Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

শেষ গল্পকথকের সন্ধানে

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
3 বার প্রদর্শিত
করেছেন (23,733 পয়েন্ট)   15 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

শেষ গল্পকথকের সন্ধানেimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্প। ২৮ জুলাই, ২০২৬


অনেক বছর পর গ্রামে ফিরে অভিকের প্রথমেই মনে হলো, গ্রামটা আছে ঠিকই, কিন্তু ভেতরে কোথাও যেন একটা ফাঁকা তৈরি হয়েছে।


রাস্তা পাকা হয়েছে, ইটের পর ইট সাজিয়ে নতুন নতুন বাড়ি উঠেছে, বাজারটাও আগের চেয়ে অনেক বড়। তবু সন্ধ্যাটা আর আগের মতো নেই। আগে এই সময়টায় প্রতিটা উঠোনে মানুষ বসত। হ্যারিকেনের আলোয় মুখ দেখা যেত, গল্প হতো, থেকে থেকে হাসির শব্দ ভেসে আসত। এখন সন্ধ্যা নামলে বেশিরভাগ বাড়ির দরজাই বন্ধ থাকে। ভেতরে আলো জ্বলে ঠিকই, কিন্তু সে আলো মানুষের মুখে পড়ে না, পড়ে মোবাইলের স্ক্রিনে।


হাঁটতে হাঁটতে অভিক এসে দাঁড়াল পুরোনো বটগাছটার নিচে।


এই গাছটার নিচেই তার কত সন্ধ্যা কেটেছে। স্কুল থেকে ফিরে ব্যাগটা কোনোমতে ঘরে ছুড়ে দিয়েই দৌড়। ততক্ষণে গাছের নিচে ভিড় জমে যেত। আর ঠিক মাঝখানে বসতেন রহিম দাদু।


মানুষটার কোনো বই ছিল না। অথচ মনে হতো, দুনিয়ার সব গল্প যেন তার বুকের ভেতর গুছিয়ে রাখা আছে।


কখনো বেহুলা-লখিন্দরের গল্প, কখনো জিন-পরির, কখনো এমন সব ঘটনা, যা শুনে গা ছমছম করত আর মনে হতো, সত্যিই কি এমন হয়েছিল?


ছোটবেলায় অত ভাবত না কেউ। গল্প ভালো লাগলেই হলো। বাড়ি ফেরার পথে সেই একই গল্প আবার নিজেদের মতো করে বদলে নিত সবাই। একজন যেখানে শেষ করত, আরেকজন সেখান থেকেই নতুন একটা জুড়ে দিত। একটা গল্প থেকে জন্ম নিত আরেকটা গল্প।


আজ সেখানে শুধু একটা ভাঙা বেঞ্চ পড়ে আছে। চারপাশ ধু-ধু ফাঁকা। পাশের চায়ের দোকানটা আছে, শুধু মুখগুলো আর চেনা নয়।


এক কাপ চা নিয়ে বেঞ্চটায় বসতেই দোকানি জিজ্ঞেস করলেন,

"নতুন আইছেন নাকি?"


অভিক হাসল।

"না, এই গ্রামেরই ছেলে। অনেক বছর বাইরে ছিলাম। আচ্ছা, রহিম দাদু কেমন আছেন, জানেন?"


লোকটা চায়ের কাপ ধুতে ধুতে একটু থামলেন। তারপর আস্তে করে বললেন,

"নাই। তিন বছর হইলো আল্লাহ নিয়া গেছে।"


অভিক আর কিছু বলতে পারল না। গরম চায়ের ধোঁয়াটা চোখের সামনে কেমন ঝাপসা লাগল।


দোকানি নিজে থেকেই বললেন,

"শেষের দিকে প্রায় রোজ আইসা বসত। কিন্তু হুনার মানুষ পাইত না। সবাই মোবাইল টিপে। একদিন আমারে কইতাছিল, আমার লগে লগে গল্পগুলাও বুঝি মইরা যাইব।"


কথাটা বুকের ভেতর কোথাও গিয়ে বিঁধল।


পরদিন সকালে অভিক গেল রহিম দাদুর বাড়িতে। টিনের ছোট ঘর, উঠোনে একটা বুড়ো আমগাছ দাঁড়িয়ে। বারান্দায় বসে ছিলেন দাদুর ছেলে।


অভিককে দেখেই তিনি চিনতে পারলেন।

"তুমি অভিক না? সবসময় সামনে বইসা গল্প শুনতা। তোমার কথা আব্বা কইতো।"


এত বছর পরও কেউ তাকে মনে রেখেছে, ভাবতেই মনটা ভালো হয়ে গেল অভিকের।


কিছুক্ষণ পর তিনি ঘর থেকে একটা পুরোনো টিনের ট্রাঙ্ক এনে খুললেন। ভেতরে কয়েকটা হলদে হয়ে যাওয়া খাতা, কিছু পুরোনো ছবি আর ছেঁড়া কাগজ।


"আব্বা মাঝে মাঝে দুই-এক লাইন লিখা রাখত। কইত, যদি কোনোদিন গলা না চলে, কাগজ দেখলে যদি মনে পড়ে।"


অভিক একটা খাতা খুলল। এক পাতায় কাঁপা হাতে লেখা,

"নদী কথা বলে, যদি কেউ মন দিয়া শোনে..."


আরেক পাতায়,

"সবচেয়ে বড় ভূত হইল মানুষের লোভ।"


অনেক পাতায় শুধু একটা লাইন, একটা শব্দ। তবু কী আশ্চর্য, ওই কয়েকটা শব্দ পড়তেই কানের কাছে পুরোনো গল্পগুলো আবার বাজতে শুরু করল। যেন বটগাছের নিচে বসে রহিম দাদু আবার বলছেন।


সেদিনই অভিক ঠিক করল, একবার চেষ্টা করে দেখবে।


পরের শুক্রবার বিকেলে গ্রামের প্রাইমারি স্কুলের বারান্দায় ছোট্ট একটা গল্পের আসর বসল। প্রথম দিন এল মাত্র ছয়জন।


একটা বাচ্চা শুরুতেই জিজ্ঞেস করল,

"আঙ্কেল, এই গল্প ইউটিউবে আছে?"


অভিক হেসে ফেলল।

"না, এই গল্প ইউটিউবে পাওয়া যায় না। এটা শুধু মুখে মুখে বেঁচে থাকে।"


তারপর সে বলতে শুরু করল রহিম দাদুর সেই নদীর গল্পটা।


শুরুতে বাচ্চাগুলো উসখুস করছিল। কিন্তু একটু পরেই একজন বলে উঠল,

"তারপর কী হইল?"


আরেকজন উঠে এসে একদম সামনে বসল।


গল্প শেষ হতেই ছয়জন একসঙ্গে চিৎকার করে উঠল,

"আরেকটা বলেন!"


সেদিন বাড়ি ফেরার পথে অভিকের মনে হচ্ছিল, রহিম দাদু ওপরে কোথাও থেকে এই দৃশ্যটা দেখছেন আর মুচকি হাসছেন।


তারপর থেকে প্রতি শুক্রবার আসর বসতে লাগল। শুধু বাচ্চারা নয়, আস্তে আস্তে বয়স্করাও আসতে শুরু করলেন। কেউ শোনালেন ছোটবেলার গল্প, কেউ শোনালেন মুক্তিযুদ্ধের সময়কার স্মৃতি, কেউ শোনালেন এমন এক লোককথা, যা কোনো বইয়েই লেখা নেই।


অভিক একটা নতুন খাতায় সব লিখে রাখতে শুরু করল।


তখন সে বুঝতে পারল, মানুষ চলে গেলে শুধু মানুষটাই হারায় না। তার সঙ্গে সঙ্গে কত স্মৃতি, কত গল্প, কত ইতিহাস যে নিঃশব্দে হারিয়ে যায়, তার কোনো হিসেব থাকে না।


একদিন এক বৃদ্ধ গল্প বলতে বলতে থেমে গেলেন। চোখ মুছে বললেন,

"অনেক দিন পর মনে হইতাছে, গ্রামে আবার আগের মতো সন্ধ্যা নামছে।"


অভিক তাকাল বটগাছটার দিকে।


গোল হয়ে বসে আছে একদল বাচ্চা। কেউ মন দিয়ে শুনছে, কেউ প্রশ্ন করছে, কেউ গল্পের শেষটা নিজের মতো করে ভেবে নিচ্ছে।


দৃশ্যটা দেখে তার নিজের ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেল।


হয়তো গল্পের নিয়মটাই এমন।


একজন বলে যায়, আরেকজন শুনে রাখে। তারপর কোনো এক সন্ধ্যায় সেই শ্রোতাই হয়ে ওঠে নতুন গল্পকথক। এভাবেই গল্প বেঁচে থাকে। গ্রামের সঙ্গে, মানুষের সঙ্গে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1175 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 23733। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4491
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি সিরিজের সিরিজের পর্যালোচনা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন আমি যখন "&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
16 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি   পর্ব–১০ : শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন "[...] বিস্তারিত পড়ুন...
16 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি   পর্ব–৯ : যে প্রশ্নের উত্তর কারও কাছে ছিল না   মোহাম্মদ জাহ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
16 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি   পর্ব–৮ : ক্ষমা চাইলেই কি সব ঠিক হয়ে যায়?   মোহাম্মদ জাহিদ হো&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
17 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি   পর্ব–৭ : যে স্বপ্নের জন্য সব হারিয়েছিল    মোহাম্মদ জাহিদ হ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
16 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    3532 পয়েন্ট

    4 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    176 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    2264 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    112 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. ফাহিম আহমাদ

    243 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    12 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    43 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

...