Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

প্রতিদিন তিনজনের খাবার রান্না করেন

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
4 বার প্রদর্শিত
করেছেন (29,003 পয়েন্ট)   15 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

প্রতিদিন তিনজনের খাবার রান্না করেনimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

একাকিত্ব ও স্মৃতির ছোটগল্প

১৯ অক্টোবর ২০২৬


অভিক মারা যাওয়ার পরও নিশি প্রতিদিন দুজনের খাবার রান্না করত।


সকালে চাল ধোয়ার সময় এক মুঠো বেশি নিত। ডাল চড়ালে দুটো বাটি নামাত। ভাত নামানোর পর একটা থালায় খাবার বেড়ে জানালার পাশের ছোট টেবিলে রাখত। তারপর নিজের থালা নিয়ে বসত।


মিশি আর নীলা প্রথম দিকে কিছু বলত না। মায়ের পাশে বসে খেত, খাওয়া শেষে নিজেদের থালা ধুয়ে রাখত। কিন্তু একদিন মিশি দেখল, মা মাছের ঝোলের বাটিটা দ্বিতীয় থালার কাছে টেনে রাখছে।


“মা, তুমি আবার বাবার জন্য খাবার রেখেছ?”


নিশি মাছের কাঁটা বেছে নিতে নিতে বলল, “তোর বাবা ঝোল দিয়ে ভাত খেতে পছন্দ করত।”


মিশি আর কিছু বলল না।


অভিক মারা গেছে এগারো মাস আগে। শেষ কয়েকটা মাস বিছানায় শুয়ে কাটাতে হয়েছিল তাকে। নিশি নিজের হাতে খাওয়াত। ভাতের সঙ্গে মাছ মেখে ছোট ছোট লোকমা করে দিত। অভিক মাঝে মাঝে বিরক্ত হয়ে বলত, “আমি কি বাচ্চা নাকি?”


নিশি বলত, “বাচ্চাদের মতোই তো খেতে চাও।”


তখন দুজনেই হাসত।


এখন ঘরে হাসির শব্দ নেই। শুধু দুপুরে ভাতের হাঁড়ির ঢাকনা খোলার শব্দ হয়, সন্ধ্যায় ওষুধের খালি শিশিটা সরাতে গিয়ে টুং করে ওঠে, আর রাতে ঘুমানোর আগে নিশি বিছানার ডান পাশের বালিশটা একটু চাপড়ে সমান করে দেয়।


ওই পাশটা খালি থাকে।


একদিন স্কুল থেকে ফিরে নীলা দেখল, মা রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে মাছের কাঁটা বেছে রাখছে। ছোট্ট বাটিতে কাঁটাগুলো জমা হচ্ছে, আর পাশে রাখা থালায় মাছের নরম অংশ।


“মা, কাঁটা আলাদা করছ কেন?”


“তোর বাবা কাঁটা বেছে খেতে পারত না।”


নীলা চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। সে বাবাকে খুব স্পষ্ট মনে করতে পারে না। বাবার গলার স্বরও এখন মনে করতে গেলে ঝাপসা লাগে। শুধু মনে পড়ে, বাবা তাকে কাঁধে তুলে ঘরের দরজার ওপর হাত ছোঁয়াতে দিতেন। আর মিশি বলত, “আরও ওপরে, বাবা!”


নিশি মাছের টুকরোটা দ্বিতীয় থালায় রাখল।


সেদিন রাতে মিশি মায়ের ঘরে এসে বসেছিল। হাতে স্কুলের খাতা, কিন্তু পড়ছিল না। নিশি বিছানায় কাপড় ভাঁজ করছিল।


“মা, তুমি কি এখনো বাবার সঙ্গে কথা বলো?”


নিশির হাত থেমে গেল।


“কেন?”


“তুমি যখন রান্না করো, তখন মনে হয় বাবাকে বলছ—আজ কী রান্না করেছ, কী হয়নি।”


নিশি কাপড়টা ভাঁজ করে পাশে রাখল। জানালার বাইরে অন্ধকার নামছিল। সে কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, “তোর বাবা বাড়ি ফিরলে আমি সারাদিনের সব কথা বলতাম। এখন বলার মতো কথা জমে থাকে।”


মিশি মায়ের পাশে এসে বসল।


“আমাদের বলতে পারো।”


নিশি মেয়ের মাথায় হাত রাখল। তারপর আবার কাপড় ভাঁজ করতে শুরু করল।


পরদিন দুপুরে নীলা স্কুল থেকে ফিরে দেখল, মায়ের শরীর ভালো নেই। তবু রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে ভাত নামাচ্ছে। নীলা এগিয়ে গিয়ে হাঁড়ির হাতল ধরল।


“তুমি বসো, মা। আমি নামাচ্ছি।”


নিশি প্রথমে দিতে চাইল না। পরে চুপ করে সরে দাঁড়াল।


নীলা দুটো থালা নামিয়ে খাবার বেড়ে দিল। একটায় ভাত, ডাল আর আলুভর্তা। অন্যটায় ভাতের পাশে মাছের ঝোল। সে দ্বিতীয় থালাটা জানালার পাশের টেবিলে রেখে মায়ের দিকে তাকাল।


“বাবা কি এই জায়গায় বসত?”


নিশি মাথা নাড়ল।


“প্রতিদিন?”


“প্রায় প্রতিদিন। ছুটির দিনে এখানে বসে পত্রিকা পড়ত। খাওয়ার সময়ও খবরের কাগজটা পাশে রাখত।”


নীলা চেয়ারটা একটু সরিয়ে দিল। তারপর দ্বিতীয় থালার পাশে একটা গ্লাস পানি রাখল।


“বাবা পানি খেতে ভুলে যেত, তাই না?”


নিশি মেয়ের মুখের দিকে তাকাল। নীলা কথাটা বলেই যেন একটু অস্বস্তিতে পড়ে গেল। তার মনে নেই বাবা পানি খেতে ভুলতেন কি না। হয়তো মায়ের মুখে কোনো একদিন শুনেছিল।


নিশি গ্লাসটা তুলে একটু সরিয়ে রাখল।


“হ্যাঁ। মনে করিয়ে দিতে হতো।”


তারা দুজন পাশাপাশি বসে খেতে লাগল। দ্বিতীয় থালার খাবার কেউ ছুঁল না।


খাওয়া শেষে নীলা নিজের থালা ধুয়ে রেখে গেল। মিশি তখন পড়ার টেবিলে বসে ছিল। নিশি দ্বিতীয় থালাটা তুলতে গিয়ে দেখল, ভাতের পাশে মাছের কাঁটাগুলো আলাদা করে রাখা। ছোট ছোট কাঁটা, এক পাশে গুছিয়ে রাখা—ঠিক যেভাবে অভিক খেত।


নিশি থালাটা হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকল।


তারপর রান্নাঘরে গিয়ে কল খুলল।


পানি পড়তে লাগল থালার ওপর। নিশি কাঁটাগুলো ধুয়ে ফেলল, মাছের ঝোলের দাগ মুছল, তারপর থালাটা অন্যগুলোর পাশে উল্টো করে রাখল।


রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে মিশি বাবার পুরোনো ছবিটা দেয়াল থেকে নামিয়ে ধুলো মুছে আবার ঝুলিয়ে দিল। নীলা ছবির নিচে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল।


নিশি ঘরে ঢুকে দেখল, দুই মেয়ে ছবিটার দিকে তাকিয়ে আছে।


“মা,” মিশি বলল, “কাল থেকে আমরা তিনজন একসঙ্গে খাব। তুমি আর একা বসবে না।”


নিশি উত্তর দিল না। ছবির নিচে রাখা ছোট টেবিলটার দিকে তাকাল। টেবিলের ওপর দ্বিতীয় থালাটা শুকিয়ে রাখা।


পরদিন সকালে সে চাল ধুতে গিয়ে অভ্যাসবশত এক মুঠো বেশি নিয়ে ফেলেছিল। কিছুক্ষণ হাতের মধ্যে চালগুলো ধরে থাকল। তারপর সেগুলো আবার হাঁড়িতে ঢেলে দিল।


দুপুরে তিনজন একসঙ্গে খেতে বসল।


অভিকের চেয়ারটা জানালার পাশে খালি রইল।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1435 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 29003। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 5022
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
যে ছেলেটি প্রতিদিন স্কুলের সামনে দাঁড়াত মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন শিশুর জীবনসংগ্রাম[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
প্রতিদিন বিকেলে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন গদ্য কবিতা । ২১ জুন,২০২৬ প্রতিদিন বিকেলে সে [...] বিস্তারিত পড়ুন...
49 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
লেখকরা কেন নিজেদের জীবন থেকে গল্প ‘চুরি’ করেন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্ম[...] বিস্তারিত পড়ুন...
473 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
মায়ের নম্বরে রিচার্জ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন আবেগঘন ছোটগল্প। ১৯ অক্টোবর ২০২৬ মায়ে[...] বিস্তারিত পড়ুন...
9 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বাবার পুরোনো জুতো মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন আবেগঘন ছোটগল্প। ১৯ অক্টোবর ২০২৬ অফিসের অ&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1419 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    7 মন্তব্য

    69 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    126 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. জামিনুল রেজা

    83 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    82 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

...