Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

ফাগুনের সব কেড়ে নিয়েছো

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
420 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,787 পয়েন্ট)   14 ফেব্রুয়ারি "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

ফাগুনের সব কেড়ে নিয়েছো

মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প | ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬


নিশি চা ঢালছিল। চিনি দিল না। অভিকের মতো। অভিক তো নেই। তিন বছর।


কলম হাতে নিল। কালি শুকিয়ে গেছে। অভিকের দেওয়া কলম—সেই কলম যা দিয়ে সে প্রথম চিঠি লিখেছিল। "তোমার চোখে বসন্ত লেগেছে।" নিশি রেগেছিল। এখন মনে হয়—কত ছোট বিষয় নিয়ে রাগ করা যায়। কত ছোট বিষয় মনে থেকে যায়।


কাগজে লিখল—"ফাগুনের সব কেড়ে নিয়েছো।" থামল। আর পারল না। কলম ফেলে দিল।


শেষবার কবে দেখেছিল? 

তিন বছর আগে। না, তারও আগে। আষাঢ়। বৃষ্টি। অভিক ফিরেছিল রাতে। গন্ধ ছিল—হাসপাতালের। নিশি জিজ্ঞেস করেনি। জিজ্ঞেস করলে উত্তর পেতে হবে। উত্তর ভয়ঙ্কর হতে পারে।


পরদিন অভিক চলে গিয়েছিল। চিঠি রেখে—"তুমি ভালো থেকো। দোষ দিও না।" মাঝে ফাঁকা। নাকি কালি মুছে গেছে? 

নিশি আলোতে ধরেছিল। দেখেছিল। কিছু নেই। শুধু ফাঁকা। 

ফাঁকা মানে—সব? 

নাকি কিছুই না?


তিন বছর ধরে ভেবেছে—অভিক চলে গেছে। অন্য কারো কাছে। সহজ ভাবনা। সহজে ঘৃণা করা যায়। ঘৃণা মানে—ভুলে যাওয়া। কিন্তু ভোলে নি। 

ভোলেনি কেন?


দরজায় কড়া। নিশি খোলেনি। কে আসবে? 

মা? 

প্রতিবেশী? 

কেউ নয়। কিন্তু কড়া নাড়ে। বারবার।


খুলল। দরজায় একজন মহিলা। চেনা না। না—চেনা। কোথায় দেখেছে? 

মনে পড়ছে না। 

"নিশি?"

"হ্যাঁ।"

"আমি অভিকের ডাক্তার ছিলাম।"


ডাক্তার। রোগ। কোন রোগ? 

জিজ্ঞেস করল না। হাত কাঁপছে। চা ঠান্ডা হয়ে গেছে। টেবিলে রাখল।


"অভিক মারা গেছে।"


কাপ পড়ল না। হাত কাঁপল না। নিশি শুনল। শোনা মানে—বিশ্বাস? 

না। 

বিশ্বাস মানে—ব্যথা। 

ব্যথা মানে—"কবে?"


"তিন বছর আগে। আষাঢ়ে।"


আষাঢ়। বৃষ্টি। সেই রাত। গন্ধ। হাসপাতাল। নিশি জানতো। জেনেও জানতো না। 


জানা মানে—"লিউকেমিয়া। রক্ত ক্যান্সার। বলেনি। চেয়েছিল আপনি ভাবুন—সে চলে গেছে। সহজ বিদায়।"


নিশি বলল, "আপনি কেন এলেন?"


"চিঠি।"


মহিলা খাম বের করল। নিশির নাম। অভিকের হাতের লেখা। চেনে। কিন্তু এই খাম দেখেনি।


"আষাঢ়ের আগে লিখেছিল। জানতো মরবে।"


নিশি খুলল। সাত লাইন নয়। এক পৃষ্ঠা। প্রথম লাইন—"ফাগুনের সব কেড়ে নিয়েছি।" শেষ লাইন—"স্মৃতিটুকু তোমার কেন কাড়িনি, জানো?"


জানো। প্রশ্ন। উত্তর—


"কারণ স্মৃতি ছাড়া তুমি বাঁচতে পারবে না। আর আমি চেয়েছিলাম—তুমি বাঁচো।"


পেছনের পৃষ্ঠা। "পিকনিকের রাতে হাসপাতালে ছিলাম। রক্ত দিচ্ছিলাম। নিজের জন্য। বাঁচতে চেয়েছিলাম। কিন্তু—"


লেখা শেষ। অসমাপ্ত।


মহিলা বলল, "সে চেয়েছিল আপনি ঘৃণা করুন। সহজে ভুলে যান। কিন্তু আপনি ভোলেননি।"


"কীভাবে জানেন?"


"জানি। অভিক জানতো। বলতো—নিশি ভুলবে না। ভুললে সে নিশি নয়।"


মহিলা চলে গেল। নিশি বসে আছে। চিঠি হাতে। পড়ছে। বারবার পড়ছে। "কিন্তু—" কী? 

অভিক লেখেনি। লেখা হয়নি। হয়নি মানে—


নিশি উঠল। জানালার পাশে। বাইরে ফাগুন। কৃষ্ণচূড়া ফুটেছে। কেউ তোলেনি। 

সে তুলবে? না। 

তোলা মানে—মারা। মরা মানে—

হাসল। কাঁদল না। 


হাসি মানে—

বোঝা। বোঝা মানে—অভিক তাকে বাঁচতে দিয়েছে। স্মৃতি দিয়ে। ব্যথা দিয়ে। ব্যথা মানে—


নিশি ফোন তুলল। মায়ের নম্বর ডায়ল করল। রিং হচ্ছে। একবার। দুবার।

"হ্যাঁ?"

"আমি ভালো নেই।"

মা চুপ থাকল। নিশি চুপ থাকল। চুপ মানে—

"আসো," মা বলল।

নিশি রাখল। চিঠি বুকে নিল। বেরিয়ে গেল।

ফাগুনের হাওয়া লাগল। গন্ধ—কৃষ্ণচূড়ার নয়। 

অন্য কিছুর। অভিকের নয়। নিজের। 

নিজের মানে—বাঁচা।



#ফাগুনেরসবকেড়েনিয়েছো #স্মৃতিটুকুতারকেনকাড়োনি #অভিক #নিশি #ছোটগল্প #বিদায় #বসন্ত #স্মৃতি #টুইস্ট #মানবিকগল্প #জাহিদলেখে

image

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1375 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27787। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3443
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি   পর্ব–৮ : ক্ষমা চাইলেই কি সব ঠিক হয়ে যায়?   মোহাম্মদ জাহিদ হো&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
45 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি   পর্ব–৭ : যে স্বপ্নের জন্য সব হারিয়েছিল    মোহাম্মদ জাহিদ হ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
49 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নীরব মানুষটার শেষ সীমা   পর্ব–৪ : সব দোষ কি শুধু পুরুষের?   একটি ধারাবাহিক গল্প   লে&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
53 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
যে শিশুটি সব দেখছে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোট গল্প। ১০ জুন, ২০২৬ রাতে খেতে বসেছে রি[...] বিস্তারিত পড়ুন...
227 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
 কিছু না বলা কথা।   থেকে যায় চিরকাল।  বলবো বলবো করে আর বলা হয়ে ওঠে না কখনো।  প্রিয়,  *.[...] বিস্তারিত পড়ুন...
130 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    183 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    3 মন্তব্য

    9 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    122 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. ফাহিম আহমাদ

    61 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    41 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...