Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

ভালো থেকো বাবা

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
529 বার প্রদর্শিত
করেছেন (21,955 পয়েন্ট)   07 অক্টোবর 2025 "ছোটগল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

ভালো থেকো বাবা 

লেখকঃ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ধরণঃ ছোটগল্পimage

তারিখঃ ০৭ অক্টোবর ২০২৫


আমার বাবা বিদেশে ছিলেন টানা বারো বছর। দুই-তিন বছর পরপর দেশে ফিরতেন। তখনই বাবাকে “বাবা” বলে ডাকার সুযোগ পেতাম।


বাবা বাড়ি এলেই মনে হতো, যেন ঈদের দিন এসেছে।


বিদেশ থেকে ফেরার সময় বাবা সবার জন্য দামি সাবান, শ্যাম্পু, কসমেটিকস, মায়ের জন্য অলংকার, আর আমার জন্য চকোলেট, খেলনা পুতুল, গাড়ি, জুতা—সবকিছু নিয়ে আসতেন। অথচ তিনি নিজে আসতেন সেই পুরোনো শার্ট আর ক্ষয়ে যাওয়া জুতা পরে।


সবার জন্য যত কিছুই কিনুন না কেন, নিজের জন্য কিছু কেনার মতো টাকা তার কাছে থাকত না।


বাবা দেশে থাকলে ঘরে প্রতিদিন ভালো ভালো খাবার রান্না হতো, অতিথিরা আসতেন একের পর এক। বাবা লাগেজ খুলে সবাইকে কিছু না কিছু উপহার দিতেন। কেউ সমস্যা বললে, বাবা কাউকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিতেন না।


কিন্তু বাবার চলে যাওয়ার দিন ঘরটা নিঃশব্দ হয়ে যেত। সন্ধ্যার পর বাড়ির আশপাশে কুকুরগুলোরও ডাক শোনা যেত না—কারণ তখন আর বাড়িতে মাংসের হাড় পড়ত না। আত্মীয়স্বজনরাও দূরে সরে যেতেন, যেন অপেক্ষা করতেন—কবে আবার বাবা আসবেন ছুটিতে।


আমার জন্মের পর থেকেই বাবা বিদেশে ছিলেন। দু-তিন বছর পরপর ১৫ দিন বা এক মাসের জন্য দেশে আসতেন। ফোনে বাবাকে প্রায়ই বলতাম—

“বাবা, তুমি দেশে চলে আসো না? সবার বাবা তো সকালে অফিসে যায়, সন্ধ্যায় ফিরে আসে। তুমি এমন কোনো চাকরি নিতে পারো না?”


বাবা হাসতেন, বলতেন—

“মামনি, আর ক’টা দিন মা। এখন চলে এলে তোমাদের কষ্ট হবে। টাকা-পয়সা তেমন নেই। একটু ধৈর্য ধরো, আমি একেবারেই চলে আসব। তুমি শুধু ভালো করে পড়ো।”


আমি জানতে চাইতাম,

“বাবা, তুমি বিদেশে কী কাজ করো?”

বাবা হেসে বলতেন,

“আমি বড় অফিসের বড় অফিসার মা।”


দেশে ফিরে বাবার হাত যখন আমার গালে ছুঁয়ে যেত, মনে হতো যেন রুক্ষ পাথরের টুকরো ছুঁয়ে আছি। বলতাম,

“বাবা, তোমার হাত এত শক্ত কেন?”

বাবা বলতেন,

“বিদেশের পানি ভালো না মা, এসি রুমে থাকতে থাকতে চামড়া নষ্ট হয়ে গেছে।”


আমি তখন ছোট ছিলাম, তাই বাবার মিথ্যাগুলোও বিশ্বাস করতাম। জানতাম না—আমার বাবা কনস্ট্রাকশনের কাজ করতেন, রোদে পুড়ে, ইট-সিমেন্টের ধুলায় ঢেকে রোজ রক্ত বিক্রি করে উপার্জন করতেন।


আমাদের বাড়ি, দামি সোফা, এলইডি টিভি, আমার স্কুলের ফি—সবই এসেছে সেই পরিশ্রমের টাকায়। অথচ বাবা কখনো কাউকে কিছু বলেননি। ফোনে সবসময় বলতেন—

“ভালো আছি মা।”

কিন্তু আমি জানতাম, বাবা কখনোই ভালো ছিলেন না।


এবার ঈদে বাবা দেশে আসবেন। বলেছিলেন, টিকিট কাটা হয়ে গেছে, লাগেজ গুছানো। মা আর আমি কতখানি খুশি ছিলাম! আমি বাবাকে বলেছিলাম,

“বাবা, এবার কিছু আনবে না, শুধু তুমি এসো।”

বাবা বলেছিলেন,

“তুমি কিছু না বললেও তোমার কী লাগবে আমি জানি মা, সব কিনে রেখেছি।”


ঈদের মাত্র তিন দিন আগে খবর এল—

বাবা আর আসবেন না।


বাবার এক বন্ধু ফোন করে বলল,

“ভাবী... ভাই তো আর নাই।”


মা তখন মূর্তির মতো নিস্তব্ধ হয়ে গেলেন। আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। পরে শুনলাম—বাবা কনস্ট্রাকশনের ছাদে কাজ করার সময় নিচে পড়ে গেছেন।


বাবার লাগেজ এল, কিন্তু বাবা এলেন না।

আমার জন্য যা যা কিনেছিলেন, সব পেলাম—শুধু বাবাকে ছাড়া।


এখন আমি বুঝি, সুখ মানে সবকিছু থাকা নয়; সুখ মানে বাবার মতো একজন মানুষ থাকা। বাবা সারাজীবন সুখে না থেকেও আমাদের সুখী দেখাতে অভিনয় করে গেছেন।


বাবা, তুমি ভালো থেকো।

তুমি যে ভালোবাসার উত্তরাধিকার রেখে গেলে, তাতে কোনোদিন আমার অভাব হবে না—কিন্তু তোমার অভাব পূরণ করবে কে?


বাবা, তুমি যদি বিদেশে না যেতে, হয়তো টাকাপয়সা কম থাকত, কিন্তু তুমি থাকতে বাবা—তুমি বেঁচে থাকতে।


সব পেয়েও আমি হারালাম আমার পৃথিবীকে।

ভালো থেকো বাবা, অনেক ভালো থেকো।

লাভ ইউ, বাবা।



#ভালোথেকোবাবা #ছোটগল্প #বাংলাসাহিত্য #বিদেশেফেরেনবাবা #বাবারভালোবাসা #বাবাএবংসন্তান #অপেক্ষা #আবেগঘনগল্প #মোহাম্মদজাহিদহোসেন #বাংলাগল্প #প্রবাসীরজীবন

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 9 মাস 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1087 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 21955। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
"নিজস্ব আইডিয়া"
Enolej ID(eID): 1200
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
বাবা, তোমার জন্য  লেখকঃ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ধরণঃ ছোটগল্প (চিঠি-গদ্য) তারিখঃ ১২ অক্[...] বিস্তারিত পড়ুন...
425 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

প্রিয় মা, তোমাকে অনেক কথাই বলা হয়নি। প্রতিদিন ভাবি বলবো, কিন্তু তোমার মুখটা দেখলেই সব কথাগুলো কোথায় যেন হারিয়ে যায়। তুমি হয়তো ভাবো, আমি বদলে গেছি! আগের মতো গল্প করি না, কাছে বসি না, ছোট ছোট অভিম�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
91 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
মানুষ সবসময় ভালো কাজটা করে যখন কেউ দেখছে — কিন্তু সত্যিকারের মহত্ত্ব তখনই ঘটে যখন কে[...] বিস্তারিত পড়ুন...
440 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
“খারাপরা টিকে যায়, ভালোরা ভেঙে পড়ে—এটা কি কাকতাল, নাকি সিস্টেমের নীরব নিয়ম?” ভালো মù[...] বিস্তারিত পড়ুন...
442 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

কতকাল আমি দেখিনি তোমায়, মুখচ্ছবি ভেসে ওঠে রোজ কত শত। কখনো আসো তুমি স্বপ্নের মাঝে, কিন্তু ডাকো না আর সেই আগের মতো। সবাই বলে, আছো তুমি তারাদের মাঝে, আকাশ পানে চেয়ে খুঁজি—কোনটি তুমি। সবগুলো কেন[...] বিস্তারিত পড়ুন...
106 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    486 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    24 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    22 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. Adiba jannat

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  4. মুহাম্মদ সালমান

    1 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...