Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

ভালোবাসার স্রোত

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
444 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,848 পয়েন্ট)   12 ফেব্রুয়ারি "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

ভালোবাসার স্রোত

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প। ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬


ফেব্রুয়ারির দুপুরে শহরের বাতাসে একটা কৃত্রিম উষ্ণতা লেগে থাকে। রাস্তায় পলিথিনে মোড়া গোলাপ, মোড়ে মোড়ে কাগজের হৃদয়, আর ভাজা পিঁয়াজুর গন্ধ—সব মিলিয়ে যেন অভিককে অপেক্ষায় বসিয়ে রেখেছে। সে কলেজ গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল, হাতে ফোন, স্ক্রিন নিভে। সময় দেখছিল না; শুধু অপেক্ষা।


দশ মিনিট পরে নিশি এল। চুল এলোমেলো, ঠোঁট চেপে ধরা। “গাড়ি পেলাম না।” অভিক জানত—নিশি বিরক্ত হলে বাস ছেড়ে দেয়, অকারণে হাঁটে, তারপর নিজেকেই দোষ দেয়। সে কিছু বলল না। শুধু বলল, “চলো, হাঁটি।”


নদীর দিকে যাওয়ার রাস্তা গাছপালা থাকলেও ছায়া কম। ডাল শুকনো, মাঝে মাঝে বাতাসে শুকনো পাতা ঘুরে আসে। হাঁটতে হাঁটতে নিশি চুল বাঁধতে গিয়ে ক্লিপ খুলল—বাঁ হাত হালকা কাঁপছিল। অভিক তাকিয়ে রইল। এই কাঁপুনি কি নতুন? নাকি এতদিন সে খেয়াল করেনি? খেয়াল না করারও তো একটা অভ্যাস হয়।


পথে এক চোখে ছানি পড়া কালো কুকুর। নিশি পাশ কাটিয়ে গেল। অভিক থামল এক মুহূর্ত। কুকুরটা অন্য দিকে তাকিয়ে আছে—যেদিকে কিছু নেই। অভিকের হঠাৎ মনে হলো, না-দেখারও আলাদা দিক থাকে।


নদীর পাড়ে পৌঁছে তারা বসল। ভাঙা কংক্রিটের সিঁড়ি। ফাঁকে ফাঁকে ঘাস। পাশের এক ব্যক্তি বোতল খুলে নদীর দিকে তাকাল, আবার সরে গেল। নদী ধীরে বয়ে যাচ্ছে। জলে ভাসছে কাগজ, কাচের টুকরো রোদে ঝিলিক দিচ্ছে।


“তুমি কি আমার কথা শোনো এখন?” নিশি নদীর দিকে তাকিয়ে বলল।


অভিক উত্তর দেওয়ার আগে ভাবল—সে কি সত্যিই শোনে? সে কি শুনেছে নিশির সাম্প্রতিক চুপচাপ থাকা? কি খেয়াল করেছে, নিশি আগের মতো হঠাৎ গল্প শুরু করে না?


“শুনি,” সে বলল।

“কী শুনো?”


অভিকের মাথায় এল—“সব শুনি”, “তুমি বললেই শুনি”—কিন্তু এগুলো আসলে উত্তর নয়। সে চুপ করে রইল, হাতে কাঁপা লক্ষ্য করল, কথায় নয়। নদীর ঢেউ তাদের পা স্পর্শ করছে, যেন প্রতিটি স্রোতের সঙ্গে মিলছে অভিকের ধীরস্বরে হ্রদয়স্পন্দন।


একটা লঞ্চ গেল। ঢেউ এসে সিঁড়িতে লাগল। পানি ছিটকে উঠল সামান্য। মাঝি তাকাল, আবার মুখ ফিরিয়ে নিল। নদী কাউকে নিয়ে ব্যস্ত নয়।


“আমরা এখন কী করি?” নিশি বলল।

“কী মানে?”

“যখন বুঝি কিছু ঠিক নেই—তখন মানুষ কী করে?”


অভিক জানে না মানুষ কী করে। সে জানে শুধু তারা কী করছে—পাশাপাশি বসে আছে, কিন্তু হাত ধরছে না। আঙুল আলাদা আলাদা কংক্রিটে ঘষছে।


কয়েক মাস আগে তারা এখানে এসেছিল। তখন হালকা বৃষ্টি। নিশি চা খেতে জেদ করেছিল। হাত তখন কাঁপেনি। অভিক মনে করার চেষ্টা করল—ওই বিকেলটা ঠিক কতদিন আগে? তিন মাস? চার? স্মৃতি সময় মাপে না; কেবল অনুভূতি রেখে যায়।


“তুমি কি খুশি?” নিশি জিজ্ঞেস করল।

প্রশ্নটা সরাসরি। খুশি—শব্দটা সহজ, উত্তর কঠিন। অভিক ভাবল—সে কি খুশি? নাকি শুধু অভ্যস্ত?

“জানি না,” সে বলল। এবার সত্যি করে।


নিশি হাসল। অদ্ভুত হাসি—যেন কারও দিকে না তাকিয়ে। এক চোখে ছানি পড়া কুকুরের মতো।

“তুমি কখনও জানো না,” সে বলল। “এটাই সমস্যা।”


অভিক প্রতিবাদ করল না। সে জানে—প্রায়ই সে অপেক্ষা করে পরিস্থিতি নিজে ঠিক হয়ে যাবে। কথা বলে না, ভাবতে থাকে। ভাবতে ভাবতেই দূরত্ব তৈরি হয়।


আকাশে নামহীন রঙ—ধূসরও না, গোলাপিও না। আলো কমছে, কিন্তু পুরো অন্ধকার নয়। মধ্যবর্তী সময়টাকে সে সবসময় অসহ্য মনে করে। নিশি উঠে দাঁড়াল। জুতোর পাশে কাদা লেগেছে। সে দেখল না। অভিক দেখল, বলল না। বললে হয়তো নিশি হেসে বলত, “তুমি এসব খেয়াল করো।”


“চলো,” নিশি বলল।

“কোথায়?”

“ফিরি।”

ফিরে যাওয়ার ভেতরেও এক ধরনের স্বীকারোক্তি থাকে।


তারা হাঁটতে লাগল। এক দোকানে চা পড়ছিল। অভিক থামতে চাইল। মনে হলো—চা খেলে হয়তো কথাটা অন্য দিকে যেত। কিন্তু নিশি থামল না। সে-ও থামল না।


হাঁটতে হাঁটতে অভিক বুঝল—সে নিশিকে ভালোবাসে, কিন্তু হয়তো সেই নিশিকে, যে ছিল। মানুষ বদলায়। ভালোবাসা বদলায়। তারা কি সেই বদল মেনে নিতে পেরেছে?


বাসায় ফিরে অভিক ফোন হাতে নিল। বার্তা লিখল—মুছে দিল। আবার লিখল:

“আজ তোমার হাত কাঁপছিল।”

অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল। পাঠাল না।


রাতটা ঘুমহীন কেটে গেল। জানালা দিয়ে দূরের আলো দেখা যায়। শহর থামে না। নদীও না।


নদী ছিল।

স্রোত ছিল।

দুজন মানুষ সরে গেছে। তবে ভালবাসার স্পন্দন চিরকাল বয়ে চলে।


অভিক প্রথমবার স্বীকার করল—ভালোবাসা সবসময় শেষ হয় না। কখনও তা শুধু অন্য দিকে বয়ে যায়। আর মানুষ দাঁড়িয়ে থাকে পুরোনো ঘাটে, ভাবতে থাকে—স্রোত কি বদলেছে, নাকি সে নিজেই।


ফোনের স্ক্রিন নিভে গেল।

নদী ছিল।

স্রোত ছিল।



#ভালোবাসারস্রোত

#মোহাম্মদজাহিদহোসেন

#সমকালীনছোটগল্প

#মনস্তাত্ত্বিকবাস্তবতা

#নীরববিচ্ছেদimage

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1378 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27848। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3412
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
ভালোবাসার পরের জীবন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী । ০১ জুন, ২০২৬ বিয়ের পর ব[...] বিস্তারিত পড়ুন...
248 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
দুটি সূর্যমুখী ভালোবাসার নীরব ব্যাকরণ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন (লেখক ও সাহিত্য গবেষক)&n[...] বিস্তারিত পড়ুন...
539 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষ বিদায়ে ভালোবাসার প্রকাশ মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন   বিশ্লেষণধর্মী | ডিসেম্বর ২ý[...] বিস্তারিত পড়ুন...
274 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ভালোবাসার ছদ্মনামে প্রতারণা  লেখকঃ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ধরণঃ বিশ্লেষণধর্মী প্র[...] বিস্তারিত পড়ুন...
535 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
22 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    244 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    3 মন্তব্য

    12 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    122 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. ফাহিম আহমাদ

    61 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    41 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...