Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

হাসপাতালের করিডোর

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
57 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,603 পয়েন্ট)   28 জুন "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

হাসপাতালের করিডোর  image

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  

ছোটগল্প। ২৭ জুন, ২০২৬  


ডাক্তারের কথাটা শুনে অভিক শুধু মাথা নাড়ল। কাঁদার সময় নেই এখন। আগে টাকার একটা ব্যবস্থা করা দরকার।  


ডাক্তার প্রেসক্রিপশনটা এগিয়ে দিলেন। “অপারেশনটা যত তাড়াতাড়ি করা যায়, তত ভালো। দেরি করলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।”  


অভিক একটু থেমে জিজ্ঞেস করল, “কত লাগবে?”  

ডাক্তার অঙ্কটা বললেন। তারপরের কথাগুলো আর কানে ঢুকল না ঠিক। কেমন ঝাপসা লাগল সব।


করিডোরে বেরিয়ে সে একটা বেঞ্চে বসে পড়ল। পাশের দেয়ালে লাগানো নোটিশে লেখা, ‘দয়া করে নীরবতা বজায় রাখুন’। নিশি এসে পাশে দাঁড়াল। “কী বললেন?”  


অভিক অনেকক্ষণ মেঝের দিকে তাকিয়ে রইল। ফ্লোরে ফিনাইলের গন্ধ, পায়ের ছাপ। তারপর বলল, “আমাদের যা আছে... তাতে কুলোবে না, মনে হয়।”  

নিশি চুপ করে রইল।


হাসপাতালের করিডোরে তখন আগের মতোই ব্যস্ততা। কেউ স্ট্রেচার ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে, চাকায় ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ। কেউ রিপোর্ট হাতে দৌড়াচ্ছে। কেউ ফোনে নিচু গলায় বলছে, “আরও টাকা লাগবে।”  

অভিকের মনে হলো, এখানে সবার মুখ আলাদা হতে পারে, কিন্তু দুশ্চিন্তাটা যেন একই রকম।


সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে সে পুরোনো একটা খাতা বের করল। মলাটটা ছিঁড়ে গেছে এক কোণায়।  

ব্যাংকে কত আছে।  

কার কাছে কত ধার।  

আর কত জোগাড় করা যাবে।  

বারবার হিসাব করল। কিছুতেই অঙ্কটা মেলে না। কলমটা রেখে খাতাটা বন্ধ করে দিল। নিশি পাশে বসে ছিল।


অভিক বলল, “আর কাউকে ফোন করব না।”  

“কেন?”  

“কতবার বলব? সবাই তো একবার না একবার সাহায্য করেছে।”  

নিশি আর কিছু বলল না। জানালার বাইরে তখন নিয়ন আলো জ্বলছে-নিভছে।


পরদিন আবার হাসপাতালে গেল তারা। বিলিং কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে অভিক বলল, “দুই দিন সময় দিলে হয়?”  


লোকটা কম্পিউটারের স্ক্রিন থেকে চোখ সরাল না। “আগে টাকা জমা দিন। তারপর তারিখ হবে।”  

অভিক ধীরে সরে এল। করিডোরের শেষ মাথায় গিয়ে দাঁড়াল। দেয়ালে একটা ঘড়ি, সেকেন্ডের কাঁটাটা টিকটিক করছে।


নিশি এসে শুধু তার হাতটা ধরল। শক্ত করে না, আলতো করে। ঠিক তখনই পাশের বেঞ্চে বসে থাকা একজন বৃদ্ধ এগিয়ে এলেন। পরনে মলিন পাঞ্জাবি, হাতে লাঠি। “বাবা, একটু শুনবে?”  

অভিক ভেবেছিল, হয়তো কোনো ওয়ার্ডের ঠিকানা জানতে চাইবেন।


বৃদ্ধ শার্টের পকেট থেকে একটা পুরোনো খাম বের করলেন। খামের কোণা ভাঁজ হয়ে গেছে, কালি একটু লেপ্টে আছে। “আমার স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য টাকা জমিয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত ওকে বাঁচাতে পারিনি। তারপর থেকে খামটা সঙ্গে রাখি। ভাবতাম, কোনো দিন হয়তো কারও দরকার হবে।”


অভিক তাড়াতাড়ি মাথা নাড়ল। “না চাচা, এটা নিতে পারব না।”


বৃদ্ধ হালকা হাসলেন। খামটা তার হাতে গুঁজে দিলেন। “সব সাহায্য আত্মীয়রা করে না বাবা। কখনো কখনো অচেনা মানুষও করে।”


কথা শেষ করে তিনি ধীরে চলে গেলেন। করিডোরের ভিড়ে মিশে গেলেন। অভিক ডাকতে গিয়েও ডাকল না। গলাটা আটকে এল একটু।


খামটা খুলে দেখল। ভেতরে খুব বেশি টাকা নেই। এই টাকায় অপারেশন হবে না, সেটা সে জানে। 


তবু তার মনে হলো, এতক্ষণ ধরে বুকের ওপর চেপে থাকা পাথরটা একটু নড়েছে। নিঃশ্বাস নিতে সামান্য সহজ লাগছে। 


নিশি খামটার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর আস্তে করে বলল, “চলো। আবার চেষ্টা করি।”  

অভিক মাথা নাড়ল।


অনেক বছর পরেও সেই খামটা সে ফেলে দিতে পারেনি। ড্রয়ারের এক কোণে পড়ে থাকে। খুললে এখনো ফিনাইলের গন্ধ পাওয়া যায়।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1366 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27603। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4160
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
সিরিজ -আমাদের না-বলা কথা। গল্প-০৮ হাসপাতালের বারান্দা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ছোট গ&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
35 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
হাসপাতালের করিডোর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   বিশ্লেষণধর্মী | ফেব্রুয়ারি ০১,২০২৬ মন[...] বিস্তারিত পড়ুন...
538 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
হাসপাতালের বিছানায় মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প | জানুয়ারি ১৬, ২০২৬ হাসপাতালের ব&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
75 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
জানালাটা খোলা থাক মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত প্রায় বার[...] বিস্তারিত পড়ুন...
26 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
কোর্টপাড়ায় একদিন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ভ্রমণকাহিনি | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সেদিন কো&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
30 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1504 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    74 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. রফিক আতা

    350 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    17 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    125 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. অমিত দত্ত দিলু

    124 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

...