসে উত্তর দিলাম,

“পাগল ছেলে! জানিস সরস্বতী পূজা কারা করে?

তুই কি পড়াশোনা করিস? সারাদিন তো টোটো চালিয়ে ঘুরিস। যারা গান-বাদ্য চর্চা করে, যারা স্কুলে যায়, তারা সরস্বতী পূজা করে, বুঝলি?”


কিন্তু বাবু আমার কথায় কান দিল না। সে জেদ করে বলল,

“না না, এবারে তোকে ঠাকুর কিনে দিতে হবে। আমি জামা নেব না, জুতা নেব না। আমি আবার লিখব, পড়ব। তুই ঘরে এসে দেখবি, খাতায় সব লিখে রাখব। তুই দেখিস।”


আমি হেসে বললাম,

“আচ্ছা ঠিক আছে, এত তাড়া কীসের? তবে আগে সরস্বতীর বানান লিখে দেখাস।”


বাড়ি ফিরতেই মা জিজ্ঞেস করল,

“তুই কি বললি পাগলটাকে? সারাদিন বই-খাতা নিয়ে বসে থাকে।”


স্যার, আপনি মনে রাখবেন, যখন ওকে স্কুলে পাঠানো হয়েছিল, তখন আপনারা বলেছিলেন,

“এই ছেলেকে আর স্কুলে পাঠাবেন না। খালি হাঁ করে বসে থাকে, কিছুই পারে না। এরকম বাচ্চা থাকলে স্কুলের পরিকাঠামো নষ্ট হবে।”


আমি তখন ক্লাস ফোরে। বাবুর স্কুলের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে, আর ও বাড়িতেই বসে থাকে। দেখতেই দেখতেই পঁচিশটা বছর পার হয়ে গেছে। এখন বুঝি—ভালো ছেলেদের তো সবাই শিক্ষা দিতে পারে, কিন্তু যারা বোধশূন্য, বুদ্ধিহীন, তাদের জন্য শিক্ষার মানে কি?


বাজারে যাওয়ার পথে পুরোহিত মশাই বললেন,

“বাবা, তোমার পাগল ভাই প্রতিদিন রাস্তা ধরে এসে বলে—‘বাবুন, ঠাকুর আমাকে সরস্বতী পূজাটা করে দিতে হবে। আমার দাদা ঘরে এলে আমার তরে ঠাকুর আনবে।’”


অতএব মিস্ত্রির কাছ থেকে ঠাকুরের প্রতিমা নেওয়া হল। পূজার দিন যতই এগোচ্ছে, আবহাওয়াও ততই কুয়াশাচ্ছন্ন।


কিন্তু ঈশ্বরও যেন ওকে পরীক্ষার মধ্যে রাখলেন—সকল ধরনের শারীরিক অসুস্থতা প্রকাশ পেল। কাশির তীব্রতা, শ্বাসকষ্ট—সব কিছু বাড়তে লাগল। ডাক্তার বাবুর বারণ সত্ত্বেও সে বারবার ঠাকুর মিস্ত্রির কাছে যাচ্ছিল।


একদিন রাতে কাশি বেড়ে যাওয়ায় আমি বললাম,

“কিরে, ডাক্তার ডাকবো? তোর বেশি কষ্ট হচ্ছে না তো?”

ও উত্তর দিল,

“না না, আমি ঠিক আছি রে। তুই প্যান্ডেল না দিলে আমি ঠাকুর কোথায় রাখবো?”

এই বলে সে শুয়ে পড়ল।


হাসি-মুখে সে ছোট ছোট স্বপ্নে সীমাবদ্ধ থাকতো—মেলায় গিয়ে বাঁশি, মাটির পুতুল বা ছোট বেলুন। নিজস্ব রং, টাকা-পয়সা—কিছুই চাইতো না। সবাই ভাবতো, ও শান্তিতে আছে। কিন্তু শান্তি কি কখনো স্বস্তিতে থাকে? না।


শেষ রাতে, সেই নিদ্রাতেই তার শান্তি মিলল। মা সরস্বতীও শেষ ইচ্ছা পূর্ণ করতে পারেননি।


আজও ওই টেবিলের ওপর ছোট ছোট খাতাগুলো রাখা আছে—মায়ের চোখে জড়িয়ে থাকা স্মৃতি। পৃষ্ঠা উল্টে দেখি—প্রথমে কর, খল, ঘট…

পরে অচল, অধম, কপট, গরল…

এরপর কিছু সংখ্যার খাতা ১২৩৪৫৬…

অন্তিম পৃষ্ঠায় লেখা—


“সরস্বতী, সরস্বতী, সরস্বতী!!!!!!!!”


এটা ছিল বাবুর শেষ ইচ্ছা, তার অদম্য শখ, তার স্বপ্ন।

যে স্বপ্ন কোনো হাসপাতাল, কোনো ডাক্তার, কোনো রোগ, কোনো সময়ই নষ্ট করতে পারেনি।

সবশেষে, সে তার শিক্ষা—সাধারণ বোধের বাইরে, নিজের হৃদয়ে পূর্ণ করেছিলেন।



#সরস্বতীরগল্প #শেষইচ্ছা #অদম্যস্বপ্ন #নীরবপ্রেম #মানুষেরকাহিনী #ফেসবুকভাইরাল #গল্প #বাংলাগল্প #মনস্তাত্ত্বিকগল্প

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 7 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 922 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 18611। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3165
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


 গোধূলির আগে শেষ হিসাব   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোট গল্প। মে ০৬, ২০২৬   দিন অভিক হ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
133 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

  আষাঢ়ের শেষ ঠিকানা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প। মে ০২, ২০২৬ আষাঢ় এলে আকাশটা এমন&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
290 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

শেষ মজুরির দিন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ছোট গল্প। মে ০১,২০২৬ মে মাসের প্রথম সকাল। শহরজুড়ে লাল পতাকা, মাইকে স্লোগান—“শ্রমিকের অধিকার চাই”—সবই যেন ঠিকঠাক আছে। তবুও কোথাও একটা অস্বস্তি রয়ে যায়; [...] বিস্তারিত পড়ুন...
291 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

  শেষ হাসিটামোহাম্মদ জাহিদ হোসেনছোট গল্প । মে ০১, ২০২৫(লেখাটি সম্পূর্ণ বাস্তব কাহি÷[...] বিস্তারিত পড়ুন...
277 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

বাবার শেষ দিনগুলোর স্মৃতি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন স্মৃতিচারণ। এপ্রিল ২৭,২০২৬ আমরা প্রায়ই ভাবি সময় আমাদের হাতে। দিনগুলোকে আমরা ব্যবহার করি, পরিকল্পনা করি, সামনে এগিয়ে নিয়ে যাই। কিন্তু কিছু ক�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
39 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    996 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    49 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. মাহাতাব হোসেন অপল

    170 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    8 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    144 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    7 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. আল-মামুন রেজা

    84 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

...