Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

বাবার শেষ সম্বল

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
2 বার প্রদর্শিত
করেছেন (22,398 পয়েন্ট)   6 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

বাবার শেষ সম্বলimage   

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  

লেখার ধরন : ছোট গল্প  

(লেখাটি সম্পূর্ণ বাস্তব কাহিনির ওপর ভিত্তি করে লেখা)  

১০ জুলাই, ২০২৬


আজ অনেক দিন হলো অভিকের সাথে আমার দেখা হয় না। নানা কাজের ঝামেলায় অভিকের সাথে দেখা করার সময়ই হয়ে ওঠে না।  

আজ শনিবার। তাই ভাবলাম, অভিকের সাথে দেখা করে আসি।


বিকেলের দিকে অভিককে ডাকলাম একটা মার্কেটের সামনে। সামান্য সময় অপেক্ষা করার পরেই অভিক তার সেই চেনা হাসিমুখটা নিয়ে আমার সামনে হাজির হলো। তারপর এ আলাপ সে আলাপ শেষে দুজনে চা খাওয়ার জন্য পাশের একটা হোটেলে গেলাম।


আমাদের সামনে গরম দুই কাপ চা। অভিক হাত বাড়িয়ে ওর কাপটা নিতে গিয়েই খেয়াল করলাম, ওর হাতগুলো কেমন যেন ফোলা ফোলা। সাথে সাথে ওর মুখের দিকে তাকালাম। মুখটাও ফোলা। মনে হচ্ছে পুরো শরীরে পানি জমে আছে।


আমি ওর চায়ের কাপটা ধরার আগেই ওর হাতটা ধরে ফেললাম। দেখলাম, ওর চোখ দুটোও লাল। অভিকের এ অবস্থা দেখে জানতে চাইলাম কী হয়েছে। অভিক তখন আমাকে গতকালের ঘটনাটা বলতে শুরু করল।


ক’দিন ধরেই অভিকের শরীরটা ভালো যাচ্ছিল না। সারাটা সময় মাথায় ছিল অসহ্য যন্ত্রণা। তাই বিকেলের দিকে চোখটা বন্ধ করে কোনোরকমে শুয়ে ছিল। হঠাৎ মাগরিবের সময় উঠে মসজিদে যায়। নামাজ শেষ করে বাসায় ফেরার পর ওর আরও খারাপ লাগতে শুরু করে।


ঠিক তখনই অভিকের এক বন্ধু ফোন করে একটা কফি শপে যেতে বলে।  

প্রথমে অভিক যেতে চাচ্ছিল না। কিন্তু বন্ধুটা বারবার ফোন করছিল। না করতে পারছিল না। শেষে অভিক গেল সেই কফি শপে। গিয়ে দেখে, ওর আরেক বন্ধুও সেখানে আগে থেকেই বসে আছে।


অভিককে দেখে বন্ধুটা কিছু খাবারের অর্ডার দিল।


অভিকের সামনের টেবিলেই বসে ছিল একটা পরিবার। বাবা-মা আর তাদের ছোট মেয়েটা। মেয়েটার হাতে রঙিন কাগজে মোড়া একটা পুতুল। গোলাপি জামা, কোঁকড়া চুল। মেয়েটা পুতুলটাকে বুকে জড়িয়ে ধরে খিলখিল করে হাসছে। বাবা মেয়ের ছবি তুলছে।


পুতুলটা দেখে অভিকের বুকের ভেতরটা হঠাৎ মোচড় দিয়ে উঠল। নিজের অজান্তেই অভিক সেই পুতুলটার মাঝে দেখতে পেল তার ছোট মেয়ে পরীর মুখখানি।


পরী অভিকের ছোট মেয়ে। পুতুল ভীষণ পছন্দ করে। প্রায়ই বলে, “বাবা, একটা পুতুল কিনে দেবে?” কিন্তু মাসের পর মাস চলে যায়, অভিকের আর হয়ে ওঠে না। শেষ কবে যে সে পরীকে একটা খেলনা কিনে দিয়েছিল, মনেই নেই। অভিকের মনটা আরও ভারী হয়ে গেল। অভিক না পারছে কিছু বলতে, না পারছে সইতে।


তবুও সমাজের একটা নিয়ম আছে। ইচ্ছে করলেই তো সব হয় না। অভিকের আর ওখানে বসে থাকতে ইচ্ছে করছিল না।  

অভিক প্রাণপণে নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করল। কিন্তু কখন যে নিজের অজান্তে ওর চোখ থেকে এক ফোঁটা পানি হাতের ওপর পড়ল, সে টের পেলেও কাউকে বুঝতে দিল না।


এরপর একে একে আরও বন্ধুরা এলো। সবাই মিলে গল্পে মেতে উঠল। তারপর পাশের পার্কে কিছুক্ষণ আড্ডা চলল। কিন্তু অভিকের মন পড়ে আছে পরীর সেই আবদারের দিকে।


ততক্ষণে রাত প্রায় সাড়ে দশটা। অভিকের সেই আড্ডায় কোনো মন নেই। কারণ বারবার মনে পড়ছিল—আজ পরীর জন্মদিন। অথচ খালি হাতে বাসায় ফিরবে কী করে? অভিক আর স্থির থাকতে পারছিল না।


সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সোজা চলে গেল ফুটপাতের একটা খেলনার দোকানের সামনে।  

অভিকের পকেটে তখন ওষুধ কেনার টাকাটা ছিল। ডাক্তার বারবার বলে দিয়েছে, শরীরের যে অবস্থা তাতে ওষুধ এক বেলাও বাদ দেওয়া যাবে না।


কারণ ওষুধ বন্ধ হলে ফুসফুসে পানি জমে যেতে পারে। কিন্তু অভিকের সামনে আর কোনো পথ খোলা ছিল না। তাই নিজের ওষুধ না কিনে সেই টাকা দিয়ে পরীর জন্য একটা পুতুল কিনে নিল। লাল জামা পরা, কোঁকড়া চুলের একটা পুতুল।


পুতুলটা কেনার সময় অভিকের শরীর থেকে ঘাম টপটপ করে পড়ছিল দোকানের ঝকঝকে মেঝেতে।


পরী তখনও জেগে ছিল। জন্মদিনে বাবার অপেক্ষায় বসে ছিল। অভিক পরীর হাতে পুতুলটা তুলে দিতেই পরীর চোখে-মুখে খুশি যেন ধরে না। পুতুলটা বুকে চেপে ধরে পরী অভিকের গালে একটা চুমু দিল।


পরী জিজ্ঞেস করল,  

"বাবা, এটা সত্যি আমার?"  

অভিকের লাল চোখে তখন বন্যার জল।  

কোনোমতে নিজেকে সামলে নিল সে।  

তারপর পরী আনন্দে পুতুল নিয়ে খেলতে লাগল।


অভিক গোসল সেরে যখন বের হলো, শরীরটা আর চলছিল না। সারাদিনের অসুস্থতা ওকে একদম নিস্তেজ করে দিয়েছে।


আস্তে আস্তে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ল অভিক। চোখ দুটো ভারী হয়ে আসছে। কানে বাজছে চারপাশের সব শব্দের প্রতিধ্বনি। তার সাথে শুরু হলো ভয়ানক শ্বাসকষ্ট। কোনোভাবেই নিশ্বাস নিতে পারছিল না। অক্সিমিটারে অক্সিজেনের মাত্রা দেখাচ্ছে ৭০ থেকে ৭৮। অবস্থা স্বাভাবিক না হওয়ায় দ্রুত ছুটল হাসপাতালের দিকে। কিন্তু রাত গভীর হওয়ায় প্রথম হাসপাতাল থেকে তাকে হার্ট হাসপাতালে যেতে বলল।


কিন্তু হার্ট হাসপাতালের খরচ অনেক। সে রাতে আর যাওয়া হলো না। সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা করে ভোরের দিকে বাসায় ফিরে এলো অভিক।


বাসায় এসে অনেকক্ষণ চুপচাপ বসে রইল। টাকা জোগাড় করতে হবে, তারপর হাসপাতাল। কিন্তু শরীরটা আর সইতে পারছিল না।


আজ প্রথমবার অভিক নিজের শরীরের কাছে হেরে গেল। দূরে কানে ভেসে আসছে পরীর হাসি। হাতে নতুন পুতুল।


অভিকের কথাগুলো শুনে আমি একদম চুপ হয়ে গেলাম। কখন যে আমার চোখ থেকে এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল অভিকের সেই ফোলা হাতের তালুতে, আমি নিজেও টের পেলাম না।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 9 মাস 2 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1109 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 22398। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4220
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


বাবার শেষ দিনগুলোর স্মৃতি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন স্মৃতিচারণ। এপ্রিল ২৭,২০২৬ আমরা প্রায়ই ভাবি সময় আমাদের হাতে। দিনগুলোকে আমরা ব্যবহার করি, পরিকল্পনা করি, সামনে এগিয়ে নিয়ে যাই। কিন্তু কিছু ক�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
66 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বাবার পুরোনো ঘড়ি    মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প। ২৭ জুন, ২০২৬   বাবার সবচেয়ে [...] বিস্তারিত পড়ুন...
12 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

বাবার পেশা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প। ১৬ জুন ১০২৬ ইন্টারভিউ বোর্ডে প্রশ্নটা খুব স্বাভাবিকভাবেই আসে। এমনভাবে, যেন এটা শুধু একটা তথ্য যাচাই। “আপনার বাবার পেশা কী?” ঘরের ভেতর তিনজন মানু�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
12 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নীরব মানুষটার শেষ সীমা   পর্ব–১০ : দোষটা কোথায় ছিল?   একটি ধারাবাহিক গল্প   লেখক: ম&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নীরব মানুষটার শেষ সীমা   পর্ব–৯ : নিয়ন্ত্রণে সুখ নেই   একটি ধারাবাহিক গল্প   লেখ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    929 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    46 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    43 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  3. Adiba jannat

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  4. মুহাম্মদ সালমান

    1 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...