Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

মায়ের নম্বরে রিচার্জ

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
9 বার প্রদর্শিত
করেছেন (29,003 পয়েন্ট)   15 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

মায়ের নম্বরে রিচার্জimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

আবেগঘন ছোটগল্প। ১৯ অক্টোবর ২০২৬


মায়ের মৃত্যুর সাত মাস পরও রায়হান তাঁর মোবাইল নম্বরে প্রতি মাসে একশ টাকা রিচার্জ করে।


নম্বরটা বন্ধ। সিমটা হয়তো অনেক আগেই বাতিল হয়ে গেছে। তবু মাসের প্রথম সপ্তাহে বেতনের টাকা হাতে এলেই কাজটা তার মনে পড়ে।


এ মাসেও রিচার্জ করার পর মোবাইলের পর্দায় লেখা উঠল, “লেনদেন সফল।”


রায়হান ফোনটা পকেটে রেখে অফিস থেকে বেরিয়ে এল।


মায়ের ঘরের জানালার পর্দাটা এখনো বদলানো হয়নি।


ঢাকায় নতুন ফ্ল্যাট নেওয়ার পর মা একবার বেড়াতে এসেছিলেন। ছেলের ঘরদোর দেখে খুশিই হয়েছিলেন। শুধু শোবার ঘরের জানালার পর্দাটা দেখে বলেছিলেন, “এই পর্দাটা এত পাতলা কেন রে? রাতে বাইরে থেকে ঘরের আলো দেখা যায়।”


রায়হান তখন কম্পিউটারে কাজ করছিল।


“মা, এখনকার পর্দা এমনই হয়। তুমি এসব বুঝবে না।”


মা আর কথা বাড়াননি। পরদিন সকালে নাশতা খেতে বসে আবার বলেছিলেন, “ঘুমানোর আগে জানালাটা ভালো করে বন্ধ করিস।”


রায়হান বিরক্ত হয়ে বলেছিল, “তুমি কি আমার মা, নাকি বাড়ির দারোয়ান?”


মা চায়ের কাপে চুমুক দিয়েছিলেন। তারপর বলেছিলেন, “তা-ও বলতে পারিস।”


সেদিন দুপুরেই মা গ্রামের বাড়িতে ফিরে গিয়েছিলেন।


এরপর ফোনে কথা হতো। মা নিজের কথা খুব একটা বলতেন না। কখনো পাশের বাড়ির আমগাছে মুকুল আসার খবর দিতেন, কখনো বলতেন, বৃষ্টি হলে উঠানের এক পাশে পানি জমে। আর মাঝেমধ্যে জিজ্ঞেস করতেন, “তোর ঘরের পর্দাটা ঠিক করেছিস?”


রায়হান প্রতিবারই বলত, “করব মা, সময় হলে।”


একদিন মা ফোন করে বলেছিলেন, “তুই যদি ব্যস্ত থাকিস, পরে কথা বলিস। একটা কথা জিজ্ঞেস করব।”


রায়হান তখন রাস্তায়। পেছনে গাড়ির হর্ন বাজছিল।


“মা, পরে ফোন দিচ্ছি।”


সেদিন আর ফোন করা হয়নি।


পরদিন দুপুরে ছোট বোনের ফোন এল।


ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে বোন বলল, “ভাইয়া, মা আর নাই।”


রায়হান কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।


তারপর জিজ্ঞেস করল, “কখন?”


“ভোরে। রাতে শরীর বেশি খারাপ হইছিল। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই...”


বোনের কথা শেষ হলো না।


রায়হান শুধু বলল, “আমারে ফোন দিছিল?”


ওপাশ থেকে উত্তর এল, “হ্যাঁ ভাইয়া। অনেকবার।”


ফোনটা কানে ধরে সে বসে রইল। বোন আরও কিছু বলছিল, কিন্তু তার আর শোনা হলো না।


মায়ের জানাজা শেষে বাড়িতে লোকজনের ভিড় কমে এলে রায়হান তাঁর ঘরে ঢুকল। ঘরের এক পাশে সেলাই মেশিন, অন্য পাশে পুরোনো কাঠের আলমারি। জানালায় সেই পর্দা। নিচের দিকে সেলাই ছুটে গেছে, এক কোণে ছোট একটা ছিদ্র।


বিছানার পাশে মায়ের ফোনটা পড়ে ছিল।


চার্জার লাগিয়ে ফোনটা চালু করতেই কলের তালিকায় নিজের নাম দেখতে পেল রায়হান। শেষ রাতে মায়ের তিনটি কল।


প্রথমটি রাত দশটা বারো মিনিটে।


দ্বিতীয়টি দশটা ঊনত্রিশে।


তৃতীয়টি এগারোটা তিনে।


কোনো বার্তা ছিল না।


মা কী বলতে চেয়েছিলেন, রায়হান কোনো দিন জানবে না।


জিনিসপত্র গোছানোর সময় আলমারির নিচের তাকে একটি কাপড়ের ব্যাগ পাওয়া গেল। ভেতরে কয়েকটা পুরোনো শাড়ি, সুই-সুতা আর ছোট একটা খাতা। খাতাটায় সংসারের খরচ লেখা ছিল।


চালের দাম আশি টাকা। ডাল ষাট। ওষুধের খরচের পাশে দুবার কাটাকাটি। কয়েকটা হিসাবের নিচে ছোট ছোট অঙ্ক।


শেষ পাতায় এসে রায়হান থামল।


সেখানে লেখা—


“রায়হানের ঘরের পর্দা কিনতে হবে।”


নিচে কয়েকটি হিসাব। একটা অঙ্ক কেটে আবার নতুন করে হিসাব করা হয়েছে।


রায়হান পাতাটা উল্টেপাল্টে দেখল। খাতার অন্য কোথাও নিজের নাম নেই। শুধু এই এক জায়গায়।


সে খাতাটা বন্ধ করে দিল।


মায়ের ঘরের জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বাইরে তাকাল। পাশের বাড়ির উঠানে কয়েকটা বাচ্চা খেলছিল। তাদের মধ্যে একজন পড়ে গিয়ে কেঁদে উঠল। ঘর থেকে এক মহিলা ছুটে এসে ছেলেটাকে কোলে তুলে নিলেন।


রায়হান জানালাটা বন্ধ করে দিল।


ঢাকায় ফিরে সে দোকান থেকে একটা পর্দা কিনল। মায়ের ঘরের পুরোনো পর্দাটার মতোই রং, শুধু কাপড়টা একটু মোটা। পরের শুক্রবার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে নিজেই লাগিয়ে দিল।


পর্দা লাগানো শেষ হলে মায়ের ফোনটা টেবিলের ওপর দেখতে পেল। বাড়ি থেকে ফেরার সময় সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিল। চার্জ দেওয়া ছিল।


রায়হান মায়ের নম্বরে কল করল।


একবার।


তারপর আবার।


প্রতিবার একই উত্তর—নম্বরটি বর্তমানে বন্ধ আছে।


সে ফোনটা রেখে দিল।


মাসের প্রথম সপ্তাহে আবার বেতন পেল রায়হান। রাতের খাবার শেষে মোবাইল ব্যাংকিং খুলল। মায়ের নম্বরটা এখনো ‘মা’ নামেই সেভ করা।


একশ টাকা রিচার্জ করল।


পর্দায় লেখা উঠল, “লেনদেন সফল।”

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1435 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 29003। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 5026
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
মায়ের নীরবতা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প | ১৯ আগস্ট ২০২৬ দুপুরে রান্নাঘর থেকে পো[...] বিস্তারিত পড়ুন...
50 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

মায়ের ক্লান্ত চোখ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প। ১৫ জুন, ২০২৬ অভিকের রোগটা হঠাৎ আসেনি। ধীরে ধীরে এসেছে, আর ঠিক ততটাই ধীরে বদলে দিয়েছে তার মায়ের চোখ। শুরুতে ওই চোখে ভয় ছিল। তারপর দুশ্চিন্তা�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
112 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
মায়ের ছায়া মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণমূলক | ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ গ্রামে একটা কথ&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
41 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বাবা-মায়ের ব্যর্থতা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী। ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ যে ব&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
42 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বাবার পুরোনো জুতো মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন আবেগঘন ছোটগল্প। ১৯ অক্টোবর ২০২৬ অফিসের অ&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
4 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1419 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    7 মন্তব্য

    69 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    126 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. জামিনুল রেজা

    83 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    82 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

...