Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

যে ঋতুতে বাবা থাকেন না

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
83 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,603 পয়েন্ট)   25 জুন "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

যে ঋতুতে বাবা থাকেন না  image

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  

ছোটগল্প। ২৫ জুন, ২০২৬


অভিকের মনে হয়, কিছু প্রশ্নের উত্তর বড় হয়েও মেলে না। বরং বয়সের সাথে সাথে সেগুলো আরও ভারী লাগে। কাউকে করা যায় না। শুধু বুকের ভেতর রেখে দিতে হয়, পুরোনো রসিদের মতো।


বাবা চলে যাওয়ার পর একটা প্রশ্ন ওর মাথায় ঘুরত। ছোট প্রশ্ন। “বাবা, আমার গাছে যখন নতুন পাতা গজায়, তোমার পাতাগুলো তখনই ঝরে গেল কেন?” প্রশ্নটা করার সময় পায়নি। যখন বুঝতে শিখল, তখন বাবা নেই।


ছোটবেলায় বাবা মানে ছিল একটা নিশ্চিন্ত শব্দ। ভোরে ঘুম ভাঙত বাবার কাশির আওয়াজে। বারান্দায় খবরের কাগজের খসখস। সন্ধ্যায় গেটের ক্যাঁচ করে খোলার শব্দ। বাবা ফিরলে মনে হতো, দিনটা এবার ঠিকঠাক শেষ হলো।


বাবার হাতে কখনো থাকত কাঁচাবাজারের থলে, কখনো প্রেসক্রিপশন, কখনো ‘সাপ্তাহিক রোববার’। তবে খালি হাতেও ফিরতেন। তাতেও কিছু কম পড়ত না। সেই হাতটা মাথায় রাখলে মনে হতো, পৃথিবীটা অত জটিল না। সামলানো যায়।


বাবার শেষ দিনটা অভিক মনে করতে চায় না। তবু কিছু ছবি নিজে থেকেই ফিরে আসে। হাসপাতালের করিডোর। নীল প্লাস্টিকের চেয়ার। নিশির হাতে মোচড়ানো খালি পানির বোতল। ডাক্তারের নিচু গলা। কয়েকটা শব্দ।


সেদিন বুঝেছিল, কিছু বাক্য জীবনকে মাঝখান দিয়ে কেটে দেয়। এক পাশে—বাবা ছিলেন। অন্য পাশে—বাবা নেই।


বাড়িটা বদলায়নি। বদলে গিয়েছিল বাড়ির ভেতরের শব্দ। বাবার চেয়ারটা জানালার পাশেই রইল। টেবিলে চশমা, একটা কাচে দাগ। আলমারির মাথায় ফিলিপসের পুরোনো রেডিও। অনেক বছর ধরে অচল। বাবা তবু ফেলেননি। মাঝে মাঝে হাতে নিয়ে ঘুরিয়ে দেখতেন। বলতেন, “একদিন সারিয়ে ফেলব।” সেই একদিনটা আর এলো না।


রাতে মাঝে মাঝে অভিক বাবার ঘরে গিয়ে বসত। কোনো কাজ না। শুধু বসে থাকা। মনে হতো, বাবা এখনই দরজা খুলে বলবেন, “এত রাতে এখানে কী?” একটু বিরক্ত হবেন, আগের মতো। দরজা খুলত না। শুধু দেয়ালঘড়ির সেকেন্ডের কাঁটা টিক টিক করত।


একদিন নিশি ঘরটা গোছাচ্ছিল। অভিক দরজায় হেলান দিয়ে দেখছিল। নিশি রেডিওর ধুলো মুছতে মুছতে বলল, “এটা ফেলে দিই?”  

অভিক কিছুক্ষণ চুপ। “না।”  

“চলেই না তো।”  

“জানি।”  

নিশি আর কথা বাড়াল না। রেডিওটা আবার আগের জায়গায় রাখল। সেদিন অভিক বুঝল, কিছু জিনিস ব্যবহারের জন্য থাকে না। কিছু জিনিস থাকে, কারণ ওটার সঙ্গে একটা মানুষ লেগে আছে।


বছর গড়াল। অভিক কাজে ডুবে গেল। লোকে বলে, উন্নতি করেছে। তবু কিছু মুহূর্তে বাবার কথা হঠাৎ এসে পড়ে। প্রথম স্যালারির এসএমএস যখন এলো। একটা বড় প্রজেক্টে ‘হ্যাঁ’ বলার আগের রাতে। জ্বর নিয়ে একা শুয়ে থাকার সময়। মনে হতো, বাবা থাকলে বেশি কিছু বলতেন না। শুধু বলতেন, “চিন্তা করিস না। ঠিক হয়ে যাবে।” অদ্ভুত, ওই সাধারণ কথাটাই এখনও সাহস দেয়। হয়তো সবচেয়ে দরকারি কথাগুলো সাধারণই হয়।


এক বিকেলে নদীর পাড়ে বসে ছিল দুজন। অনেকক্ষণ চুপচাপ। নিশি হঠাৎ বলল, “তোমার বাবাকে এখনো মনে পড়ে?”  

অভিক হাসল। “প্রতিদিন না।”  

“তাহলে?”  

অভিক পানির দিকে তাকিয়ে বলল, “যখন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে গলা শুকিয়ে আসে, তখন ভাবি বাবা কী বলতেন।” একটু থেমে বলল, “আগে ভাবতাম বাবা আমাকে ফেলে গেছেন। এখন মনে হয়, কিছু জিনিস রেখে গেছেন।”  

“কী?”  

“ভয় লাগলেও পা ফেলার অভ্যাসটা।”


সেদিন রাতে বাবার পুরোনো স্টিলের আলমারিটা খুলল অভিক। ভেতরে বাজারের হিসাবের খাতা, ইলেকট্রিক বিলের ফাইল, আর একটা ছোট ডায়েরি। পাতাগুলো হলুদ। বাবার হাতের লেখা—ফোন নম্বর, ১৫ তারিখের মিটিং, চাল-ডালের দাম।


শেষের দিকে একটা পাতায় লেখা: “অভিকের জুতার মাপ: ৯”। তার নিচে আর কিছু নেই।


অভিক অনেকক্ষণ লাইনটার দিকে তাকিয়ে রইল। কোনো উপদেশ না। বড় কোনো কথা না। শুধু একটা মাপ। কত বছর আগে লিখেছিলেন, কে জানে। যখন ছেলের পা ছোট ছিল।


ডায়েরিটা বন্ধ করল না। খোলাই রইল। মনে হলো, কিছু মানুষ চলে গেলেও পুরোপুরি যায় না। তারা রয়ে যায় ছোট ছোট অভ্যাসের ভেতর। সন্তানের জুতার মাপ মনে রাখার মতো তুচ্ছ, অথচ ভারী একটা অভ্যাসের ভেতর।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1366 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27603। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4131
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
ফুটপাতের শৈশব পর্ব ৪ — যে শিশুটি জানে না তার বাবা-মা কোথায় মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
46 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি   পর্ব–৯ : যে প্রশ্নের উত্তর কারও কাছে ছিল না   মোহাম্মদ জাহ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
47 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

 যে প্রেম শব্দে ধরা পড়ে না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প। মে ০৩, ২০২৬ রাতটা শুরু থেক[...] বিস্তারিত পড়ুন...
428 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ভালো বাবা হতে গিয়ে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প | ১৯ আগস্ট ২০২৬ মেঘলা ছোটবেলায় একদ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
43 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিঃশব্দ মাটির নিচে আমার বাবা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প।এপ্রিল ১৮, ২০২৬ কবরে শ&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
444 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1504 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    74 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. রফিক আতা

    350 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    17 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    125 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. অমিত দত্ত দিলু

    124 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

...